আসুন জানি এন্ড্রয়েড ফোনে রুট করার উপকারিতা

0
534

রুট করার পর আপনার এন্ড্রয়েড ফোনে আপনি এমন সব কাজ করতে পারবেন, যেগুলো করার পর আপনি আপনার নিজের ফোনটিই চিনতে পারবেন না। যা যা করতে পারবেঃ

  • কাস্টম রম (Custom ROM): এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এটাও হয়ত শুনে থাকবেন যে অনেকে কাস্টম রম (Custom ROM) ইন্সটল করে। অনেকে হয়ত কাস্টম রম ইন্সটল করা ফোন দেখে মনে মনে ভেবেছেন আপনিও করবেন। তাহলে আপনাকে রুট করতেই হবে। কাস্টম রম ইন্সটলের প্রধান শর্ত আপনাকে রুট করতে হবে। ROM হচ্ছে Read Only Memory যা আপনার ডিভাইসটিকে চালায়। ইন্টারনেটে অনেক কাস্টম রম পাবেন যা আপনার ফোনকে শুধু দৃষ্টিনন্দন করে তুলবে তাই নয় ফোনের পারফরম্যান্সও বাড়িয়ে তুলবে। কাস্টম রম ডেভেলপারদের মধ্যে CyanogenMod, Team Rouge, Team EOS, ParanoidAndroid, MIUI ইত্যাদির নাম বেশি শোনা যায়। আপনি ইচ্ছা করলে রম ম্যানেজার দিয়ে আপনার ফোনের সাথে কম্প্যাটিবল (যেটি আপনার ফোনের সাথে মেলে) রম ডাউনলোড করে নিতে পারেন। আর রম খোঁজার জন্য গুগল প্লে থেকে GooManagerRomManager ইন্সটল করে ব্যবহার করতে পারেন।
  • কাস্টম থিম (Custom Theme): থিম মানে আপনার ফোন যে গ্রাফিক্সটা প্রদর্শন করছে তা পরিবর্তন করার জন্যেও আপনাকে রুট করা লাগতে পারে।
  • লেটেস্ট এন্ড্রয়েড ভার্সন (Latest Android Version): অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ফোনের ম্যানুফ্যাকচারার ফোনের জন্য আপডেট বন্ধ করে দেয়। যেখানে সবাই এন্ড্রয়েড জেলি বিন পাচ্ছে সেখানে হয়ত আপনাকে আইস-ক্রিম স্যান্ডুইচ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপডেট বন্ধ করার যুক্তিযুক্ত কারণ থাকলেও আপনি কেন এন্ড্রয়েডের পুরোনো ভার্সন নিয়ে পড়ে থাকবেন। নতুন ভার্সন আপনার ফোনে সেটা ইন্সটল করতে চাইলে, রুট করতে হবে।
  • কাস্টম কার্নেল (Custom Carnal): এন্ড্রয়েড ডিভাইস রম দিয়ে চললেও, কাজগুলোর কমান্ড বা নির্দেশ দেওয়া হয় কার্নেলের মাধ্যমে। আপনি যখন ফোনের স্ক্রিনে টাচ করেন তখন টাচ পয়েন্টের কো-অরডিনেট বা কোথায় টাচ করেছেন সে তথ্য যায় কার্নেলে। কার্নেল তখন সংশ্লিষ্ট এপ্লিকেশনকে টাচ অনুযায়ী কাজ করতে বলে। বুঝতেই পারছেন কার্নেল কত জরুরি। আপগ্রেডেড কার্নেল ব্যবহার করে আপনার ফোনের পারফরম্যান্স বাড়ানো সম্ভব।
  • ব্যাটারি এবং ফোন স্পিড কন্ট্রোল (Battery and Phone Speed Control): রুট করার পরে যদি কাস্টম রম ইন্সটল করেন তবে আপনার ফোন কিভাবে চালাবেন অর্থাৎ সিপিউ ইউসেজ কেমন চাচ্ছেন তার কিছু অপশন পাবেন যেমনঃ Governer, Performance ইত্যাদি। এগুলোর মাধ্যমে আপনার ফোনের সর্বোচ্চ স্পিড সর্বনিম্ন ব্যাটারি খরচে পেতে পারেন। এছাড়া ওভারক্লক করে স্পিড বাড়াতে পারেন (ব্যাটারি বেশি খরচ হবে) অথবা আন্ডারক্লক করে দিতে পারেন (ব্যাটারি কম খরচ হবে)। এছাড়াও রুট করার পর গুগল প্লে থেকে No-frills CPU বা Tegrak Overlock অ্যাপস গুলো ইন্সটল করে এগুলো দিয়ে এই কাজগুলো করতে পারবেন।
  • ব্যাকআপ তৈরি (Backup Making): রুট করার সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে ব্যাকআপ তৈরি করা। গুগল হয়ত কিছু ব্যাকআপ সুবিধা দেয় কিন্তু সেটা কন্ট্যাক্টস, ক্যালেন্ডার, জি-মেইল পর্যন্তই। রুট করার মাধ্যমে আপনি আপনার ডিভাইসের সফটওয়্যারের একটা হুবহু কপি করে রাখতে পারবেন এপ্লিকেশন সেটিংস সহ। ধরুন রুট করার পর রম আপগ্রেড করবেন বা কাস্টম রম ইন্সটল করতে মন চাইলো। ইন্সটল করার পরে দেখলেন ভালো লাগছে না। তখন ব্যাকআপ করা থাকলে সেই ফাইলটি ফ্ল্যাশ করলেই আপনার ডিভাইস ঠিক আগের মত অবস্থায় ফিরে যাবে। আপনার মেমোরি কার্ডের ফাইলগুলো পর্যন্ত ফিরে পাবেন একইরকম ভাবে। এজন্য রুট করার পর যা কিছু করার আগে ব্যাকআপ করে নিন। যদি অ্যাপস ব্যবহার করে ব্যাকআপ করতে চান তাহলে Titanium Backup অ্যাপটি দিয়ে করতে পারেন। আর যদি কাস্টম রিকভারি ইন্সটল করে থাকেন (কাস্টম রম ইন্সটল করতে গেলে, কাস্টম রিকভারি অবশ্যই ইন্সটল করতে হয়) তাহলে সেখান থেকেও ব্যাকআপ করতে পারেন
  • মেমোরি ম্যানেজমেন্ট (Memory Management): রুট করার পর আপনার ফোনের অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করতে পারবেন, ফোন মেমোরি থেকে স্টক অ্যাপস মেমোরি কার্ডে নিতে পারবেন। আপনার ফোন মেমোরি যত ফাঁকা করতে পারবেন ততই স্পিড বাড়বে (এজন্য পুরা মেমোরি ফাকা করা যাবে না। অনুগ্রহ করে না বুঝে কোনো ফাইল ডিলিট করবেন না)।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 + eighteen =