আপনার প্রিয় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলটিকে আগের থেকে আরো বেশী গতিশীল করে নিন কিছু টিপস ও আপস এর সাহায্যে

0
616
বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড। আর অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী অভিযোগ করে বলেন, কেনার কিছুদিন পর থেকেই তাদের ফোন বেশ স্লো হয়ে যায়। বিশেষ করে স্বল্প র‍্যামের ফোনগুলোতেই এই সমস্যা বেশী দেখা যায়। আজ আপনাদের বেশ কিছু উপায় দেখানো হবে যার মাধ্যমে ফোন আগের থেকে বেশ ভালো গতিশীল হবে।
আপনার প্রিয় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলটিকে আগের থেকে আরো বেশী গতিশীল করে নিন কিছু টিপস ও আপস এর সাহায্যে
 
১. থার্ড পার্টি অ্যাপ লঞ্চারঃ অধিকাংশ স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম নিজেদের মত করে কাস্টোমাইজ করে নেয়। এই পরিবর্তন কারো কাছে বেশ উপকারী মনে হতে পারে, তবে এর ফলে ফোন বেশ ধীর গতির হয়ে যায়। আর আপনি যদি এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে কোন একটি অ্যাপ লঞ্চার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এর ফলে আপনার ফোনের কাস্টম ফিচার দূর হবে এবং ফোন বেশ গতিশীল হবে। নোভা লঞ্চার এক্ষেত্রে বেশ ভালো কাজ করে।
 
২. অতিরিক্ত অ্যাপ, ওয়ালপেপার এবং উইজেট রিমুভ করুনঃ আপনার ফোনে যদি বেশ অনেকগুলো অ্যাপ ইন্সটল করে থাকে, তাহলে এমনিতেই ফোন স্লো হয়ে যাবে। তাই যে সকল অ্যাপ, ওয়ালপেপার কিংবা উইজেট আপনার দরকার নেই, সেগুলো ফোন থেকে আনইন্সটল করে ফেলুন। তবে ফোনে কিছু অ্যাপ আগে থেকেই ইন্সটল করা থাকে যা ব্লোটওয়্যার নামে পরিচিত, এগুলো রিমুভ করা নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে রাখতে পারেন। ফোনে থাকা লাইভ ওয়ালপেপার আপনার ফোনের পারফর্মেন্স এবং একই সাথে চার্জ শেষ করে দিতে পারে। চাইলে এর পরিবর্তে সাধারন ওয়ালপেপার ব্যবহার করতে পারেন।
 
৩. কম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ বন্ধ করে দিনঃ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একই সাথে অনেক অ্যাপ চলতে থাকে। এর মধ্যে কোন কোন অ্যাপ আমাদের দরকার হুয়না। তাই সে সকল অ্যাপ বন্ধ করে রাখলে ফোন বেশ ফাস্ট হবে। তাছাড়া কিছু অ্যাপ সবসময় ডেটা সিঙ্ক করতে থাকে। ফলে ফোন বেশ ধীরগতির হয়ে যায়। এগুলো বন্ধ করতে Settings অপশন থেকে Apps মেন্যুতে গিয়ে Running ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আপনি চলতে থাকা অ্যাপের একটি তালিকা এবং সেগুলো কি পরিমান র‍্যাম ব্যবহার করছে, সেটা দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করে দিতে পারবেন। কোন অ্যাপ আপনার ফোনের ডেটা সিঙ্ক করছে কিনা দেখার জন্য Settings>Data usage অপশন এ যেতে হবে। এখানে গেলে দেখতে পাবেন কোন অ্যাপ সিঙ্ক করে যাচ্ছে এবং এতে কি পরিমান ডেটা খরচ হচ্ছে।
 
৪. অ্যাপ ক্যাশ পরিষ্কার রাখাঃ যেকোন অ্যাপ চলার সময় বেশ কিছু ক্যাশ ফাইল জমা করে। অনেক দিন ধরে পরিষ্কার করা না হলে এগুলোর পরিমান অনেক হয়ে যেতে পারে। যা আপনার ফোনের পারফর্মেন্স কমিয়ে দেবে। আর তাই নিয়মিতভাবে এই অদরকারী ফাইল মুছে ফেলা উচিত। এই কাজটি করতে আপনাকে যেতে হবে Settings>Apps এবং যে অ্যাপের ক্যাশ ফাইল মুছতে চান, সেটি সিলেক্ট করে ‘Clear cache’ বাটনে ক্লিক করলেই হবে। আর আপনি যদি সকল অ্যাপের ক্যাশ একসাথে মুছে ফেলতে চান, তাহলে ব্যবহার করতে পারেন ‘App Cache Cleaner’ নামক অ্যাপ।
 
৫. ফোন মেমোরি ফাঁকা রাখাঃ আপনার ফোনের বিল্ট ইন মেমোরি যদি একেবারে পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আপনার ফোন ধীরগতির হয়ে যাবে। তাই এ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে ১০-২০ শতাংশ ফোন মেমোরি খালি রাখতে পারেন। আর আপনি যদি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে সব ধরণের মিডিয়া ফাইল সেখানে স্থানান্তর করলে ভালো ফল পাবেন। ফোন মেমোরি থেকে অ্যাপ মেমোরি কার্ডে স্থানান্তর করতে Apps to SD card অ্যাপটি বেশ ভালো কাজ করে।
 
৬. ফার্মওয়্যার আপডেটঃ আপনার ফোনের জন্য যদি অফিসিয়াল ফার্মওয়্যার থাকে, তাহলে সেটি ইন্সটল করে দেখতে পারেন। কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বেশ ভালো কাজ করে। দুইভাবে এ কাজটি করতে পারেন। প্রথমত, ফোনের Settings>System>About>Software Updates থেকে চেক করে দেখতে পারেন কোন আপডেট আছে কিনা। অথবা আপনার ফোন কম্পিউটারে যুক্ত করে পিসি স্যুটের সাহায্যেও ফার্মওয়্যার আপডেট করে নিতে পারেন। তবে আপডেট করার আগে ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সব ডেটা ব্যাকআপ নিয়ে রাখতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