কমপিউটার ক্র্যাশ কেন করে? এবং কিভাবে উইন্ডোজ ক্র্যাশ থেকে বেচে থাকবেন?

0
428

কমপিউটার ক্র্যাশ করার ফলে ব্যবহারকারীকে এক চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়, অপারেটিং সিস্টেম কত অগ্রসর ধরনের, জনসাধারণ্যের কত প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে যে সিস্টেম কখনই ক্র্যাশ করবে না তা বিবেচ্য বিষয় নয়। এমন এক সময় আসবে যখন সিস্টেম স্বাভাবিকভাবে তার কাজ করা বন্ধ করে দেবে। যদি আপনি ভাগ্যবান হয়ে থাকেন, তাহলে দেখবেন একটি সিঙ্গেল প্রোগ্রাম আপনার কাজ থামিয়ে দেয়ার জন্য দায়ী। আর ভাগ্য যদি খারাপ হয়, তাহলে সম্পূর্ণ কমপিউটার ফ্রিজ হয়ে যাবে এবং আপনাকে কোনো অপশন দেবে না, তবে আবার কমপিউটার চালু হবে।

একটি প্রোগ্রাম বা সম্পূর্ণ মেশিন যদি ক্র্যাশ করে, তাহলেও আপনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন। যখন আপনার কমপিউটার অদ্ভুত আচরণ করতে থাকবে, তখন কিছু সময় ভেবে নিন এ সমস্যা নিজে সমাধান করতে পারবেন কি না অথবা আবার এ সমস্যা উদ্ভূত হওয়ার আগে আবার চেষ্টা করে দেখুন এবং তা ফিক্স করুন। এজন্য নিচের ধাপগুলো সম্পন্ন করুন।

ধাপ-১ : টাস্ক ম্যানেজমেন্ট
যদি কোনো প্রোগ্রাম কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তাহলে প্রথম রিকোর্স হলো নিয়মিতভাবে টাস্ক ম্যানেজার ওপেন করে দেখুন ঝুঁকিপূর্ণ প্রসেসে কোনো কিছু সমাধান করা যায় কি না। উইন্ডোজ টাস্ক ম্যানেজারে অন্তর্গত স্ট্যাটাস কলামে প্রোগ্রামের বর্তমান অ্যাক্টিভিটির বর্ণনা পাবেন। এ ক্ষেত্রে‘Running’ হলো ডিফল্ট অবস্থা এবং ইঙ্গিত দেয় যে প্রোগ্রাম স্বাভাবিকভাবে রান করছে এবং ইউজারের ইনপুট গ্রহণ করছে। যদি প্রোগ্রাম মাঝেমধ্যে ফ্রোজেন হয় অর্থাৎ স্থির হয়ে যায় অথবা হ্যাং হয়ে যায়, তাহলে উইন্ডোজ টাস্ক ম্যানেজারের অন্তর্গত স্ট্যাটার্স কলামে দেখতে পারবেন ‘Not Responding’, যার মাধ্যমে ইঙ্গিত করছে যে প্রোগ্রামে কোনো সমস্যা আছে। এ অবস্থায় আপনি যাই করেন না কেনো কমপিউটারকে আগের সক্রিয় অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা কম। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে প্রোগ্রাম নেমে ক্লিক করে End Task বাটনে ক্লিক করতে হবে জোর করে প্রোগ্রামকে রানিং অবস্থা থেকে বিরত রাখার জন্য।

প্রোগ্রাম বিভিন্ন কারণে নিষ্ক্রিয় তথা নন-রেসপনসিভ হতে পারে, তবে যেহেতু আপনি নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল করেছেন এবং ধারণ করছেন বিভিন্ন টাস্ক। কিন্তু খারাপ অবস্থা হয় তখনই, যখন প্রোগ্রামকে মাঝেমধ্যে ম্যানুয়ালি শাটডাউন করতে হয়। এর অর্থ তেমন বিশেষ কিছু বোঝায় না যে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এমন কিছু ঘটে যাচ্ছে, যেহেতু প্রোগ্রাম দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিতভাবে বেসিক টাস্ক পারফর্ম করা থামিয়ে দিয়েছে। যদি প্রোগ্রাম বন্ধ বা রিস্টার্ট করার সময় একই বিষয় ঘটে, তাহলে আপনার জন্য উচিত হবে প্রোগ্রাম আনইনস্টল করে রি-ইনস্টল করা।

ধাপ-২ : সিলেকটিভ শাটডাউন
আপনি অপ্রতিক্রিয়াশীল প্রোগ্রাম শাটডাউন করলেন, কিন্তু আপনার কমপিউটার আশ্চর্যজন আচরণ করা শুরু করল, তাহলে ধরে নিতে পারেন এ সমস্যার জন্য অন্য কিছু দায়ী। এ অবস্থায় আপনার ওপেন করা যেকোনো প্রোগ্রাম বন্ধ করে খেয়াল করুন এগুলোর মধ্যে কোনোটি সমস্যা সৃষ্টি করছে কি না। এ কাজটি করা যেতে পারে টাস্ক ম্যানেজার থেকে অথবা প্রতিটি রানিং প্রোগ্রামের জন্য Exist কমান্ড ব্যবহার করে। End task দ্রুততর প্রক্রিয়া হলেও এটি কোনো রানিং প্রোগ্রাম বন্ধ করার আগে ব্যবহারকারীকে কোনো অপশন প্রদান করে না কোনো কিছু সেভ করার জন্য।

