জীবনের নানান প্রকার হতাশাকে দূরে রাখার ১০টি উপায়

0
428

ভালোবাসা হারানো, কর্মজীবনে ব্যর্থতা, পরিবারে অশান্তি, নিজেকে নিয়ে অতৃপ্ত, প্রিয়জনের মৃত্যু, আর্থিক দুরবস্থা, বেকারত্ব… ইত্যাদি শতেক কারণ আছে হতাশ হবার বা নিরাশায় আক্রান্ত হবার। প্রতিটি মানুষের কাছেই তার নিজের কারণটি গুরুত্বপূর্ণ, কেননা একমাত্র তিনিই জানেন যে কি ভীষণ কষ্টের মাঝে তাঁকে চলতে হচ্ছে পথ। তবু বলি, হতাশ হলে কি চলবে? মানুষ আশা করে বলেই স্বপ্ন দেখে, আর স্বপ্ন দেখে বলেই সেটাকে সত্য করার জন্য এগিয়ে যায়। এর এগিয়ে যেতে যেতেই একদিন স্পর্শ করে ফেলে নিজের লক্ষ্য। কিন্তু যদি এখনই আপনি হতাশ হয়ে যান, তাহলে কি করে স্পর্শ করবেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যকে? আর কি করেই বা বেঁচে থাকবেন? কেননা হতাশা সেই বস্তু যা মানুষের জীবনীশক্তি নিংড়ে বের করে নেয়।

জীবনে গোলকধাঁধায় যারা হারিয়ে গিয়েছেন, ডুবে যাচ্ছেন হতাশার অন্ধকারে… এই পরামর্শ গুলো তাঁদের জন্য। একটু পড়ে দেখুন, হয়তো আপনার কোনও কাজে আসতেও পারে।

দূরে রাখার ১০টি উপায় জীবনের নানান প্রকার হতাশাকে দূরে রাখার ১০টি উপায়

১)অনুভব করতে চেষ্টা করুন নিজের মূল্য-

নিজের চারপাশে তাকান, একটি পরিবার আছে আপনার। যাদের পরিবার নেই তাঁদের নিশ্চয়ই আছে বন্ধুবান্ধব বা একান্ত আপন জন। আপনার অবস্থা যেমনই হোক না কেন, জীবনে কোথাও না কোথাও কয়েকজন মানুষ এমন নিশ্চয়ই আছেন যারা আপনাকে ভালোবাসেন। তাঁরা ভালবাসেন আপনাকে, কারণ তাঁদের কাছে আপনি মূল্যবান। জীবনে যত খারাপ ঘটনাই ঘটুক না কেন, এই মানুষ গুলো সবসময় আপনাকে ভালোবাসবে। তাঁদের ভালোবাসা পাবার জন্য আপনাকে আহামরি কিছু হতে হবে না কখনোই। একবার ভাবুন তো, এটা কি জীবনের বিশাল এক অর্জন নয়?

২)খুঁজে নিন নতুন সূচনার সাহস-

জীবনে যতই অন্ধকার আসুক, যতই প্রতিকূলতা আসুক না কেন নতুন করে সূচনা করতেই হবে। কেননা নতুন সূচনা না করলে আপনার জীবনের বর্তমান দুরবস্থা কাটবে না কিছুতেই। মনের মাঝে যতই হতাশার অন্ধকার জমে থাকুক নে কেন, নিজের অতীতের সফলতাগুলো থেকে খুঁজে নিন নতুন করে শুরু করবার সূচনা। আর একবার যখন নতুন সূচনা হয়ে যাবে, দেখবেন মনের হতাশাও আস্তে আস্তে কমে যেতে শুরু করেছে।

৩)নেশা এড়িয়ে চলুন-

হতাশাগ্রস্থ মানুষ খুব সহজেই নেশার দিকে আকৃষ্ট হয়ে পরেন। সিগারেট, মদ ছাড়াও আরও নানান রকম নেশা জাতীয় দ্রব্য তাঁদেরকে আকর্ষণ করতে পারে, কেননা নেশার জগতে তাঁরা হতাশা ভুলে যেতে পারেন বলে মনে হয়। এই ভুলে যাওয়া কিন্তু সাময়িক। হতাশার অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে যে নেশার দিকে ঝুঁকছেন আপনি, সেই নেশাই আপনাকে আরও ঠেলে দিবে আজীবনের হতাশায়।

৪)সময়কে সুযোগ দিন ক্ষত পূরণের-

কেন হতাশ হয়ে পরেছেন আপনি? ছেড়ে চলে গিয়েছে আপন মানুষটি? চাকরি চলে গেছে? জীবনের কোনও দিকে সফলতা খুঁজে পাচ্ছেন না?… হয়তো থাকতে পারে আরও অনেক কারণ। কিন্তু কারণ যাই হোক না কেন, নিজের মনকে একটু সময় দিন ক্ষত পূরণের জন্য। সময় সকল কষ্টকে ফিকে করে রাখার ক্ষমতা রাখে। নিজেকে একটু সময় দিন, আজ যে কারণটা ভীষণ বড় মনে হচ্ছে… কিছুদিন পর সেটা নাও হতে পারে।

