এন্ড্রয়েডে ব্যাটারি সেভিং নিয়ে মেগা টিউন (বেসিক টিপস, অ্যাপ হাইবারনেশন, সিস্টেম অ্যাপ আন-ইন্সটল, কাস্টম রম)

1
777

এন্ড্রয়েডে ব্যাটারি নিয়ে প্রায় সকলেরই মাথা ব্যাথা থাকে। কারণ এন্ড্রয়েড সিস্টেমে ব্যাটারি আনেক তারাতারি খরচ হয়। এজন্য সকলেই এই চেষ্টায় থাকেন যে কিভাবে কম ব্যাটারি খরচ করা যায়। ইন্টারনেটে এই টপিক নিয়ে আলোচনার শেষ নেই- আনেক লিখা পাবেন এই বিষয়ে। প্লে স্টোরেও ব্যাটারি সেভিং অ্যাপের অভাব নাই। অনেকে অনেক লিখাই পড়েছেন, আনেক ব্যাটারি সেভিং অ্যাপও ব্যবহার করেছেন- কিন্তু তবুও আনেকেই স্যাটিসফাইড নন।

আসলে হওারও কথা না খুব বেশি। কারণ সব ব্যাটারি সেভিং থ্রেড আর অ্যাপের মূল ভত্তি প্রায় এক-ই- ফোনের ব্রাইটনেস কমানো, স্ক্রিন টাইম-আউট ড্যুরেশন কমানো, সকল কানেক্টিভিটি পেরিফেরাল টার্ন অফ করা আর ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলো ক্লোজ করা- ইত্যাদি।
ব্যাটারি সেভিং এন্ড্রয়েডে ব্যাটারি সেভিং নিয়ে মেগা টিউন (বেসিক টিপস, অ্যাপ হাইবারনেশন, সিস্টেম অ্যাপ আন-ইন্সটল, কাস্টম রম)
 
সত্যি বলতে, এগুলোই ব্যাটারি সেভিং এর বেসিক উপায়। কোন অ্যাপ ছাড়া এই কাজ গুলো আপনারা নিজেরাই করতে পারেন। অ্যাপ শুধু এই কাজ গুলো এক ক্লিকে করে দেয়। আর বিভিন্ন অ্যাপে ইউনিক নাম দিয়ে কিছু আজব ফিচার দিয়ে রাখা হয়- বেশিরভাগই শুধু আপনাকে ম্যান্যুপুলেট করার জন্য। এগুলো খালি দেখতে আর শুনতেই সুন্দর, কাজের দিক দিয়ে আসল কাজ করে না বা করলেও খুব কম। তবু আমরা অনেকেই এগুলো ব্যবহার করি- মেন্টাল স্যাটিসফিকশন।

 
এখন আসি আসল কথায়। ব্যাটারি সেভিং এর জন্য আপনাকে আগে জানতে হবে কিভাবে ব্যাটারি দ্রুত ক্ষয় হয়, কোন কোন অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে ওপেন থেকে ব্যাটারি খরচ করতে থাকে ইত্যাদি।

 
অ্যাপ ইউসেজ- ব্যাটারি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। বিভিন্ন ব্যাটারি সেভিং অ্যাপ ফোনের সচল কিছু অ্যাপকে টেম্পোরারিলি ক্লোজ করতে পারলেও, এগুলোর বেশিরভাগই অটো-স্টার্ট হতে পারে বা কোন না কোন প্রসেস হিডেন অবস্থায় চালু রাখতে পারে। সেভিং অ্যাপ এগুলোকে আবার ক্লোজ করে বা স্টার্ট হতে বাধা দেয়। এভাবে ব্যাটারিও ইউজ হতে থাকে। আর তাছাড়াও, সেভিং অ্যাপ সিস্টেম অ্যাপ/ব্লোটওয়্যার গুলোকে সম্পূর্নভাবে ক্লোজ করতে পারেনা। এজন্য মোটামুটি একটা পারমানেন্ট (তবুও টেম্পোরারি) সল্যুশন দরকার- সেই কাজটাই করে গ্রিনিফাই।