সাধারণত বলা হয়, যদি আপনার কমপিউটার হঠাৎ করে অদ্ভুত আচরণ করতে থাকে, তাহলে ধরে নিতে পারেন এমন কোনো প্রোগ্রাম ইনস্টল করা হয়েছে, যা ইতোপূর্বে কখনই ব্যবহার হয়নি অথবা একটি নির্দিষ্ট কোনো প্রোগ্রামের সাথে কনক্লিক্ট করছে। সুতরাং এমন অবস্থায় খেয়াল করে দেখুন সেই প্রোগ্রামের দিকে যেটি সম্প্রতি ইনস্টল করেছেন অথবা সেই প্রোগ্রামের প্রতি খেয়াল করম্নন যেটি আপনি সচরাচর একসাথে ব্যবহার করেন না। নতুন প্রোগ্রাম মানে যে ম্যালিমাস বা ক্ষতিকর প্রোগ্রাম তা মনে করার যৌক্তিকতা নেই। তবে নতুন কোনো প্রোগ্রাম ইনস্টল করার পর যদি সমস্যা সৃষ্টি হয়, তাহলে নতুন এ প্রোগ্রামকে সন্দেহের তালিকায় রাখা যায়।

ধাপ-৩ : রিবুট
কখনও কখনও ওপরে উলিস্নখিত ধাপগুলো সমস্যা ফিক্স করার জন্য যথেষ্ট মনে নাও হতে পারে। আবার কখনও কখনও সমস্যা তাতখনিকভাবে সমাধান করা সম্ভব নাও হতে পারে। পুরো সিস্টেমটি অপ্রতিক্রিয়াশীল তথা নন-রেসপন্সসিভ হওয়ার কারণে এ অবস্থায় টাস্ক ম্যানেজারও ওপেন করা যায় না। এমন অবস্থায় আপনি কমপিউটারের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন না পাওয়ার অফ করে।

কমপিউটার শাটডাউন করার পর মেমরির সামান্য কিছু অংশ মেমরিতে থেকে যায়। সুতরাং কমপিউটার যত বেশি ব্যবহার হবে তত বেশি অংশ মেমরিতে থেকে যাবে, যা এক সময় কমপিউটার মেমরিতে ক্লাটার তথা জঞ্জাল সৃষ্টি করবে এবং কমপিউটারকে ফ্রিজ করে দেবে বা সিস্টেম লক আপ করে দেবে। এমন অবস্থায় কমপিউটার বন্ধ করলে সবকিছু দূরীভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং ফ্রেশভাবে স্টার্ট হয়, মেমরিতে কোনো জঞ্জাল থাকার সম্ভাবনা থাকে না।

যদি আপনি কমান্ড ইনপুট দিতে পারেন তাহলে স্টার্ট মেনু থেকে ShutDown ev Restart বেছে নিতে পারেন। উইন্ডোজ এক্সপির টাস্ক ম্যানেজার কমপিউটারকে তাতখনিকভাবে বন্ধ করার জন্য অপশন দেবে। যেখানে Alt+Ctrl+Del কী একত্রে চাপলে ভিস্তায় বা উইন্ডোজ ৭-এ একটি স্ক্রিন আবির্ভূত হবে, যেখানে শাটডাউনের অপশন পাবেন। যেকোনো কমান্ড ব্যবহার করে আপনি জোর করে কমপিউটারকে পুরোপুরি শাটডাউন করতে পারবেন এবং এরপর পরিষ্কার অবস্থায় কমপিউটারকে বুট করুন।

যদি আপনি কমান্ড এন্টার করতে না পারেন, তাহলে সবচেয়ে সেরা অপশন হলো পাওয়ার বাটন চাপা। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী ইদানীংকার কমপিউটার পাওয়ার বাটন চেপে কমপিউটার বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এটি কমপিউটারকে বন্ধ করে ঠিকই, তবে মনে হয় মেশিনকে বন্ধ করে না। এটি সত্য, শুধু দ্রুত ট্যাপের জন্য অফ বাটনকে ৫ সেকেন্ড চেপে ধরলে কমপিউটার বন্ধ করার জন্য ফোর্স করে। এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করা উচিত। পাওয়ার প্লাগ খুলে ফেলার চেয়ে এটি অধিকতর নিরাপদ, কেননা পাওয়ার প্লাগ বারবার খোলা হলে পাওয়ার সার্জ হতে পারে, যা মেশিনকে ড্যামেজ করে ফেলতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