উইন্ডোজ ৮ এ ফাইল, সেটিং, অ্যাক্সেসরিজসহ সহ আরও অনেক কিছু সহজেই ট্রান্সফার করে নিন

0
567

মাইক্রোসফট ব্যবহারকারীদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে এর জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজকে প্রায়ই উন্নত থেকে উন্নততর করার উদ্দেশ্যে আপগ্রেড ভার্সন অবমুক্ত করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সবাই রাতারাতি উইন্ডোজের আপগ্রেড ভার্সনের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করেন না বা করতে পারেন না। এই না পারার পেছনের কারণ হিসেবে যেমন রয়েছে আর্থিক বিষয়, তেমনই রয়েছে নতুন ভার্সনের সাথে মানিয়ে নেয়ার ঝামেলা। অর্থাৎ উইন্ডোজের পুরনো ভার্সন থেকে নতুন ভার্সনে ফাইল, সেটিং, অ্যাক্সেসরিজসহ আরও অনেক কিছু ট্রান্সফারের ঝামেলা বেশ। আর এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ লেখার অবতারণা। ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে এ লেখায় দেখানো হয়েছে উইন্ডোজের সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম চালিত পিসিতে কীভাবে ফাইল, সেটিং, অ্যাক্সেসরিজসহ আরও অনেক কিছু সহজেই ট্রান্সফার করা যায়।

প্রথমে আপনার পুরনো পিসির ট্রান্সফার করতে চাওয়া ফাইলগুলো পরীক্ষা করে দেখুন। যদি আপনি উইন্ডোজ ৮ ব্যবহার করার কথা চিমত্মা-ভাবনা করে থাকেন, তাহলে বেশ কয়েকভাবে উইন্ডোজ ৮-এ সরে আসতে পারবেন। কোনো কোনো ব্যবহারকারী বিদ্যমান কমপিউটারে উইন্ডোজ ৭, ভিসত্মা বা এক্সপিতে আপগ্রেড করতে চান, আবার অনেকেই নতুন কমপিউটার কেনেন উইন্ডোজ ৮ প্রি-ইনস্টল করা অবস্থায়। এটি বিশেষভাবে উপকারী যদি আপনি টাচভিত্তিক ইন্টারফেসের সুবিধা পেতে চান। কেননা টাচ কন্ট্রোলের জন্য দরকার পিসির বিল্ট-ইন সাপোর্ট, যা উইন্ডোজ ৮-এ রয়েছে।

যদি আপনি একটি নতুন উইন্ডোজ ৮ ডিভাইস কেনেন, তাহলে নতুন সফটওয়্যার সেটিংয়ের জন্য আপনাকে তেমন কিছু চিন্তা-ভাবনা করতে হবে না। উদাহরণস্বরূপ, অভ্যন্তরীণ কম্পোনেন্টের সাথে কম্প্যাটিবিলিটি বা মানিয়ে নেয়ার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় নয়। নতুন পিসিতে মুভ করার জন্য কিছু কাজ করতে হয়, অবশ্যই যদি আপনার সাথে পেরিফেরাল, সফটওয়্যার এবং ডকুমেন্ট নিতে চান। এ ট্রান্সফারের কাজটি করার জন্য নিচে বর্ণিত ধাপগুলো সম্পন্ন করুন।

স্টোরেজ সিলেক্ট করা
ডাটা মুভ করানোর ক্ষেত্রে কোন ধরনের কমপিউটার থেকে ডাটা মুভ করানো হচ্ছে তা বিবেচ্য বিষয় নয়, বরং প্রত্যেক পিসি স্বত্বাধিকারীকে একটি বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে, তা হলো প্রয়োজনীয় সব ফাইলই নতুন পিসিতে মুভ করাতে হবে। ফাইল মুভ করার জন্য বেশ কিছু অপশন রয়েছে। যদি আপনার পুরনো কমপিউটারটি উইন্ডোজ ৭-এ চালিত হয়, তাহলে উভয়কে একই হোম নেটওয়ার্কে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে পুরনো কমপিউটার এবং নতুন কমপিউটারকে যুক্ত করে একই নেটওয়ার্কে হোমগ্রপে ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবেন। এজন্য উভয় কমপিউটার হোমগ্রুপে সার্চ করে অপশন খুঁজে নিন।

যদি এটি সম্ভব না হয়, তাহলে খুব সহজে এক্সটারনাল স্টোরেজ ডিভাইসে ফাইল মুভ করাতে পারবেন উইন্ডোজ নেটওয়ার্কে সেটিংয়ে এলোমেলো না করে। সবচেয়ে সহজ হলো ইউএসবির মাধ্যমে এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক যুক্ত করা। এটিকে প্লাগ করে একটি ফোল্ডার তৈরি করুন এবং আপনার ফাইল ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করুন।
এতেও যদি ব্যর্থ হন, তাহলে রাইটেবল ডিভিডি ব্যবহার করতে পারেন, যা অনেক ডকুমেন্ট ধারণ করতে পারে। যদি ডিভিডি ব্যবহার করে ডেস্কটপ ফোল্ডার তৈরি করেন এবং আপনার সেসব ফাইল কপি করে রাখতে চান, তাহলে এ ক্ষেত্রে আপনাকে শুধু বার্ন করতে হবে ডিস্কে। এ কাজটি তখনই করবেন, যখন নিশ্চিত হতে পারবেন সব ফাইলই সিলেক্ট করা হয়েছে।