 
সহজ কথায়- গ্রিনিফাই ফোনের বিভিন্ন অ্যাপকে (সিস্টেম/ডাউনলোডেড দুটোই) হাইবারনেশন মোডে রাখে এবং এই অ্যাপ গুলো ইউজার স্টার্টিং ছাড়া কখনই আটো-স্টার্ট হতে পারে না। এর কারণে ব্যাটারি সেভিং এর পাশাপাশি আর একটা উপকারও হয়- মেমরি সেভিং, মানে ফোন আযথা স্লো হয় না।

 আন্যান্য টাস্ক কিলার বা সিমিলার অ্যাপের সাথে গ্রিনিফাই এর কিছু বিশেষ পার্থক্য আছে। যেমনঃ

 
.: আন্যান্য অ্যাপের ‘ফ্রিজ’ ফিচারের থেকে (যেমন টাইটানিয়াম ব্যাকআপ বা রুট আন-ইন্সটলার) গ্রিনিফাইএর হাইবারনেট ফিচার বেশি প্রোডাক্টিভ। কারণ ফ্রিজ করলে সেই অ্যাপটা সম্পূর্ণ ডিজেবলড হয়ে যায়, এমনকি অ্যাপ ড্রয়ারে সেটার আইকনও থাকেনা। সেটা আবার ইউজ করতে হলে আগে ডি-ফ্রোজেন করে নিতে হয়। অপরদিকে গ্রিনিফাই দিয়ে অ্যাপকে হাইবারনেট করলে সেই অ্যাপ যখন দরকার তখন ওপেন করে ইউজ করা যায়, আর যখন ক্লোজ করা হয় তখন অটোমেটিক আবার হাইবারনেট হয়ে যায়।

.: আন্যান্য টাস্ক কিলার অ্যাপ- যেগুলো কোন অ্যাপের পেছনে সারাক্ষণ স্টার্ট-কিল খেলা খেলতে থাকে, গ্রিনিফাই সেটা করে না। এটা দিয়ে হাইবারনেট করা অ্যাপ কখনো আটো স্টার্ট হয় না যার ফলে সেটাকে কিল করার দরকারও পড়েনা। (এই কারণেই এটা দিয়ে অনেক ব্যাটারি সেভ হয় আর ফোন স্লো হয় না)

Greenify মূলত একটি Xposed Framework Module. Xposed Framework দিয়ে এটা ইউজ করলে বেস্ট রেজাল্ট পাওয়া যায়। তবে গ্রিনিফাইএর রিসেন্ট ভার্সন গুলো এন্ড্রয়েড ৪.১+ ডিভাইসে Root আর Xposed Framework ছাড়াই কাজ করতে পারে। কিন্তু এক্সপেরিমেন্টাল ফিচারগুলো ইউজ করতে এবং সিস্টেম অ্যাপ হাইবারনেট করতে Xposed Framework এর দরকার হবে।

 

এন্ড্রয়েড ইউজারদের জন্য গ্রিনিফাই একটি মাস্ট হ্যাভ অ্যাপ।  ব্যবহার করার আগে অবশ্যই গ্রিনিফাইএর সম্পূঈণ ডিটেইলস পড়ে নেবেন।

 
এবার আসি সিস্টেম অ্যাপ রিমুভ করার কথায়। আপনার সিস্টেমে এমন আনেক অ্যাপই থাকতে পারে যেগুলো আপনে কোনদিনই ব্যবহার করবেন না। এমন অ্যাপ গুলোকে রিমুভ করে দিতে পারেন। কারন এগুলো অযথা প্রসেস চালু রেখে ব্যাটারি ক্ষয় করতে পারে, ফোন স্লো করতে পারে। সিস্টেম অ্যাপ রিমুভ করতে অবশ্যই রুট একসেস দরকার। আর দরকার কোন সিস্টেম অ্যাপ রিমুভার অ্যাপ। এরকম অনেক অ্যাপ এভেইলেবল। সবগুলোর মধ্যে সম্ভবত Root Uninstaller Pro অ্যাপটা সবচেয়ে বেশি পপুলার। হওয়ারও কথা কারণ অ্যাপটি অনেক শক্তিশালি আর এতে অনেক এডভান্স কিছু অপশনও রয়েছে। কিন্তু আপনই যদি শুধু অ্যাপ রিমুভ করতে চান, এই কাজে তেমন দক্ষ নন বা প্রথম তাহলে আমি আপনাদের System App Remover Pro অ্যাপটি ব্যবহার করার কথা বলব, আমি নিজেও এটা ব্যবহার করেছি। এটার সুবিধা হল, এর ইউজার ইন্টারফেস অনেক ফ্রেন্ডলি আর সিস্টেমের কোন অ্যাপ রিমুভ করা সেফ, কোনটা রিমুভ করা উচিত হবেনা এগুলো দেখিয়ে দেয়।

