পুরস্কার পেলো ৫৮ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান (ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড)

0
244

প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রত্যয়ে শেষ হলো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় তথ্য প্রযুক্তিখাতে অবদান রাখা ৫৮ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়ার মাধ্যমে পর্দা নামলো চার দিনব্যাপী এই বর্ণ্যাঢ্য আয়োজনের।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক সংবাদ প্রকাশে জনসচেতনতা গড়ে তোলায় দৈনিক সমকাল, সেরা সাংবাদিক এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ মুন্নী সাহা, তথ্য প্রযুক্তি সাংবাদিকতায় রেডিও আমার বার্তা প্রধান আবীর হাসান, সেরা নারী উদ্যোক্তা ফারহানা এ রহমান, বিডি জবস প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর এবং অস্কার জয়ী নাফিস বিন জাফরকে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয়।

পেলো ৫৮ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেলো ৫৮ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান (ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড)

এর বাইরের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড উপলক্ষে আয়োজিত দুই বিভাগে মোট ৮ জন সেরা কোড যোদ্ধাদেরকেও পুরস্কৃত করা হয়।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘পোশাক খাতে আমারা ভালো অবস্থানে আছি। কিন্তু আমররা শুধু এই খাতের ওপর নির্ভর থাকতে পারি না। আমাদের অন্যান্য খাতও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের টার্গেট আমারা এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবো সফটওয়্যার খাতে। আমাদের গতি আরো বাড়াতে হবে। সেজন্য আমাদের অর্থনীতির গ্রোথ ১০ ভাগে নিতে হবে। আমাদের বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমারা এতোদিন অপেক্ষা করেছিলাম বড় অংকের বিনিয়োগ আসবে। আমাদের মেধার অভাব নেই। প্রয়োজন মেধার বিকাশ ঘটানো। পৃথিবীর বড় বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুগল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে মেধা। এ ধরনের বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে তোলা না, প্রয়োজন মেধার। আমাদের সেই মেধা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সিলিকন ভ্যালি খুঁজছে নতুন আইডিয়া, নতুন সম্ভাবনা। তারা খুঁজছে ভবিষ্যতের ফেসবুক, ইউটিউব কোথায়। তাই তাদের নজর বাংলাদেশের দিকে আনতে আমাদের এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যেনো আইপিওতে আসতে পারে সেজন্য উদ্যোগ নিতে আজ সকালে আলোচনা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি এমন একটি সেক্টর যেখানে টার্গেটের চেয়ে বেশি অর্জন করা সম্ভব। আর যেহেতু সেক্টরটির প্রতিনিধি তরুণ সমাজ, এই তরুণদের পক্ষে যে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ করে মুহিত বলেন, ‘তরুণদের উপস্থিতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তোমাদের বয়স আমাদের অর্ধেকও নয়। তোমরাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে। সে জন্যই তোমাদের দেখ-ভালের দায়িত্ব পলকের (আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক) হাতে। যিনি মন্ত্রিসভায় সবার মধ্যে তরুণ।’

অনুষ্ঠানে জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন শুধু আওয়ামী লীগের একার নয় সারা দেশের মানুষের। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বাংলাদেশের মানুষ। এজন্য আমার কাজ করে যাচ্ছি দিন-রাত।’

বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বলেন, ‘মেলায় অনেকগুলো সফলতা আছে। পলিসি পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রধিকার দেয়ার জন্য। মেলায় আমাদের সাহস যোগায় সরকারের সহায়তায় আমারা কীভাবে এগিয়ে যেতে পারি। দশ বছরে আমাদের লোক জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চপর্যায়ের পদে কাজ করবে।’

এসময় অন্যদের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল নির্বাহী পরিচালক এসএম আশরাফুল ইসলাম, বেসিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বাকি পুরস্কার পেলেন যারা
বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার ছাড়া নাগরিক সেবায় প্রযুক্তি ব্যবহারে সেরা পুলিশ সুপার (এসপি) হয়েছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোজাম্মেল হক। সেরা পুলিশ অফিসার (ওসি) হয়েছেন চট্টগ্রামের খুলশী থানার ওসি মাইনুল ইসলাম ভূঁইয়া। সেরা ডিজিটাল পৌরসভা ঝিনাইদহ পৌরসভা। সেরা ডিজিটাল হাসপাতাল জাতীয় কিডনি ডিজিসেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকড)। সেরা ডিজিটাল ব্যাংক ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড।

সেরা নারী উদ্যোক্তা ফারাহানা এ রহমান। জেলা প্রশাসক হিসেবে সেরা হয়েছেন ঢাকার তোফাজ্জাল হোসেন মিয়া, ফেনীর মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, কুষ্টিয়ার সৈয়দ বেলাল হোসেন, বগুড়ার মো. শফিকুর রেজা, পটুয়াখালীর অমিতাভ সরকার, সুনামগঞ্জের শেখ রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুরের আহমদ শামীম আল রাজী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে সেরা হয়েছেন ময়মনসিংহ নান্দাইলের মো. অহিদুল ইসলাম, কুমিল্লা চান্দিনার শেখ ছালেহ আহাম্মদ, যশোর অভয়নগরের সিফাত মেহনাজ, নাটোর সদরের মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, ঝালকাঠি সদরের শামীমা ফেরদৌস, মৌলভীবাজার বড়লেখারে আমিনুর রহমান, পঞ্চগড়েরের বেগম মাকসুদা বেগম সিদ্দীকা।

সেরা সহকারী কমিশনারে ঢাকা বিভাগে মো. মমিন উদ্দিন, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ধানমণ্ডি সার্কেল, ঢাকা। চট্টগ্রাম বিভাগে মো. সামিউল মাসুদ, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর সার্কেল, চট্টগ্রাম। খুলনা বিভাগে তৌহিদুজ্জামান পাভেল, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), নড়াইল সদর, নড়াইল। রাজশাহী বিভাগে মুহা. শওকাত আলী, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), পাবনা সদর। বরিশাল বিভাগে মুহাম্মদ ইব্রাহীম, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বরগুনা সদর, বরগুনা। সিলেট বিভাগে বিএম মশিউর রহমান, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বানিয়াচং, হবিগঞ্জ। রংপুর বিভাগে এস এম গোলাম কিবরিয়া, সেরা সহকারী কমিশনার (ভূমি), পীরগঞ্জ, রংপুর।

একটি উত্তর ত্যাগ