সফটওয়্যার সেটআপ করা
ডকুমেন্টকে নিরাপদে ট্রান্সফার করার পর অথবা এক্সটারনাল স্টোরেজকে নতুন কমপিউটারে সংযোগ করার পর আপনাকে সফটওয়্যার প্রসঙ্গে ভাবতে হবে। আপনার কমপিউটারে অনেক প্রোগ্রাম থাকতে পারে, যেগুলো হয়তো আপনি নিয়মিতভাবে সবসময় ব্যবহার করেন। তবে বেশ কিছু প্রোগ্রাম থাকে যেগুলোকে কখনও কখনও প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হয়। এসব প্রোগ্রাম আপনার নতুন উইন্ডোজ ৮ পিসিতে ইনস্টল করতে হয়।

উইন্ডোজ ৮ ডিভাইস দুই ধরনের : প্রথমত পিসিচালিত স্ট্যান্ডার্ড উইন্ডোজ ৮ এবং দ্বিতীয়ত ট্যাবলেটের মতো ডিভাইস, যা ব্যবহার করে বিশেষ করে উইন্ডোজ ৮ আরটি ভার্সন। উইন্ডোজ ৮ আরটি সেসব প্রোগ্রাম রান করবে না, যেগুলো উইন্ডোজের অন্যান্য ভার্সনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। প্রোগ্রামকে সহজেই ডকুমেন্টের মতো পরে এক পিসি থেকে আরেক পিসিতে কপি করা এবং তুলে আনা যায় না। যদি এ কাজটি করার চেষ্টা করেন তাহলে দেখা যাবে বেশিরভাগই স্টার্ট হতে ব্যর্থ হয়। এর পরিবর্তে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে একটি ফাইল, যা প্রোগ্রামকে ইনস্টল করতে সহায়তা করে। পুরনো প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে এগুলো সাধারণত খুঁজে পাওয়া যায় সিডি বা ডিভিডি ডিস্কে। তবে আপনি যদি আরও সাম্প্রতিক প্রোগ্রাম নিয়ে আসেন, তাহলে তা ডাউনলোডযোগ্য ফাইল হিসেবে সরবরাহ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেগুলো আপনার নতুন পিসিতে কোনো না কোনো জায়গায় থাকার সম্ভাবনা থাকে।

আপনার আরও দরকার রেজিস্ট্রেশন কোড বা কী, যা প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে ব্যবহার হয়। এ কোড সিডি কেসে প্রিন্ট করা থাকে অথবা পুরনো প্রোগ্রামের ম্যানুয়ালে পাবেন বা ডাউনলোড প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে আপনার কাছে ই-মেইল করে পাঠিয়ে দেবে। ধরুন, আপনার এমন এক প্রোগ্রাম আছে, ইনস্টল করার জন্য আপনার কমপিউটার রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, যেমন অ্যাডোবি ফটোশপ। তবে পুরনো পিসিকে ডি অথরাইজ করতে ভুল করা উচিত হবে না নতুন পিসিতে ইনস্টল ও রেজিস্টার করার ক্ষেত্রে। একইভাবে মিউজিক প্রোগ্রাম, যেমন অ্যাপলের আইটিউনকে পুরনো পিসিতে ডি অথরাইজ করা উচিত, যদি আপনি তা আর ব্যবহার না করেন।

ই-মেইলের বিষয়টিও ভুলে গেলে হবে না। যদি আপনি একটি অনলাইন ই-মেইল সার্ভিস ব্যবহার করেন, যেমন জি-মেইল, তাহলে খুব সহজে নতুন কমপিউটারে সাইন ইন করলে এর মেসেজ সেখানে পাবেন। যদি উইন্ডোজ মেইল বা থান্ডারবার্ড ব্যবহার করেন, তাহলে আপনাকে সম্ভবত পুরনো মেসেজ সেভ করতে হবে উইন্ডোজ লাইভ মেইলে ফাইল ক্লিক করে এক্সপোর্টে ক্লিক করে অথবা থান্ডারবার্ডের জন্য একটি অনলাইন গাইড ভিউ করতে পারেন।
এখানে প্রোগ্রামের কম্প্যাটিবিলিটি ইস্যুটি একটি বড় ফ্যাক্টর। উইন্ডোজ ৭ চালিত যেকোনো সফটওয়্যারকে কোনো সমস্যা ছাড়াই মুভ করানো যেতে পারে। উইন্ডোজ এক্সপির জন্য ডিজাইন করা কোনো প্রোগ্রাম বা তারও পুরনো ভার্সনের প্রোগ্রামকে মুভ করানোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

