মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নেই কেন?

0
366

পৃথিবীর দূষিত পরিবেশ পরিত্যাগ করে মঙ্গলের বুকে ভবিষ্যৎ জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। আর মনুষ্য বসতি গড়বার জন্য পৃথিবীর পর যেহেতু সবচাইতে উপযুক্ত গ্রহ বলে একেই ধরা হয়, তাহলে আর সমস্যা কিসের? সমস্যা আছে বটে। আর সমস্যা আছে বলেই বিজ্ঞানীরা এখনও মাথা খাটিয়ে চলছেন মঙ্গলে মানুষের বসতি স্থাপন করার কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে। পৃথিবীর মতো মঙ্গলও একটি পাথুরে গ্রহ, এতে রয়েছে বরফে ঢাকা মেরু এবং ঋতুচক্র। মঙ্গলে একদা পানির অস্তিত্ব ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি এর দিনগুলোও প্রায় পৃথিবীর সমান, ২৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। পৃথিবীর সাথে এত মিল থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নেই তার কারণ কি? আসুন দেখে নেওয়া যাক কারণগুলো।

অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় পানি তরল থাকতে পারে না

জীবনের উদ্ভব এবং টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন হয় পানির। এবং সেটা হতে হবে তরল পানি। আমাদের সৌরজগতে এই তরল পানির বড়ই অভাব। সূর্যের বেশি কাছে অবস্থিত হলে উত্তাপে সেই গ্রহ থেকে পানি উবে যায়। আবার বেশি দূরে হলে উত্তাপের অভাবে পানি বরফে পরিণত হয়।

মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নেই কেন মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নেই কেন?

পানিকে তরল রাখার জন্য আমাদের পৃথিবী বেশ ভালো অবস্থানে আছে। কিন্তু মঙ্গল রয়েছে সূর্য থেকে একটু বেশি দূরে। এখানে সাধারণ একটি দিনের তাপমাত্রা হয় শুন্যের নিচে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর তাই সেখানে পানি বরফ হয়ে যায় এবং প্রাণের উদ্ভব হয় না।

মঙ্গলের হারানো বায়ুমণ্ডল

একদা মঙ্গলে বেশ ভালো একটি বায়ুমণ্ডল ছিল যার কারণে পানিকে তরল রাখার মতো তাপমাত্রা সেখানে বিরাজ করত। কিন্তু এখন আর সেই বায়ুমণ্ডল নেই ফলে তরল পানিও নেই। বায়ুমণ্ডল থাকাটা জরুরি কারণ এটি সূর্য থেকে তাপ গ্রহণ করে ও তাকে জমিয়ে রাখে। ফলে গ্রহটি যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়। কিন্তু মঙ্গলে তেমন কার্যকর বায়ুমণ্ডল নেই। পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ১ শতাংশেরও কম আর তাই এর বায়ুমণ্ডল থেকে তাপ মহাশূন্যে হারিয়ে যায়। এহেন বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বড়ই অদ্ভুতভাবে ওঠানামা করে। যেমন, মঙ্গলের বিষুব অঞ্চলে যদি আপনি গিয়ে দাঁড়ান তবে সূর্যের তাপে গরম মাটির কাছে অর্থাৎ আপনার পায়ের কাছে তাপমাত্রা হবে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এই তাপমাত্রা সে দ্রুত হারাতে থাকে এবং বায়ুমণ্ডল এটাকে আটকাতে পারে না বলে আপনার মাথার কাছেই আবার তাপমাত্রা হবে শূন্য ডিগ্রি! কিন্তু মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল এত পাতলা হবার কারণ কি? প্রথম কারণটা হল, পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলের আকৃতি অনেক ছোট। এ কারণে মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও কম এবং বায়ুমণ্ডলকে ধরে রাখবার জন্য সেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যথেষ্ট নয়। এর দ্বিতীয় কারণটি হল, মঙ্গলের চৌম্বকক্ষেত্রের অনুপস্থিতি।

চৌম্বকক্ষেত্রের অভাব

পৃথিবীর উত্তপ্ত কেন্দ্রের গলিত ধাতুর কারণে এর রয়েছে একটি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র। এই চৌম্বকক্ষেত্র আমাদের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সূর্য থেকে বিভিন্ন চার্জিত কণার উদ্ভব হয় যাকে বলে সৌরবায়ু। এই সৌরবায়ুর প্রবাহ পৃথিবীতে আসতে পারেনা।

পৃথিবীর দূষিত পরিবেশ মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নেই কেন?

চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে এটি পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে দুই দিক দিয়ে মহাকাশে চলে যায়। এই চৌম্বক ক্ষেত্র না থাকলে পৃথিবীর পৃষ্ঠ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেত এবং আমাদের বায়ুমণ্ডলও ক্ষয় হয়ে যেত একটু একটু করে। মঙ্গলেও এক সময়ে চৌম্বক ক্ষেত্র ছিল কিন্তু গবেষকরা মঙ্গলের পাথর বিশ্লেষণ করে দেখেন, চার বিলিয়ন বছর আগে হঠাৎ করেই মঙ্গলের চৌম্বক ক্ষেত্র বিলীন হয়ে যায়। এটা সম্ভব যে Late Heavy Bombardment নামক একগুচ্ছ গ্রহাণুর সাথে সংঘর্ষের ফলেই এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ফলে সম্ভবত মঙ্গলের কেন্দ্র হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং চৌম্বকক্ষেত্র নষ্ট হয়ে যায়। চৌম্বকক্ষেত্র না থাকার ফলে একটু একটু করে ক্ষয় হয়ে যায় এর বায়ুমণ্ডল এবং সে সময় যদি কোনও প্রাণের অস্তিত্ব থেকে থাকে তবে সেটাও বিলীন হয়ে যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × four =