ফ্রিল্যান্সারদের তথ্য জানতে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ঢাকায়

0
309
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা কর্মক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা অব্যাহত রেখেছেন। ফলে বহির্বিশ্বের গণমাধ্যম এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের স্বল্প রিসোর্সে ফ্রিল্যান্সারদের অভাবনীয় অর্জন নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একজন নারী সাংবাদিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ইল্যান্স-ওডেস্কের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর মামুন খান।
ওই নারী সাংবাদিকদের কাছে বাংলাদেশে কোন কোন ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সাররা ভালো করছেন তার একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। গত বছর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড অনুষ্ঠানের সময় তিনি এসব তথ্যের একটি সংকলন করেন।
 
তিনি জানিয়েছেন, ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা ইল্যান্স-ওডেস্ক থেকে ৫ কোটি ৩২ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৯ ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে লেখালেখি এবং আইটি এবং প্রোগ্রামিংয়ে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৬২ হাজার ২২৭ ডলার, এডমিন সাপোর্টে ৭১ লাখ ১৪ হাজার ৫১০ ডলার, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ে ৫৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯০৯ ডলার, ডিজাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়াতে ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩২৮ ডলার, অনুবাদে আয় করেছে ২৩ লাখ ২ হাজার ২৩০ ডলার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে ৮ লাখ ৭০ হাজার ২৩২ ডলার, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫১৩ ডলার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪১১ ডলার। এ সময়ে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা মোট ৪ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯টি কাজ করেছে।
 
আর ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১১.০৯ ডলার আয় করেছে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের এই অব্যাহত অগ্রযাত্রা অনেকটা নিজেদের চেষ্টাতেই হয়েছে। তবে ২০১২ সাল থেকে সরকার এ যাত্রায় স¤পৃক্ত হতে শুরু করেছে। ওই বছর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য লার্নিং এ্যান্ড আর্নিং কর্মসূচী গ্রহণ করে এবং প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের অধীনে ৫৫ হাজার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
 
শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ওয়েব, গ্রাফিক্স ডিজাইন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, সোসাল মার্কেটিং, থিম ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট, লিংক বিল্ডিং, ডাটা এন্ট্রি টাইপিং, আর্টিকেল বা ব্লগ রাইটিং বিষয়ে প্রশিক্ষিত করে আউটসোর্সিংয়ের সম্ভাবনাময় খাত থেকে অর্থ আয়ের সুযোগ করে দেবে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প। সূত্র মতে, সরকারী, বেসরকারী এবং ব্যক্তি উদ্যোগে দেশে এখন প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী আউটসোর্সিংয়ের উৎস থেকে আয় করার জন্য বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে নিবন্ধন করেছে। তারা বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করছে। বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা যে মার্কেট প্লেসটিতে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছে সেটি হচ্ছে ইল্যান্স-ওডেক্স। এ মার্কেট প্লেসটিতে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা সাড়ে চার লাখ।
 
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসে আউটসোর্সিং কাজের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। ইল্যান্স-ওডেক্স একীভূত হওয়ার আগে ২০১২ সালে ওডেক্সের শীর্ষ ১০ এর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তৃতীয়। ইল্যান্স-ওডেক্স একীভূত হওয়ার পর আউটসোর্সিংয়ে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই মজবুত হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এটি কারনির গ্লোবাল সার্ভিস লোকেশন (জিএসএল) সূচকে বিশ্বের ৫১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ২৬তম অবস্থানে উঠে এসেছে। আউটসোর্সিংয়ে সঠিক গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর ফলে বিশ্বস্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আউটসোর্সিং স্ট্যাটাসে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের প্রতিবেদনে ৩০ শীর্ষ আউটসোর্সিং গন্তব্যের দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

LEAVE A REPLY

four + six =