হ্যাকার আপনার ইমেইল যেভাবে হ্যাক করে

0
643

গুগলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মেইলের কন্টাক্টের কোনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে, ঐ অ্যাকাউন্ট স্ক্যামের আসার হার ৩৬ গুণ বেড়ে যায়। স্ক্যাম হলো ভুয়া তথ্য দিয়ে লোভ দেখিয়ে মেইল পাঠানো। এর মাধ্যমে ইমেইল ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা দুর্লভ, দৈনিক প্রতি ১০ লাখের মধ্যে ১তি। কিন্তু , একবার চুরি হওয়া শুরু করলে, এ হার বেড়ে যায়।

গুগল জানিয়েছে, এ ধরনের হ্যাকাররা প্রধানত চীন, আইভরি কোস্ট, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করে। তবে তারা পৃথিবীব্যাপী হামলা চালায়। গুগল নিজে জিমেইল অ্যাকাউন্টে স্ক্যামের ব্যাপারে সতর্কতা মেনে চলে। যদিও হ্যাকাররা আক্রমণে নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে।

গুগল তিন বছর গবেষণা করে এ ধরনের কিছু পদ্ধতি বের করে এনেছে। সুপারিশসহ পদ্ধতিগুলো নিম্নে দেওয়া হল-

কার্যকর স্ক্যাম

সাইবার দুর্বৃত্তরা স্ক্যামকে বিশ্বাসযোগ্য করে বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়। তারা ইমেইল লগইন এবং পাসওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে গুগলের বা বিশ্বাসযোগ্য কোনো উৎসের অনুকরণে মেইল পাঠায়। এ মেইলের সাথে যুক্ত লিংকে ক্লিক করলে তা গুগলের মতো আরেকটি পেজে নিয়ে যায় ই–মেইল ব্যবহারকারীকে। কিন্তু এটি ভুয়া পেজ।

গুগল জানিয়েছে এ ধরনের স্ক্যামগুলো ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর।

তাই জিমেইল ইউজার নেম বা পাসওয়ার্ড কখনো কোথাও মেইল করবেন না। সব সময় যে লিংকে ক্লিক করছেন, সেই ইন্টারনেট ঠিকানাটি আসল জিমেইল সাইটের কি না, তা পরীক্ষা করে দেখুন।

যা হওয়ার এক দিনেই হয়

হ্যাক হওয়ার এক দিনের মধ্যেই হ্যাকাররা যা সর্বনাশ করার করে ফেলে। ই–মেইলের পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলে গড়ে সাত ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে ফেলা হয়।

তবে ২০ শতাংশ ই–মেইল ব্যবহারকারী এই সাত ঘণ্টা সময়ও পান না। মাত্র ৩০ মিনিটেই তার সব তথ্য চুরি হয়ে যায়। হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ই–মেইল পুরোপুরি কব্জা করে ফেলে বলে ওই অ্যাকাউন্ট আর ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

তাই মোবাইল ফোন বা ব্যাক আপ মেইলে অ্যাকাউন্ট অ্যালার্ট সাইন আপ করে রাখুন। এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বুঝতে পারলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

তিন মিনিটে সব মেইল পড়া শেষ

আপনার অনেক মেইল হ্যাকাররা কি ধরে ধরে পড়ে? এতে অনেক সময় লাগে বলে

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পুরো ই–মেইল স্ক্যান করে দুবৃ‌র্ত্তরা মাত্র তিন মিনিটেই তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য উদ্ধার করে ফেলে। ব্যবহারকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং স্বাক্ষরের কোনো ছবি আছে কি না, আগে খুঁজে দেখে তারা।

এ ছাড়াও এই ই–মেইল দিয়ে পেপ্যাল, আমাজনের মতো অন্য অ্যাকাউন্টে ঢোকা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখে। তারা ই–মেইলের সার্চ ফিচার ব্যবহার করে ‘ওয়্যার ট্রান্সফার’, ‘ব্যাংক’, ‘অ্যাকাউন্ট সেস্টমেন্ট’ প্রভৃতি লিখে সার্চ দেয়।

তাই নিজে থেকেই গুগলে এই শব্দগুলো লিখে সার্চ দিন। এ ধরনের কোনো স্পর্শকাতর তথ্য ই–মেইলে থাকলে তা মুছে ফেলুন বা সরিয়ে রাখুন। মেইলে এ ধরনের তথ্য রাখবেন না।

বন্ধুরাও বিপদে

কারও ই–মেইল হ্যাক হলে তার বন্ধুরাও বিপদে পড়ার সম্ভাবনা আছে।

সাইবার দুর্বৃত্তরা নাম ভাঙিয়ে বন্ধুদের কাছে সাহায্যের জন্য মেইল পাঠাতে পারে, ই–মেইল ব্যবহার করে প্রতারণা করতে পারে।

শুধু তা–ই নয়, বিপদে পড়েছে বলে জরুরি কিছু টাকা দরকার বলে মেইলও করতে পারে।

এছাড়া বন্ধুর পাঠানো ইমেইলগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য ইমেইলে সরিয়ে নিতে পারে, এতে অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের পর বন্ধুর মেইলের উত্তর আর সঠিক ঠিকানায় পৌছাবে না।

এতে বন্ধু কখন আক্রমণের শিকার হয়েছে সেটা জানা যায় না। সবচেয়ে বাজে বিষয় হয় যখন দুর্বৃত্তরা সব মেইল অ্যাড্রেস ও কন্টাক্টস মুছে দেয় তখন। এতে কোনো বন্ধুকেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানানোর সুযোগ পাওয়া যায় না।

গুগলের অ্যাকাউন্ট রিকভারি সিস্টেম ব্যবহার করে তথ্য ফিরিয়ে আনা যায়, তবে তার আগে নিজের অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের প্রয়োজন পড়ে।

তাই ই–মেইল যাতে হ্যাক না করতে পারে সে ব্যবস্থা শুরুতেই নিন। আপনার মেইলে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা চালু করুন। দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে আরও একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন কোনো কম্পিউটার থেকে লগ ইন করার সময় এতে হয়তো অতিরিক্ত ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে কিন্তু তা দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনে।

একটি উত্তর ত্যাগ