‘‘পড়ালেখা করে যে, গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সে’’

0
559

 উদ্যোগ এবং পরির্বতন নামক একটি বই এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হবে। বইয়ের একটি অংশ টিউনার পেজের বন্ধুদের জন্য শেয়ার করলাম। বইটি আমাদের দেশের তরুন উদ্যোক্তাদের জন্য। চলুন কেমন হল পড়ে দেখি। আমরা ছোট বেলায় গুরুজনদের মুখে মুখে শুনতাম- ‘‘পড়ালেখা করে যে, গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সে’’ বাস্তবতা এখন পরিবর্তনের মুখে। তাই প্রবাদটির বাস্তব চিত্র বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ০৩ কোটি বেকার খুঁজে পায় না। দিন দিন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়ছেনা আমাদের কর্ম বাজার।
অনেক সাধনা, আর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে, কর্মের অভাবে বেকার হয়ে বসে থাকার যন্ত্রনা কত কষ্টের তা হতভাগ্য বেকররাই জানে। বেকারের স্থান কোথায়? সমাজ কিংবা রাষ্ট্র কেওই তাদের পাশে দাঁড়াতে চায় না।
সম্প্রতি বৃটিশ সাময়িকি দি ইকোনমিষ্ট এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশই বেকার। আর বেকারত্বের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৫ সালে সংখ্যা দাঁড়াবে ৬ কোটিতে (তথ্য-আর্ন্তজাতিক শ্রম সংগঠন, আইএলও)। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০১২ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২২ লাখ মানুষ শ্রম বাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু কাজ পায় মাত্র সাত লাখ।
তথ্য ভুল কিংবা সঠিক যাই হোক, আমােেদর প্রশ্ন কতজন বেকার তা নয়। প্রশ্ন হচ্ছে বেকারত্বের মুক্তি কোথায়? হ্যাঁ, মুক্তির কথাই বলছিলাম। এই বেকারদের মুক্তি হচ্ছে ন্যায় কিংবা অন্যায় কাজের মাধ্যমে অথবা হতাশাগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর সমাধিতে শেষ বিদায় নিয়ে।
মি. ” সোহেল ’’ শিক্ষিত পরিবারের মা-বাবা, ভাই-বোন-ভাবী নিয়ে তার বসবাস। তাঁর পরিবারের সকল সদস্যই চাকুরীজীবি। পরিবারের সবার ইচ্ছা সকলের মত অনুসরন কোরে মি. ‘‘ সোহেল ’’ যেন পড়া লেখার গন্ডি পেরিয়ে চাকুরী করেন। কিন্তু না, সে সকলের কথা অমান্য করে নিজের ভাল লাগাকে গুরুত্ব দিয়ে, নিজ উদ্যোগে শুর করেছেন একটি রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা। পরিবারের সকল সদস্যের মতের পক্ষে থেকে চাকুরী না করায়, সে হয়ে পড়ল সবার চোখের বালি। মি. ‘‘ সোহেল ’’ চোখের পানি মুছতে মুছতে বলতে লাগলো, আমার পরিবারে সকল সদস্য প্রায় মার্কেটে শপিং করতে আসে। কিন্তু পরিবারের কোন সদস্যই আমার রেষ্টুরেন্টে খেতে আসেনা । যে খাবার আমি আমার নিজ হাতে বানাই। আমার কাছে মেয়ের বাবারা মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না। সবাই বলে আমি নাকি হোটেল বেপারী, আর হোটেল বেপারীর কাছে মেয়ে বিয়ে দেয়া যায় না। যেখানে আমি মাসে সৎ ভাবে ৫০ হাজার টাকা আয় করি, ৭টা বেকারকে চাকুরী দিয়ে ৭ টা পরিবারের ভরণ- পোষনের ব্যবস্থা করি, সেখানে সমাজ আমাকে নিয়ে হাসে। কথাগুলো বাংলাদেশের নরসিন্দি জেলার এক তরণ উদ্যোক্তার।
উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে মামার জোর কিংবা কোটার জোর না থাকায়, চাকুরী থেকে বঞ্চিত হয়ে গলির মুখে চায়ের দোকানে বেকারত্বের সময় কাটাতে আড্ডা দিলে, সমাজ বলবে বেয়াদব অথবা আকাইম্মা। চাকুরী পেয়ে বা না পেয়ে ব্যবসায় শুরু করলে, সমাজ বলবে পড়া-শোনা করার কী দরকার ছিল? চাকুরী করলে সমাজ বলবে একটা সরকারী চাকুরী পাওয়ার চেষ্টা কর।
এখন কথা হচ্ছে, তাহলে বেকার হয়েও থাকা যাবে না, সমাজ তাকে নিবে না, দূরে গেলে পাবে না, তাহলে বেকারত্বের মুক্তি কোথায়?
মুক্তি আপনাকেই আনতে হবে। আপনার সমাজ আপনার মত এত সুন্দর ভাবে কোন কিছুই চিন্তা করেনা। হার মানা যাবে না। সমাজ আপনাকে কিছু না দিক, সমাজকে আপনি দিয়ে দেখিয়ে দিন- তুমি সমাজ ভুল, আমি ছিলাম ঠিক। রাষ্ট্র কিংবা সমাজের দিকে তাকিয়ে থাকা তরণ-তরণীদের মানায় না। অটল থাকুন, সফলতার পথে নেমে পড়ুন। একদিন ঐ সমাজ আপনাকে স্বাগত জানাবে। 

বইয়ের ফেন পেজ: https://www.facebook.com/UddyogEbongPoriborton 

একটি উত্তর ত্যাগ