 

কাস্টম রম- বিভিন্ন ডেভেলপার ফোনের পারফর্মেন্স ইম্প্রুভমেন্ট আর ব্যাটারি সেভিং এর জন্য অনেক হালকা রম রিলিজ করেন। কোন অসুবিধা না থাকলে সেগুলো ইউজ করা যেতে পারে। লাইট রম গুলো ব্যাটারি সেভিং হয়। কিন্তু কাস্টম রম আবার আনেক সময় ব্যাটারি খাদকও হয়। এমন রম গুলো এড়িয়ে চলা ভাল যদি আপনে ব্যাটারি বেশি সেভ করতে চান।

 

ব্যাটারি সেভিং এর অন্যান্য বেসিক টিপস- এগুলো খুবই কমন, সকলেই জানেনঃ

.: দরকার না হলে ফোনে 2G নেটওয়ার্ক চালু রাখুন, 3G নয়। কারণ 3G নেটওয়ার্কে ব্যাটারি দ্রুত খরচ হয়।

.: দরকার হলেই কেবল ব্লুটুথ, ডাটা কানেকশন, ওয়াই-ফাই, লোকেশন সার্ভিস, NFC, Sync ইত্যাদি অন করুন, নয়তো অফ রাখুন। কারণ এগুলো অন থাকলে প্রায় সবসময় কানেকশন সার্চ করতে থাকে, যাতে ব্যাটারি খরচ হয়।

.: ফোনের ব্রাইটনেস অযথা বাড়িয়ে রাখবেন না, যতটা পারা যায়, কমিয়ে রাখুন।

.: স্ক্রিন টাইম-আউট ড্যুরেশন কমিয়ে রাখুন।

.: দরকার না হলে ভাইব্রেশন অন করে রেখবেন না।

.: ফোনের ডিসপ্লে AMOLED হলে কালো ওয়ালপেপার/ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

.: ভাল পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ ইউজ করতে পারেন- না করলেও আসুবিধা নেই।

.: ইউজ গ্রিনিফাই

.: সোসিয়াল মিডিয়া/চ্যাট এডিকশন কমিয়ে ফেলুন বা একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন।

.: কম দরকারি অ্যাপগুলোকে Force Close করে দিন।

.: অদরকারি উইজেট রিমুভ করে দিন

.: শখের বশে মোবাইলে অযথা বেশি অ্যাপ ইন্সটল করে রাখবেন না।

.: অল্টারনেটিভ অ্যাপ- একই কাজ করে অথচ আপনার পছন্দের অ্যাপ থেকে হালকা, তাহলে সেটাই ইউজ করার চেষ্টা করুন।

.: অ্যানিমেশন ইফেক্ট বন্ধ রাখুন বা কমিয়ে দিন।

.: আপনার ফোনের সব অ্যাপগুলো সব সময় আপডেটেড রাখার চেষ্টা করুন, কিন্তু আটো আপডেট বন্ধ রাখুন।

.: নেটওয়ার্ক ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুন, আপনার যেগুলো দরকার সেই অ্যাপগুলোকেই কানেকশন পারমিশন দিন।

