আধিপত্য বিস্তার করবে কম দামের স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট

0
328

২০১৮ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান স্মার্টফোনের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করবে ১০০ ডলারের কম দামের স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার। এ সময়ে ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ কম্পিউটারের পরিবর্তে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য স্মার্টফোন ডিভাইস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ হয়ে উঠবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর টেলিকম এশিয়া।

গার্টনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সাল নাগাদ ৭৫ শতাংশ স্মার্টফোন ক্রেতাকে একটি ডিভাইসের জন্য ১০০ ডলারের কম মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ক্রমবর্ধমান উদীয়মান বাজারগুলো সাশ্রয়ী দামের স্মার্টফোন বিক্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে। ২০১৮ সাল নাগাদ ৭৮ শতাংশ স্মার্টফোনই বিক্রি হবে বিশ্বব্যাপী উদীয়মান বাজারগুলোয়। এছাড়া চলতি বছর শেষে স্মার্টফোনের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মাত্র ৩৫ ডলারের ভর্তুকিহীন স্মার্টফোন প্রথমবারের মতো বাজারে উন্মুক্ত করা হতে পারে। এছাড়া আগামী বছরের মাঝামাঝিতেই ৭৮ ডলারের মধ্যে স্মার্টফোন ডিভাইস ও ২৫ ডলারের মধ্যে ফিচার ফোন পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে গার্টনারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান বেকার জানান, ব্যবহারের দিক থেকে দামি স্মার্টফোন ডিভাইসগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক কম দামের ডিভাইসের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। যার কারণে উদীয়মান বাজারগুলোয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে সাশ্রয়ী ডিভাইসের চাহিদা। এছাড়া দামি ডিভাইসের সঙ্গে কম দামের ফিচারের মধ্যেও তেমন একটা পার্থক্য নেই। ফলে সাশ্রয়ী দামের স্মার্টফোনে সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় দামি ডিভাইসগুলোর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন গ্রাহকরা। এত করে আর্থিকভাবে বাজারের দখল হারানোর হুমকিতে রয়েছে স্যামসাং ও অ্যাপলের মতো ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে ডিভাইস উত্পাদন ও সরবরাহে বিশ্বের এক নম্বর প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্বের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রতিষ্ঠানটি তাদের শীর্ষস্থান হারিয়েছে। এর মধ্যে স্যামসাংয়ের কৌশলগত বাজার চীন অন্যতম। দেশটিতে স্মার্টফোন সরবরাহে স্যামসাংকে হটিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান জিয়াওমি। সমগ্র বিশ্বে বেশকিছু বাজার রয়েছে, যেগুলো স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া অন্যতম। বিপুল জনসংখ্যার কারণে এ দেশগুলোর গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অন্যান্য বাজারের তুলনায় একটু বেশিই। কিন্তু এ বাজারগুলোয়ও সম্প্রতি নিজেদের আধিপত্য হারাতে বসেছে স্যামসাং। প্রতিষ্ঠানটির গত দুই প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে। ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হলেও সম্প্রতি স্মার্টফোনের ওপরই বেশি নির্ভর করছে স্যামসাং। এ কারণে তাদের স্মার্টফোনের বাজার হ্রাস পাওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে তাদের আয়ে। গত প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নপর্যায়ে পৌঁছেছে প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত মুনাফার পরিমাণ।

এদিকে ২০১৮ সাল নাগাদ পরিধানযোগ্য পণ্যের বাজার উল্লেখযোগ্য হারে প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন গার্টনারের ভাইস প্রেসিডেন্ট

ভ্যান বেকার।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 − 4 =