দুনিয়া কাঁপানো ডিজিটাল চুরিগুলো এক নজরে (ডিজিটাল চোরের নাম হ্যাকার)

0
499

প্রযুক্তির দুনিয়ায় ডিজিটাল চোরের নাম হ্যাকার। আড়ালে আবডালে তথ্য চুরি করে ফাঁস করে দেওয়া থেকে শুরু করে অন্যের নেটওয়ার্ক জবরদখল করে ফেলাই ওদের কাজ।

কাঁপানো ডিজিটাল চুরিগুলো দুনিয়া কাঁপানো ডিজিটাল চুরিগুলো এক নজরে (ডিজিটাল চোরের নাম হ্যাকার)

এর মাঝে আবার কেউ আছে সিঁধেল চোর, কেউ আছে রবিন হুডের মতো জনদরদি দস্যু। তবে মাঝে মাঝে হ্যাকিংয়ের প্রভাব এতটাই মারাত্মক হয় যে সারা দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। এমনই কিছু হ্যাকিংয়ের গল্প শোনা যাক এবার।

আইক্লাউডের আতঙ্ক

আতঙ্কের নাম অরিজিনাল গাই। সেলিব্রেটিদের জন্য সাক্ষাৎ আতঙ্ক। এই ছদ্মনামের আইডিটি দিয়েই হ্যাক করা হয় আইক্লাউড। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে অনেক সেলিব্রেটির ব্যক্তিগত এমনকি নগ্ন ছবিও। আইডিটা কোনও ব্যক্তি নাকি কোনও গোষ্ঠীর তাও বের করতে পারেনি গোয়েন্দারা। শুধু জানা গেছে ইন্টারনেটের অন্ধকার জগতে এই হ্যাকারের আছে অবাধ আনাগোনা।

সনি পিকচার হ্যাক

ঘটনা গত মাসের। হ্যাক হয়ে গেল বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক প্রতিষ্ঠান সনি পিকচার্সের নেটওয়ার্ক। তাদের ধারণা এ হামলার উৎপত্তি উত্তর কোরিয়ায়। পুরো সনির নেটওয়ার্ক দখল করে নেয় হ্যাকাররা। কপি করে নেয় টেরাবাইটেরও বেশি তথ্য। এমনকি স্ক্রিনে ভেসে আসা বার্তায় রয়েছে স্পষ্ট হুমকি।

কাঁপানো ডিজিটাল চুরিগুলো2 দুনিয়া কাঁপানো ডিজিটাল চুরিগুলো এক নজরে (ডিজিটাল চোরের নাম হ্যাকার)

কথামতো কাজ না করলে সব তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আর ধারণা করা হচ্ছে এ সাইবার হামলার মূলে রয়েছে ‘দ্য ইন্টারভিউ’ নামের একটি কমেডি সিনেমা। যাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে হত্যা করার পরিকল্পনা নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়েছে। হ্যাকিংয়ের ফল এতটাই ভয়ানক ছিল যে সনি পিকচার্সের কর্মীদের বেশ কিছুদিন কাগজ-কলম নিয়ে পুরনো ধাঁচে অফিসের কাজ করতে হয়েছিল।

দ্য ম্যাক্স হেডরুম ঘটনা

১৯৮৭ সালের ২২ নভেম্বর। জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ড. হু’র একটি পর্ব চলছিল ডাব্লিউটিটিডাব্লিউ-১১ নামের একটি চ্যানেলে। হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যায় অনুষ্ঠান। তার বদলে পর্দায় ভেসে ওঠে মুখোশ পরা এক লোকের ছবি।

সম্প্রচার প্রযুক্তির ওপর দারুণ দখল থাকা ওই হ্যাকার মুহূর্তে বোকা বানিয়ে দেন সবাইকে। এফবিআই পরে অনেক খুঁজেও হ্যাকারের সন্ধান পায়নি।

নাসায় হ্যাক

১৯৮৯ সালের ১৬ অক্টোবর। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার বিজ্ঞানীরা তাদের কম্পিউটার অন করতেই ভেসে উঠলো একটা বার্তা। “তোমাদের কম্পিউটার আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াংকড করা হয়েছে। তোমরা সবসময় শান্তির কথা বলো, তারপর যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও।”

ওয়াংক-এর পুরো মানে হলো ওয়ার্মস এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার কিলারস। পরমাণু শক্তিবিরোধী এই হ্যাকার গ্রুপটির কর্মকাণ্ডকে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বিশ্বের প্রথম হ্যাক্টিভিজম হিসেবে উল্লেখ করেন। এদের ভাইরাসটি নাসার সমস্ত নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়েছিল। সরাসরি কোনও শাটলে আঘাত না করলেও এটা দূর করতে গলদঘর্ম হতে হয়েছিল নাসাকে।

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন হ্যাক

কপালপোড়া এই এয়ারলাইনও হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে এবং সেটা ঘটেছে ফ্লাইট এমএইচ ৩৭০ নিখোঁজ হওয়ার দিনই। ওই ফ্লাইটের সঙ্গে জড়িত সব কর্মকর্তার ইমেইল ও কম্পিউটার হ্যাক করেছে হ্যাকাররা।

৮ মার্চ বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পরই ওই ফ্লাইটের অনেক গোপনীয় তথ্য মুছে যায়। ধারণা করা হয় ওই তথ্যগুলো চীনের কোথাও পাঠানো হয়েছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