ওয়েবসাইট এর স্পীড বাড়ানোর কয়েকটি মাস্টার টিপস

0
446

আজকে ওয়েবসাইট এর স্পীড বাড়ানো নিয়ে কয়েকটি কথা বলবো যা আপনার ওয়েবসাইট এর স্পীড বাড়িয়ে দিবে ১০০% গ্যারান্টি। কারন যারা একেবারে নতুন তারা ওয়েবসাইট এর স্পীড নিয়ে খুব দুশ্চিন্তাই থাকেন। যাহোক কাজের কথায় আসি।

১। সবার আগে আমি মনে করি যে বিষয় টি গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল ভালো হোস্টিং। কারন যে মাটিতে ফসল ফলাবেন সেই মাটি যদি ভালো না হয় তাহলে যতই কিছু করেন না কেন তেমন কোন ফল পাবেন না বা কোন কাজ হবে না। আমদের অনেকেই সবসময় সস্তা হোস্টিং খোঁজে। মনে রাখবেন আপনি ৫০ টাকায় ও ১ জিবি হোস্টিং পাবেন আবার ২/৩ হাজার টাকায় ও ১ জিবি হোস্টিং কিনতে পারবেন। এখন আপনি নিজেই ভাবুন কোন কোয়ালিটির হস্টিং কিনবেন।

আমি মনে করি আপনি যদি সত্যি সত্যি এই পেশায় আসতে চান তাহলে অবশ্যই ভালো মানের হোস্টিং আপনাকে কিনতে হবে। আমি অনেক বন্ধু ও এই হোস্টিং বাবসার সাথে জড়িত তাই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কথা গুলো বললাম। আবার আমার কাছে অনেক পরিচিত বা কাস্টমার আসেন যাদের কাছে কোয়ালিটির চেয়ে টাকার গুরুত্ব বেশি। তার মানে এই নয় যে আপনাকে বেশি দামে হোস্টিং কিনতে হবে। কারন অনেকে আবার নিম্নমানের হোস্টিং আপনার কাছে ভালো বলে বেশি দামে চালিয়ে দিতে পারে তাই সাবধান। কেনার আগে অবশ্যই যাচাই করে নিবেন।

আমার দেখা সবচেয়ে ভালো Domain and Hosting Company হল – GoDaddy.com, Bluehost.com, HostGator.com আপনি চোখ বন্ধ করে এদের কাছ থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে পারেন। World Class Service পাবেন গ্যারান্টি দিতে পারি। আমাদের দেশে হরেক রকমের হোস্টিং কোম্পানি দেখতে পাবেন, প্লিজ ওদের কাছ থেকে না নিয়ে সরাসরি উপরে উল্লেখিত মাদার কোম্পানি থেকেই নেয়াই ভালো। আমি দুঃখিত যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি কিন্তু বিশ্বাস করেন আমার এক্সপেরিয়াঞ্চ একটু ও ভালো না এই সশ্তা হোস্টিং গুলোর। খুবই ঝামেলাই ফেলেছিল দুইটা কোম্পানি আমাকে।

২। আপনার ওয়েবসাইট এর স্পীড বাড়াতে অবশ্যই আপনার সাইট কে কম্প্রেস করতে হবে যাতে সাইজ ছোট হয়। সাইজ ছোট হবে সাইট ততো তারাতারি লোড হবে। সাইট এর সাইজ ছোট করার একটা উপায় হল সাইটের gzip অপশনটা অন করা।এর স্পীড ওয়েবসাইট এর স্পীড বাড়ানোর কয়েকটি মাস্টার টিপস

 

৩। ক্যাশ প্লাগিন ব্যবহার করা। এটিও একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাটার। অনেক ক্যাশ প্লাগিন আছে এর মধ্যে w3 total cache & wp-super cache সবচেয়ে ভালো বলে আমি করি। আপনার যদি স্ট্যাটিক সাইট হয় মানে হল তেমন কোন পরিবর্তন করতে হয় না তাহলে বলবো wp-super cache প্লাগিন টা ব্যবহার করেন। আর যদি আপনার সাইট ব্লগ হয় তাহলে w3 total cache এইটা ব্যবহার করুন। এর কারন হল ব্লগ সাধারনত পোস্ট এ ভিউ কাউন্টার ব্যবহার করা হয় যে একটা পোস্ট কতবার পড়া হয়েছে।

আপনি যদি w3 total cache ব্যবহার করেন তাহলে এই ভিউ কাউন্টার ঠিক মতো কাজ করবে কিন্তু যদি wp-super cache ব্যবহার করেন তাহলে পোস্ট ভিউ করলে যে কাউন্টার সংখ্যা এক এক করে বাড়বে সেটা বাড়ে না। এর কারন হল এই প্লাগিন আপনার সাইট এর প্রতিটি পেজ বা পোস্ট কে একটা এইচটিএমএল পেজ বানিএ এ ফেলে ফলে নতুন কোন পোস্ট পাবলিশ বা ক্যাশ ডিলিট না করলে এর সংখ্যা বারে না। তবে কোন পোস্ট পাবলিশ বা ক্যাশ ডিলিট করলে একবারে বাড়ে।

৪। সিএসএস এবং জাভা স্ক্রিপ্ট ফাইল গুলো কম্প্রেস এবং মিনিফাই করে ব্যবহার করা। এই কাজটি ম্যানুয়ালি করলে সবচেয়ে ভালো হয়। গুগলে সার্চ দিলে অনেক সাইট পাবেন যেখানে আপনার সিএসএস এবং জাভা স্ক্রিপ্ট ফাইল Minify এবং Compress করতে পারবেন।

৫। যত পারেন HTTP request সংখ্যা হ্রাস এর চেষ্টা করুন। কারণ প্রতিটি HTTP request এর সাথে নতুন নতুন কানেকশন বা সেশন যুক্ত থাকে।

৬। যে ছবি গুলো আপলোড করবেন সেগুলো আগেই অপ্টিমাইজ করে নিতে পারেন। এর জন্য অনেক টুলস এবং সাইট আছে তবে আপনি ফটোশপ ব্যবহার করতে পারেন। এটা অনেক ভালো। তবে ব্লগ সাইট হলে তো এটা সম্ভব না তাই অনেক প্লাগিন আছে যেটা কোন ছবি আপলোড এর সময় সাইজ অনেক কমিয়ে দেয় অটোমেটিক ভাবে। যেমন, Smush.it, Pngcrush এবং Imagemagick অন্যতম।

৭। Style sheets (স্টাইল সীট) সবসময় হেডার এ এবং স্ক্রিপ্ট ফাইল সবসময় ফুটার এ রাখার চেষ্টা করা। এর উপর সাইট এর স্পীড অনেক খানি নির্ভর করে।

৮। কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (CDN) ব্যাবহারের চেষ্টা করা এতে সাইট এর স্পীড অনেক বেড়ে যায়। তবে এটা সবার পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

৯। অ্যাপ্লিকেশান এর সাথে ডাটাবেস এর কানেকশান ভালো ভাবে ওপেন এবং ক্লোজ করা।

১০। যদি ওয়ার্ডপ্রেসের সাইট হয় তাহলে উল্টা পাল্টা প্লাগইন ব্যাবহার না করা। প্লাগইন ব্যাবহারের আগে ঐ প্লাগইন সম্পর্কে কমেন্ট পড়ে নিতে পারেন।

আরও অনেক ব্যাপার আছে তবে আপনি যদি উপরের গুলো ও করতে পারেন আশা করা যায় আপনার সাইট এর স্পীড নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না।

একটি উত্তর ত্যাগ