পৃথিবীর ১০টি বিচিত্র লাইব্রেরির সন্ধান

0
399
বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু কে? এমন প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বই’র কথাই বলবে। অনেক মনিষির মতে একমাত্র বই মানুষকে আলোর পথ দেখাতে পারে। আর সেই বই বিতরণের প্রতিষ্ঠানের নাম লাইব্রেরি। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে নানা রকম কিওস্ক স্টাইলের লাইব্রেরি। ধরন আলাদা হলেও উদ্দেশ্য একটাই। মানুষকে আরো বেশি করে বই পড়তে উৎসাহ দেয়া। তেমনই ১০টি বিচিত্র লাইব্রেরির সন্ধান রইল এখানে।
বিচিত্র লাইব্রেরির সন্ধান পৃথিবীর ১০টি বিচিত্র লাইব্রেরির সন্ধান

ওয়েপন অফ মাস ইনস্ট্রাকশন-আর্জেন্টিনা
এক সময়ে যুদ্ধে ব্যবহার করা হলেও রাউল লেমেসঅফ সেটিকে বদলে ফেলে করেছেন এই অভিনব লাইব্রেরিটি। ১৯৭৯ সালের একটি ফোর্ড ফ্যালকনকে পরিবর্তিত করা হয়েছে বুক ট্যাঙ্কে। বহু মানুষ ব্যক্তিগতভাবে এই লাইব্রেরিতে বই ডোনেট করেছেন। পথচারীরা যেতে আসতে এখান থেকে বই নিয়ে পড়তে পারেন।
sites.google.com/site/armadeinstruccionmasiva/

বুকইয়ার্ড
বেলজিয়ামের ঘেন্টে সেন্ট পিটার্স অ্যাবি ভিনিয়ার্ডে ইতালিয়ান শিল্পী মাসিমো বার্তোলিনি এই লাইব্রেরিটি তৈরি করেছেন। ২০১২ সালে বেলজিয়ান আর্ট ফেস্টিভাল উপলক্ষে এই লাইব্রেরিটি বানানো হয়।
http://inhabitat.com

ওপেন এয়ার লাইব্রেরি
এই লাইব্রেরির দেখা পাওয়া যাবে জার্মানির ম্যাজবার্গে। ২০০৫ সালে কারো (কঅজঙ) নামে একটি দল উদ্যোগ নিয়ে এই লাইব্রেরিটি বানিয়েছে। মনোরম পরিবেশে বসে পছন্দমতো বই পড়তে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
http://www.gizmodo.com.au

লিটল ফ্রি লাইব্রেরি
এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর ২০টি দেশে এবং মার্কিন মুলুকের ৪০টি রাজ্যে দেখতে পাওয়া যায় এই লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরি প্রথম বানান হাডসনৃ-এর টোড বোল তার মা-র স্মৃতির উদ্দেশ্যে। টোডের মা এক জন শিক্ষিকা ছিলেন এবং বই পোকা ছিলেন। শুধু তাই না, অন্যকেও বই পড়াতে ভালোবাসতেন। তাই তার মৃত্যুর পরে টোড একটি ওয়াটারপ্রুফ বক্স বানিয়ে তার মধ্যে বেশ কয়েকটি বই ভরে রেখে দেন বাড়ির বাইরে। সেই থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই লিটল ফ্রি লাইব্রেরির কনসেপ্ট।
http://www.littlefreelibrary.org

লেভিনস্কি গার্ডেন লাইব্রেরি
ইজরাইলের তেল আভিভে দেখা পাওয়া যায় এই লাইব্রেরির। লেভিনস্কি উদ্যানে তৈরি এই লাইব্রেরিটি যৌথভাবে বানিয়েছেন আর্টিম এবং ইয়োভ মেইরি আর্কিটেক্ট। এই লাইব্রেরিতে কোনও দেওয়াল বা দরজা নেই। এবং বইয়ের তাকগুলিতে লাগানো আছে উজ্জ্বল আলো যাতে রাতেও বই ব্রাউজ করতে কোনো অসুবিধে না হয়। ১৪টি ভাষায় প্রায় ৩,৫০০ বই আছে এখানে।
http://www.designingfortomorrow.org

ফোন বক্স লাইব্রেরি
বৃটেনে ২০০৯ সাল থেকে চালু হয়েছে এই অভিনব লাইব্রেরি। বাতিল হয়ে যাওয়া ফোন কিওস্ক দিয়েই তৈরি হয়েছে এই লাইব্রেরি।
http://inhabitat.com

পার্ক লাইব্রেরি
বোগোতা কোলোম্বিয়ায় সর্ব শিক্ষা অভিযানের একটি অঙ্গ হিসেবে তৈরি হয়েছিল এই লাইব্রেরি। প্রতিটি স্ট্যান্ডে একজন করে স্বেচ্ছা সেবক থাকেন যিনি সপ্তাহে ১২ ঘন্টা কাজ করেন এখানে।
http://www.bilinguallibrarian.com

দ্য উনি
নিউ ইয়র্ক সিটি এবং আলমাতি-তে দেখা মিলবে এই অভিনব লাইব্রেরির। শহরের যে কোনও ফাঁকা জায়গাকে মুহূর্তের মধ্যে অস্থায়ী পাঠাগারে পরিবর্তিত করা হয়। সহজেই যাতে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া যায় এই চলমান পাঠাগারকে, সেই চিন্তাভাবনাতেই জন্ম হয়েছিল এই লাইব্রেরির। এর স্রষ্টা বস্টনের স্যাম এবং লেজলি দাভোল।
http://www.theuniproject.org

ইকিয়া বুন্দি বিচ আউটডোর বুককেস
যদিও মাত্র একদিনের জন্যে তৈরি করা হয়েছিল এই লাইব্রেরি, তবে নিঃসন্দেহে তা ছিল এক অভিনব প্রচেষ্টা। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত বুন্দি বিচ-এ ওকঊঅ উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল এই অস্থায়ী লাইব্রেরি। ৩০টি বুককেস ছিল হাজারও বই। বইপোকারা র‌্যাক থেকে ইচ্ছে মতো বই তুলে নিতে পারেন, কিন্তু শর্ত একটাই তার পরিবর্তে নিজেদের সংগ্রহ থেকে রেখে যেতে হবে একটি বই। কিংবা একটি স্বর্ণ মুদ্রাও ডোনেট করতে পারেন! এই সব দান গিয়েছিল দ্য অস্ট্রেলিয়ান লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি ফাউন্ডেশনে।

পাবলিক বুকশেলফ
জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে এই লাইব্রেরি। বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যাক্তিগত অনুদানে তৈরি হয়েছে বিনামূল্যের এই লাইব্রেরি। এর দেখভাল করেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। এক একটি বুক শেল্ফে প্রায় ২০০ বই থাকে। সব বই উল্টে পাল্টে দেখতেই লেগে যায় ৬ সপ্তাহ।

LEAVE A REPLY

nine + sixteen =