তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে পিয়নের চাকরিও হবে না’

0
356

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘এখন তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান না থাকলে পিয়নের চাকরিও হবে না। শিগগিরই এ সম্পর্কিত সরকারি নির্দেশনা আসছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাকে অনেকেই রাজনৈতিক টার্ম হিসেবে ভেবেছিলেন। কিন্তু এটি একটি গ্রেট ধারণা ছিল। চারবছর পূর্বের সঙ্গে বর্তমানের ব্যবধান দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার শিগগিরিই স্প্রেকটার্ম ম্যানেজম্যান্টে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে টেলিভিশনে ডিজিটাল ট্রান্সমিশন সম্ভব।’

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির টেলকো ওয়ারফেয়ার-২০১৪ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শনিবার বিকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে পিয়নের চাকরিও হবে না'দেশের বিভিন্ন অসমাঞ্জস্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে কারিকুলাম বদলে যায়। এটা ব্যাড প্র্যাকটিস। এতে মানুষের ভিত নষ্ট হয়। এ ছাড়া এ দেশে সাইবার ল’ নেই। তা করতে গেলে অনেকে বিতর্ক করবে যে, মুক্তবুদ্ধির চর্চা বন্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা মুহাম্মদ (সা.), শ্রীকৃঞ্চ কিংবা অন্য সম্মানীত কারোর অবমাননাকর উপস্থাপন হতে দিতে পারি না। যারা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে তারা সবাই ভাল। কিন্তু তার মাঝে কিছু পোকা-মাকড় ঢুকছে। তবে পোকা-মাকড়ের ভয়ে আমরা জানালা বন্ধ করব না। কিন্তু কিভাবে তা বন্ধ করা যায়, সেটা একটা চ্যালেঞ্জ।’

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যৌবনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও যুদ্ধবিজ্ঞানের চর্চা করেছিলাম আমার সন্তানদের শান্তি দিতে। কিন্তু আমি সে শান্তি দিতে পারিনি। তবে আমি হাল ছাড়িনি। সবচেয়ে ভাল যুদ্ধের জন্য আমি এখনো যুদ্ধে আছি। সে যুদ্ধ দারিদ্র্য, লিঙ্গ বৈষম্য, প্রাকৃতিক দুযোগ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ কচুরিপনার মতো। যার শেকড় নেই, কিন্তু দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে যায় সব শেষ করে দেয়। এদের বিরুদ্ধেও তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।’

নারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী-পুরুষ সবাই প্রাণ রক্ষা ও দেশ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু নারীরা তার বাইরে সম্ভ্রম রক্ষার বাড়তি দায়িত্ব পালন করেছে। আর সব যুদ্ধই কিছু কিছু বিশ্বাসঘাতকের জন্ম দেয়। কিন্তু এ দেশে পুরুষ বিশ্বাসঘাতক হলেও নারী হয়নি।’

শিক্ষার্থীদেরকে তিনি বলেন, ‘আপনার দাতা, পীর কিংবা বীর হতে পারেন। কিন্তু দেশপ্রেমিক না হলে দেশ চলে যাবে। কারণ রাষ্ট্রনায়করা সব পারেন না। তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। দেশকে এগুতে হলে সবাইকেই দৌড়াতে হবে।’

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারপারসন ডা. মোহাম্মদ ফরাশউদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপচার্য অধ্যাপক সেকান্দার হায়াত খান, গ্রামীণফোনের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কাজী মোহাম্মদ শাহেদ।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি টেলিকমিউনিকেশন ক্লাব আয়োজিত টেলকো ওয়ারফেয়ার-২০১৪ এর পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৩০টি কলেজের ৪০০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। ৩ ডিসেম্বর থেকে চলা এ প্রতিযোগীতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তথ্যমন্ত্রী।

একটি উত্তর ত্যাগ