.: অনেকে ফোনে একই ক্যাটাগরির বা একই কাজ করে এমন ২-৩ টা করে বিভিন্ন অ্যাপ ইন্সটল করে রাখেন, আরো বেশি ভালো ফলাফলের আশায়। এটা করা একদমই বোকামি, এতে লাভ তো হয়ই না, উল্টা ক্ষতি হয় আরও।

.: অবশ্যই ফোনের সাথে দেওয়া চার্জার ব্যবহার করুন। সেটা নষ্ট হয়ে গেলে চেষ্টা করুন ভালো মানের (সম্ভব হলে ভালো ব্র্যান্ডের) চার্জার কেনার।

.: সস্তা অটো-চার্জার ব্যাবহার করবেন না, এতে ব্যাটারির স্থায়িত্ব দ্রুত কমে যায়। আলাদা ব্যাটারি চার্জিং এর জন্য ভাল কোম্পানির চার্জার পাওয়া যায়।

.: পাওয়ার ব্যাংক ইউজের ক্ষেত্রে ভালো ব্র্যান্ডের আর আপনার ব্যাটারির থেকে বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক ইউজ করা ভালো, যদিও এটা আবশ্যিক নয়।

 

এই টিপস গুলো প্রায় সব স্মার্টফোনের জন্য কমন। তবুও ব্যাটারি সেভিং আপনার ফোন এবং রম ফিচারের উপর ডিপেন্ড করবে। যেমন স্যামসাং এর ফোনগুলোতে অনেক এক্সট্রা আর ইউনিক কিছু ফিচার থাকে, যেগুলো ব্যবহার না করলে অন করে না রাখাই ভাল। আবার অনেক ফ্যাক্টরি রম (যেমন MIUI) বা কাস্টম রমে বেশ কিছু কাস্টমাইজিং আর টুইকিং ফিচার থাকে, যেগুলো ব্যাটারি বেশি খরচ করে।

 

কিছু ভাল পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ-

এতকিছু করার পর তাও আনেকে এমন একটা অ্যাপ ইউজ করতে চাইবেন। আনেকের কাছেই DU Battery Saver, Battery Doctor ইত্যাদি অ্যাপ প্রিয়। তবে আমার কাছে যেই অ্যাপটা বেশি কার্যকর বলে মনে হয়েছে সেটা হল Juice Defender. এর ইউজার ইন্টারফেস কিন্তু মোটেও খুব আহামরি নয়। খুব সিম্পল কিন্তু কাজের অ্যাপ। ট্রাই করে দেখতে পারেন। (বাকিগুলোকে আমি খারাপ বলছিনা, ওগুলোও ইউজ করতে পারেন, কারণ ঘুরেফিরে সবগুলোর কাজ তো একই)। সাথে কোন হালকা মেমরি ক্লিনিং অ্যাপ ইউজ করতে পারেন (হালকা এজন্য বললাম কারণ প্রায় সবগুলো একই কাজ করে কিন্তু ছোটগুলো কম রিসোর্স ইউজ করে)

 

সুতরাং বুঝতেই পারছেন আপনার ফোনের ব্যাটারি সেভিংটা আসলে আপনার নিজের ব্যবহার আর অবলম্বিত উপায়ের উপর নির্ভর করে। মূল কথা একটাই, ব্যাটারির ইউসেজ খুঁজে বের করা আর সেটা বন্ধ করতে বা কমিয়ে আনতে যে কাজ গুলো করা দরকার তা করা। যাদের ফোনে ব্যাটারি আর RAM কম তাদেরই এত ঝামেলা, এসব নিয়ে ভাবতে হয়। তবে এসব করার মাধ্যমেই আপনি আপনার ফোনের সর্বোচ্চ পার্ফরমেন্স পেতে পারেন। যেই অ্যাপগুলোর নাম বললাম সেগুলো অনেক পপুলার, গুগলে সার্চ দিলেই ফুল ভার্সন পেয়ে যাবেন।

 
তো আপনি আপনার ফোনে ব্যাটারি সেভ করতে কি কি পদ্ধতি / উপায় অবলম্বন করেন? আমি কি সেটা বাদ দিয়েছি? জানাবেন অবশ্যই।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