জেনে নিন এমনই ৫টি ভুল ধারণা যা এখনো সত্য বলে মনে করেন

3
1273

মানব জাতি মিথ বা ভুল ধারণা ছড়িয়ে দিতে ওস্তাদ। বিশেষ করে প্রযুক্তির বিষয়ে ভুল ধারণার অভাব নেই। এখানে জেনে নিন এমনই ৫টি ভুল ধারণা যা এখনো সত্য বলে মনে করেন।

১. ডিলিট করলেই ফাইল মুছে যায় : ডেস্কটপ বা মোবাইলের যে ফাইলগুলোর আর প্রয়োজন নেই সেগুলো আমরা ডিলিট করি। কিন্তু ডিলিট করলেই তা যন্ত্র থেকে একেবারে চলে যায় না। এমনকি রিসাইকেল বিন থেকেও মুছে ফেলার পর হার্ড ড্রাইভে থেকেই যায় সেই ফাইল। অন্য কোনো ফাইল সেই স্থানটি দখল না করা পর্যন্ত এটি থেকেই যাবে। তাই পুরোপুরি মুছে ফেলতে হলে উইন্ডোজের জন্য ‘ইরেজার’ ও ম্যাকের জন্য ‘পারমানেন্ট ইরেজার’ নামের অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। এই অ্যাপ ডিলিটকৃত ফাইল বারবার ওভাররাইট করে যেনো তা আর না থাকে।

২. এলসিডি টিভির চেয়ে ভালো এলইডি টিভি : নতুন টেলিভিশন কিনতে গেলেই সবাই সর্বাধুনিক এলইডি টেলিভিশন কিনতে চান। কিন্তু এ দুটি টেলিভিশনের প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এলসিডি হলো লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে যা প্লাজমা টেলিভিশনের প্রতিযোগী। এর গুণগত মান এলইডি এর চেয়েও অনেক ভালো। আর এলইডি হলো লাইট এমিটিং ডায়ট। কোল্ড ক্যাথোড ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্পের মাধ্যমে এর পর্দা তৈরি হয়। এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হলেও গুণগত মান এলসিডি এর চেয়েও ভালো নয়।

৩. সব সময় চার্জে রাখতে হয় ল্যাপটপ : অনেক মানুষই ল্যাপটপটিকে বাড়ির একটি স্থানে চার্জ দিয়ে রেখে দেন। তারা জানেন যে, ল্যাপটপ যতক্ষণ সম্ভব চার্জে রাখতে হয়। কিন্তু ব্যাটারির জন্য এর চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছু হয় না। অতিরিক্ত চার্জের কারণে ব্যাটারির জীবন দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। মূলত ব্যাটারির চার্জ সাইকেল শেষ করে না ফেলতে চাইলে শতভাগ চার্জ হলেই তা বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত।

৪. রাতে কম্পিউটার বন্ধ করতে হয় : আরেকটি ভুল ধারণা হলো, রাতে শোয়ার আগে অবশ্যই কম্পিউটার বন্ধ করে দিতে হয়। আগের দিনের হার্ড ড্রাইভের ক্ষেত্রে এ কথাটি প্রযোজ্য হলেও আজও মানুষ তা বিশ্বাস করে। আধুনিক কম্পিউটাগুলো বছরের পর বছর চালু রাখলেও তাতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে যদি বিদ্যুৎ বাঁচাতে চান তাহলে বন্ধ রাখতে পারেন। কিন্তু কম্পিউটারের ক্ষতি হবে এ চিন্তা করে তা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

৫. ভাইরাসের আক্রমণ বোঝা যায় : অনেকেই মনে করেন, কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণ করতে তা সহজে বোঝা যাবে। হয়তো মনিটরটি কালো হয়ে যাবে আর একটি কঙ্কালের মাথা এসে হাসতে থাকবে। এসব ধ্যানধারণা ত্যাগ করুন। আধুনিক ভাইরাসগুলো এমনভাবে লুকিয়ে থাকতে পারে যে তাদের কোনো অ্যান্টিভাইরাসও ধরতে পারে না। অগোচরে থেকে যা ক্ষতি করার করে ফেলবে। তাই নিয়মিত ভাইরাস চেক করা সহ অন্যান্য ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে হবে আপনাকে।

3 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen − 6 =