বাংলাদেশে ইকমার্স ও এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে অজানা তথ্য

0
421

tools-for-success-logo বাংলাদেশে ইকমার্স ও এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে অজানা তথ্যবাংলাদেশে ইকমার্স ও এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে অজানা তথ্য
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ লোক ফেসবুক ব্যবহার করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৫৫ লাখ বাংলাদেশী ফেসবুক ব্যবহারকারী ফেসবুকে একটিভ থাকেন। যেখানে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি ছাড়িয়েছে এবং অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, প্রায় চারকোটি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। এক কথায় বলা যায় বাংলাদেশে ইকমার্সের ক্ষেত্রে একটি বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যদি আমরা এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি। শুধুমাত্র দেশের মোট ফেসবুক ব্যবহারকারীর শতকরা দুই শতাংশ(২%) লোকের কাছেও যদি ইকমার্সের মাধ্যমে পন্য বিক্রী করা যায় এবং তারা যদি মাসে মাত্র চারটি পন্য কেনেন তাহলেও মাসে প্রায় দশলাখ পন্য বিক্রি হবে। আর এই পরিমান পন্যের যোগান, সরবরাহ এবং এই সংক্রান্ত সার্ভিস প্রদানে এমাজনের মত কোম্পানিও হিমশিম খেয়ে যাবে। যদিও আমার এই ধারনা বর্তমানে অনেকের হাসির খোরাক যোগাবে কিন্তু অদুর ভবিষ্যতে এমনটাই হবে বলে আমি মনে করি। আমার এই ধরনের বিশ্বাসের বেশ কিছু কারন ও আছে। যেমনঃ বাংলাদেশের লোকজন অত্যন্ত মেধাবী। তারা নতুন কিছুকে খুব সহজেই গুছিয়ে নিতে পারে। প্রযুক্তির প্রতি এদেশের মানুষের প্রচন্ড টান রয়েছে।
আমার মতে যদি বাংলাদেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রতি ৪০ জনে একজন ও ইকমার্স সাইটের প্রচারনা(এফিলিয়েট মার্কেটিং)-কে নিজেদের ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহন করে তবুও দেশে প্রায় একলাখ লোক এই পেশায় আসতে পারবে এবং সেক্ষেত্রে এই খাতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাব মতে, যদি একজন ইন্টারনেট মার্কেটার বা এফিলিয়েট মার্কেটার মাসে ১০ হাজার টাকাও আয় করে তাহলে সেটা বছর শেষে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকার ইকমার্স বাজারকে নির্দেশ করে। আর এই হিসাব মোটেই অবান্তর নয়। কারন গত ইদুল ফিতরের সময় বাংলাদেশের বানিজ্যিক ব্যাংক গুলো থেকে স্বাভাবিক উত্তোলনের চেয়ে ৭০ হাজার কোটি টাকা বেশি উত্তোলন করা হয়েছে শুধুমাত্র কেনাকাটার জন্য। যার ফলে ব্যাংক গুলো পর্যন্ত নগদ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে হিমশিম খায়। তাহলে চিন্তা করে দেখতে পারেন যে সারাবছর দেশের মানুষের কেনাকাটায় কতপরিমান অর্থ ব্যয় হয়। আর সেখানে ইকমার্সের সম্ভাবনা কতটুকু পরিমান আছে।
যদিও অনেকক্ষেত্রেই আমাদের বিশাল সম্ভাবনা আছে কিন্তু আমাদের কিছু মানসিক দুর্বলতার কারনে আমরা সেই সম্ভাবনা গুলোকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারি না। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিদেশপ্রীতি বা বিদেশী পন্য/সেবার প্রতি টান। দেশে কোনধরনের বাজার সৃষ্টির বদলে আমরা বেছে নেই বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে। আমি এককথায় বিদেশী পন্য, বিদেশী প্রতিষ্ঠান, বা বিদেশী সেবাকে খারাপ বলছি না। কিন্তু যদি আমরা সেই একই পরিমান পরিশ্রম দেশের বাজারের সৃষ্টির পেছনে ব্যয় করি তাহলে তাদের চেয়ে ভাল বাজার সৃষ্টি করতে পারি। দেশের ইকমার্স খাতের এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে হয়তো আমাদের দেশেই একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। যারা নিজের পরিবার ও সমাজের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে দেশে নতুন নতুন উদ্দ্যোক্তা তৈরী হবে। তারা বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করবে। একই সাথে প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে থাকবে।

আমার সেই চিন্তাভাবনা থেকেই বাংলাদেশে দক্ষ এফিলিয়েট মার্কেটার তৈরীর জন্য ফেসবুকে একটি গ্রুপে পর্যায়ক্রমিক ভাবে এই সম্পর্কিত গাইডলাইন দিতে চেস্টা করে যাচ্ছি। যেন বাংলাদেশী যেকোন লোক এসব গাইডলাইন অনুসরন করে এফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যমে আয়ের একটি পথ খুজে পায়। যাতে করে তারা তাদের পরিবারে কিছুটা হলেও আর্থিক অবদান রাখতে পারে। একই সাথে তারা তাদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারে। আপনারা চাইলে আমাদের গ্রুপে জয়েন করতে পারেন।

আমাদের ফেসবুক গ্রুপের লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/groups/ecommerceaffiliate/
এখানে বলে রাখা ভাল আমাদের এই গ্রুপে কোনপ্রকার আর্থিক লেনদেন বা পেইড ট্রেইনিং এর ব্যাপার নেই। এটি সকলের জন্যই উন্মুক্ত। তাই আপনার যদি এই ধরনের সুযোগের দরকার নাও হয়, হয়তো আপনার পরিচিত কেউ এই ধরনের সুযোগ খুজতেছে বা আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের অনেকেই এতে উপকৃত হবে। তাই আমরা অনুরোধ করব আপনারা এই পোস্টটির সর্বোচ্চ শেয়ার করার মাধ্যমে অন্ততঃ নৈতিক দায়িত্ব পালন করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 2 =