প্রচলিত ১৩টি কল্প কাহিনী চমকে দেবে অাপনাকে

0
419
প্রচলিত ১৩টি কল্প কাহিনী চমকে দেবে অাপনাকে

kafi

বড় একটি কোম্পানিতে ছোট একটি জব করছি :) দেখা হলে বিস্তারিত আড্ডা হবে। ধন্যবাদ
প্রচলিত ১৩টি কল্প কাহিনী চমকে দেবে অাপনাকে

তথ্যপ্রযুক্তিতে সাধারণত ১৩টি কল্প কাহিনী প্রচলিত রয়েছে যার সঙ্গে বাস্তবতার আদৌও কোনও সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞানী এবং তথ্য প্রযুক্তিবিদরা এসব কল্প কাহিনী মোটেও বিশ্বাস করেন না।

কল্প কাহিনী প্রচলিত ১৩টি কল্প কাহিনী চমকে দেবে অাপনাকে

তথ্য প্রযুক্তিকে নিরাপদে রাখার জন্য এ খাতে যারা কাজ করছেন তারা নানা রকম কল্প কাহিনী বা মিথ বা উপাখ্যান রচনা করেছেন বটে, সেসব কিছু করা হয়েছে তাদের নিজস্ব বুদ্ধি ও পরিকল্পনায় অন্যদের বোকা বানাতে। তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ এবং নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের প্রিয় কল্পিত উপাখ্যানগুলো সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন।

কল্প কাহিনী ১: নিজের বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন রাখতে সঠিকভাবে অ্যান্টি ভাইরাস প্রয়োগ করতে হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন রাখতে অ্যান্টি ভাইরাস প্রয়োগ করে। সেটা তাদের স্বার্থেই করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষক ও অডিটর জেনারেল এ/ভি অ্যান্টি ভাইরাস ব্যবহার না করে তাহলে বিরোধী পক্ষ সব তথ্য জেনে যাবে, এতে প্রতিষ্ঠানের অপমৃত্যু ঘটতে পারে। কিন্তু এটাও প্রশ্ন সাপেক্ষ এ/ভি ভাইরাস কতটা নির্ভরযোগ্য যে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

কল্প কাহিনী ২: সরকার অত্যন্ত ক্ষমতা সম্পন্ন সাইবার অ্যাটাক সৃষ্টি করে।

স্যন্স কম্পিউটারের পরিচালক জন পেসক্যাটের মতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারের প্রোগ্রাম নষ্ট হয় বা তাৎক্ষণিক সমস্যা হয় এর পিছনে সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের নিরাপত্তার অজুহাত তুলে অনেক সময় সাইবার অ্যাটাক করে। কল্পনার ভিত্তিতেই তা করা হয়।

কল্প কাহিনী ৩: সব ধরনের গোপন তথ্য নিরাপদেই সন্নিবেশ করা হয়।

এসএসএইচ এবং সিইও কম্যুনিকেশন সিকিউরিটির পরিচালক টাটু ইয়েলেন বলেন, এটা ভুল ধারণা যে সব তথ্য গোপন রাখা হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিজের কম্পিউটারে রাখা তথ্য ভুলে যায় এবং খুব বেশি গোপন রাখে না। এসব কল্প কাহিনী দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না।

কল্প কাহিনী ৪: তথ্যপ্রযুক্তিতে নিরপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি।

তথ্যপ্রযুক্তি গবেষক রিচার্ড স্টেইনন বলেন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তদসংক্রান্ত পদক্ষেপ অবলম্বন করা কোম্পানির ম্যানেজারের নিত্য কৌশলের একটি, সেটা তিনি সঠিকভাবেই পালন করেন। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থা ব্যবস্থাপনার কৌশল অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে। এখানে কোন কল্প কাহিনী নেই।

কল্প কাহিনী ৫: তথ্য প্রচারে গোপনীয়তা বজায় রাখা জরুরি।

হোয়াইটহ্যাট সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক জেরেমি গ্রসম্যান বলেন, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি গোপন সংস্থা তথ্য প্রচারে গোপনীয়তা বজায় রাখে এবং সেটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা অবলম্বন করে থাকে। তবে এজন্য কল্প কাহিনী প্রচার করে না।

কল্প কাহিনী ৬ : কখনওই এবং কোনওভাবে প্রতারণা করার সুযোগ নেই।

র‌্যাপিড৭ এর পরিচালক এইচ. ডি. মুর বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক টার্গেট করা হয়। এ টার্গেট থেকেই শত্রুর সফটওয়্যার ধ্বংস করা হয়। বাস্তবে এমন কোনও ভিত্তি নেই।

কল্প কাহিনী ৭: যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুতের পাওয়ার লাইন এবং গ্রিড উত্তর আমেরিকান রিলায়বিলিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রণ করে, এ প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্রযুক্তির গোপন তথ্য সংরক্ষণ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুতের পাওয়ার লাইন এবং গ্রিড উত্তর আমেরিকান রিলায়বিলিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রণ করে, এ প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখে এবং দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষই জানে না কীভাবে বিদ্যুতের প্রোগ্রাম তৈরি হয়। আর তথ্য পাচার হওয়ার কোর সুযোগ নেই।

কল্প কাহিনী ৮: আমার কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত, ফলে আমি নিরাপদ।

সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ডের জেনারেল ম্যানেজার বব রুশো বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সংস্থার প্রতিটি কম্পিউটারে প্রোগ্রাম ভাইরাস মুক্ত থাকা জরুরি, প্রযুক্তির এ যুগে কখন কি ঘটে তা বলা যায় না।

কল্প কাহিনী ৯: নিরাপত্তাই প্রধান সমস্যা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ফলে অনেক তথ্যই সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে প্রেরণ করা সম্ভব হয় না। প্রকৃতপক্ষে নিরাপত্তাই হচ্ছে নিরাপত্তা কর্মকর্তার প্রধান সমস্যা।

কল্প কাহিনী ১০: কম্পিউটারের তুলনায় মোবাইল অনেক নিরাপদ।

যারা তথ্য পাচার করে তারা আজকাল ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে না। মোবাইলে ইন্টারনেট দিয়ে অতি দ্রুত তথ্য সরিয়ে ফেলে।

কল্প কাহিনী ১১: শতভাগ নিরাপদ কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা প্রয়োজন।

কম্পিউটারে বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভাইরাস মুক্ত রাখা যেমন জরুরি তেমনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিরাপদেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা প্রয়োজন।

কল্প কাহিনী ১২: নির্দিষ্ট পয়েন্টে নিরাপত্তা জরুরি।

নির্দিষ্ট কিছু কাজে এবং সরকারি গোপন সংস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিরাপত্তা প্রয়োজন এবং তা জরুরি। এটা কোনও কল্প কাহিনী নয়।

কল্প কাহিনী ১৩: সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকা জরুরি।

প্রযুক্তির কল্যাণে সারা বিশ্বের খবর দ্রুত জানা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কিছু বিষয় গোপন রাখা জরুরি। এজন্য সাইবার আক্রমণকারীকে ধ্বংস করতেই হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here