এটি চেক করার জন্য উইন্ডোজ ৮-এর কম্প্যাটিবিলিটির ওয়েবসাইটে প্রোগ্রাম নাম এন্টার করুন। এর ফলে জানতে পারবেন যথাযথভাবে কাজ করার জন্য অন্যান্য ব্যবহারকারী আনুপাতিক হারে সুযোগ পাবেন বা সমস্যার লিস্ট পাবেন কিংবা আপগ্রেডের সময় বাগ পাবেন। বিকল্প হিসেবে উইন্ডোজ ৮ আপগ্রেড অ্যাসিসট্যান্ট ডাউনলোড ও রান করতে পারে।

প্রিন্টার এবং পেরিফেরাল
সফটওয়্যার এবং ফাইল ছাড়া আপনার পিসিতে কিছু পেরিফেরাল যুক্ত থাকতে পারে, যেগুলোকে নতুন উইন্ডোজ ৮ পিসিতে মুভ করাতে দরকার হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ কাজটি বেশ সহজ হয়ে থাকে, তবে কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো ফাইল ট্রান্সফার করার আগে কিছু চিন্তা-ভাবনা করতে হয়।

উইন্ডোজ ৮ আরটির সাথে যেকোনো পেরিফেরাল যুক্ত করতে চান না কেনো, এর জন্য দরকার বিশেষ ধরনের ড্রাইভার। সাধারণ ডিভাইস যেমন মাউস, কীবোর্ড এবং এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক ছাড়া অন্য যেকোনো ডিভাইস মুভ করা কিছুটা জটিল ধরনের। তবে আপনি যদি স্ট্যান্ডার্ড উইন্ডোজ ৮ ভার্সন বেছে নেন, তাহলেও সমস্যা হবে না, যদিও বেশিরভাগ সর্বাধুনিক পেরিফেরাল ডিজাইন করা হয়েছে উইন্ডোজ ৭ উপযোগী করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেরিফেরালকে নতুন উইন্ডোজ প্লাগ করার মিনিট খানেক সময়ের মধ্যে সেটআপ হয়ে যাবে।

পুরনো পিসির ইতসত্মত ছড়ানো ফাইলগুলো চেক করুন, যেগুলোকে ট্রান্সফার করতে চান। লক্ষণীয়, বিভিন্ন পেরিফেরাল ভালোই কাজ করে। যেকোনো ধরনের এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক যেগুলো ইউএসবি ডিস্কের মাধ্যমে কানেক্ট করা হয়, সেগুলো ভালোভাবে কাজ করবে ইউএসবি কীবোর্ড, মাউসের মতো ডিভাইসে। যদি আপনি দ্বিতীয় আরেকটি ডিসপ্লে ব্যবহার করতে চান, তাহলেও কোনো সমস্যা হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না নতুন পিসিতে শুধ এইচডিএম ভিডিও আউটপুট সংবলিত হয়। কেননা আপনার পুরনো মনিটরটি ভিজিএ ব্যবহার করে।

পুরনো প্রিন্টার সংবলিত ডিভাইসের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত পুরনো মাল্টিফাংশন ডিভাইসের ক্ষেত্রে, যার সাথে স্ক্যানার সম্পৃক্ত রয়েছে, সেগুলো কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো প্রায় সময় নির্ভর করে জটিল ধরনের ড্রাইভার এবং সফটওয়্যারের ওপর, যেগুলো উইন্ডোজ ৮-এর জন্য আপডেট করা উচিত।
কম্প্যাটিবিলিটির বিষয়টি চেক করার সহজতম উপায় হলো প্রিন্টার প্রস্ত্ততকারকের ওয়েবসাইটে ভিজিট করে খেয়াল করে দেখুন এর মডেল এবং উইন্ডোজ ৮-এর ড্রাইভার আছে কি না। যদি না থাকে, তাহলে বিকল্প হিসেবে উইন্ডোজ ৭-এর ড্রাইভার খোঁজ করুন। কেনান উইন্ডোজ ৮ চেষ্টা করে ড্রাইভার ইনস্টল করতে, যেটি আগের ভার্সনের উপযোগী। ইচ্ছে করলে ভিস্তা ড্রাইভার দিয়েও চেষ্টা করতে পারেন, কেননা এটি সাম্প্রতিককালের উপযোগী হয়ে থাকে।

ট্যাবলেট পিসি কেনা
যদি আপনি ট্যাবলেট ডিভাইস কেনার চিন্তা-ভাবনা করেন, তাহলে মনে রাখতে হবে, এটিকে আপনি পিসির মতো ব্যবহার করতে পারবেন না। এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক এবং প্রিন্টার যেগুলো ইউএসবির মাধ্যমে যুক্ত করা যায়, সেগুলোও ট্যাবলেট ডিভাইসে ব্যবহার করা বেশ ঝামেলাদায়ক। এজন্য আপনার উচিত হবে ওয়্যারলেস প্রিন্টার বা নেটওয়ার্ক অ্যাটাচ স্টোরেজ ডিইভাইসের জন্য কিছু বাড়তি খরচ করা, যাতে ট্যাবলেটকে আরও বেশি পোর্টেবল করা যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