৫)ক্ষমা করুন-

আমরা হতাশ কখন হই? যখন কোনও একটা কারণে আমাদের মনের আশা পূরণ হয় না, জীবন আমাদের পরিকল্পনা মাফিক চলে না। আর যদি তার পেছনে কোনও মানুষের হাত থেকে থাকে, চেষ্টা করুন তাঁকে ক্ষমা করার। কেননা যতদিন তাদের ক্ষমা করতে পারবেন না, ততদিন পর্যন্ত আপনার মন মুক্ত হবে না অতীতের অন্ধকার থেকে। আর তা না হলে মুক্তি মিলবে না হতাশা থেকেও।

৬)আনুন পরিবর্তন-

আহামরি কিছু নয়, নিজের জীবনে বা আশে পাশের পৃথিবীতে আনুন ছোট্ট কিছু পরিবর্তন। কতই না বদ অভ্যাস থাকে আমাদের। অহেতুক রাগারাগি করা, অন্যের গীবত করা,মিথ্যা বলা ইত্যাদি কত শত বদ অভ্যাসই না আছে আমাদের। নিজের বদ অভ্যাস গুলোকে ত্যাগ করার চেষ্টা করুন, নিজের পরিবার বা আশেপাশে কোনও কিছু পরিবর্তন যোগ্য হলে সেটা করার চেষ্টা করুন। যখন সফল হবেন, দেখবেন নিজের মাঝে হতাশার অন্ধকার কমতে শুরু করেছে।

৭)করুন অন্যের উপকার-

ভালো কাজ বা সৎ কাজ মানুষের মনে অন্য রকম একটা সাহসের সঞ্চার করে, আর সাহসী মানুষ কখনো হতাশায় ডুবে যান না। চেষ্টা করুন প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করতে। কারো উপকার করুন বিনা স্বার্থে, কারো দিকে বাড়িয়ে দিন সাহায্যের হাত। যোগ দিতে পারেন কোনও চ্যারিটি কর্মকাণ্ডেও। অন্য কাউকে সাহায্য করার ক্ষমতা আছে আপনার, এই বোধটি দেখবেন কি ভীষণ শক্তি যোগাবে আপনার মাঝে।

8)বিশ্বাস রাখুন মানবিক সম্পর্কে-

নিজের মানবিক সম্পর্ক গুলোর ওপরে নির্ভর করতে শিখুন। পরিবার, বন্ধু বান্ধব, আপন জনদের সাথে যে আবেগ ও সামাজিকতার বন্ধনে আপনি আবদ্ধ, সেটাকে কখনো খাটো করে দেখবেন না। এমনকি যদি কোনও সম্পর্কের কারণেই আপনার বর্তমান এই হতাশা এসে থাকে, তবুও বিশ্বাস হারাবেন না অন্য সম্পর্ক গুলোর প্রতি। একটি সম্পর্ক আপনাকে কষ্ট দিয়েছে বলে সকল সম্পর্ক দিবে, এটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

৯)নিজেকে যথেষ্ট ভাবতে শিখুন-

কোনও কারণে বা কারো কারণে নিজেকে ছোট ভাববেন না। পৃথিবীতে সকল মানুষের কাছে সব কিছু থাকবে না, আর এটাই স্বাভাবিক। সকলের চোখ ধাঁধানো রূপ থাকবে না, বিশাল অর্থ বিত্ত বা সুনাম থাকবে না। প্রতিটি মানুষের নিজের একটি অবস্থান আছে জগতের বুকে, আর এই অবস্থানে প্রতি মানুষই বিশেষ। নিজেকে কখনো অন্য কারো সাথে তুলনা করতে যাবেন না। বরং যেমন আছেন আপনি, নিজেকে তেমনই যথেষ্ট ভেবে নিন।

১০)বিশ্বাস রাখুন জীবনের ওপর-

লক্ষ্য করে দেখবেন, বিপদ দেখতে যত বড় বড় আসলে ততটা হয়না। বেশির ভাগ সময়েই আমাদের অতি আশংকা বিপদকে বিশাল বানিয়ে ফেলে। হতাশার ক্ষেত্রেও কিন্তু তাই। যত আপনি নিজেকে আর নিজের জীবনকে খারাপ আর কুৎসিত মনে করবেন, ততই বাড়তে থাকবে আপনার হতাশা। নিজেকে বা জীবনকে গালমন্দ করে বা আস্থা হারিয়ে আপনি কিছুই পাবেন না। বরং চেষ্টা করুন বিশ্বাসটা ধরে রাখতে। জীবন সকল দুঃসময় কখনো না কখনো কাটিয়ে ওঠে। আপনার ক্ষেত্রেও উঠবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen + 8 =