অনলাইনে কেনাকাটা

0
573
অনলাইনে কেনাকাটা

titas sarker

আমি একজন মানুষ। আমার পরিবার আমার আশ্রয়। বন্ধুরা আমার আপনজন। আমাকে পাবেন এই লিংকে
https://www.facebook.com/titas.sarker
অনলাইনে কেনাকাটা

অনলাইনে কেনাকাটা

শপিং করতে ভালভাসেন না এরকম মানুষ পাওয়াই বিরল। তা হোক অনলাইনে অথবা গতানুগতিক শপিং। তবে আজকাল বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করতে ভালবাসেন।

এই তো গত সপ্তাহে বাসায় কাজের বুয়া আসে নাই তাই রান্না কে করবে? কাজ ভাগাভাগি করতেই রাত ১১টা! কেউ বাজার করবে, কেউ রান্না করবে কিন্তু কেউ প্লেট ওয়াশ করতে পারবে না । সবাই পরে গেলাম মহা যন্ত্রনায়। এই কষ্টসাধ্যকর দায়িত্ব কেউ নিতে ইচ্ছুক না । সবার  চেহারাও কেমন জানি ম্লান হয়ে যাচ্ছিল । হঠাৎ করেই তখন মনে পড়ল ই-কর্মাস সাইটগুলোর কথা । সাথে সাথে  ল্যাপটপ নিয়ে গুগলে সার্চ দিলাম খাচ্ছি বিরানি…..। পেয়ে গেলাম  খাচ্ছি বিরানির সন্ধান এবং অর্ডার দিয়ে দিলাম ৪ প্যাকেট খাচ্ছি বিরানি আর ৪টি কোল্ড ড্রিংক্স। অর্ডার দেওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই চালান বাসায় এসে হাজির।  মুর্হুতেই বহু প্রতিক্ষিত কঠিন চেহারার অপেক্ষাকৃত বাসার মানুষগুলো বেজায় খুশি । তাই প্রত্যেকটি মুর্হুতকে এভাবে সুন্দর করে ফোটাতে অনলাইনে কেনাকাটা অদ্বিতীয়।

 তাই ভাবলাম অনলাইনে কেনাকাটা বিষয়টা আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরি।

খুব বেশি দিন হয় নাই অনলাইনে কেনাকাটা শুরু হয়েছে আমাদের দেশে। যদি একটু খেয়াল করি, আমাদের দেশে ২০০৪ সালে ৪% লোক অনলাইনে কেনাকাটা করত কিন্তু  ইতিমধ্যে ২০১৪ সালে প্রায় ১০% লোক অনলাইনে কেনাকাটা করছে। এতেই আমরা বুঝতে পারি আমাদের দেশের মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করতে ভালবাসে।

percentage পুরনো টিউন এডিটর অনলাইনে কেনাকাটা

দেখা যায় ১০ থেতে ১৫ বছরের মধ্যে ২৫% অনলাইনে কেনাকাটা করতে ভালবাসে, ১৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে যারা আছেন তাদের মধ্যে ৬৫% অনলাইনে কেনাকাটা করতে ভালবাসেন। সবশেষে ৩৬ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে যারা আছেন তাদের মধ্যে ১০% অনলাইনে কেনা কাটা করতে ভালবাসেন।

অনলাইনে কেনাকাটা সুবিধা সমূহ হলো

  • ঘরে বসেই আপনি যেকোন জিনিস এর জন্য অর্ডার করতে পারেন।
  • পন্যের সকল তথ্য সহজেই পাওয়া যায়। ফলে সেলসম্যানকে বার বার প্রশ্ন করার প্রয়োজন হয় না।
  • যেহেতু অনলাইনে সহজেই এক সাইট থেকে অন্য সাইটে ভিজিট করা যায় ফলে সহজেই পন্যে দাম এবং গুনগতমান তুলনা করা যায়।
  • সপ্তাহে ৭ দিন,দিনে ২৪ ঘন্টা এবং বৎসরে ৩৬৫ দিন সাভির্স পাওয়া যায়।
  • সহজেই স্বল্প সময়ে হরেক রকমারি সামগ্রী পছন্দ করা যায়।
  • বিভিন্ন উৎবকে ডে ডিসকান্ট ও কুপন সম্পর্কিত তথ্যাদি পাওয়া যায়।
  • যেহেতু ঘরে বসেই কেনাকাটা করা যায় ফলে যানবাহন খরচও সঞ্চয় করা যায়।
  • সবচেয়ে মজার ব্যবহার হলো অনলাইনে কেনাকাটায় করার ফলে যে সময়টা আপনি বাচালেন এই সময়ে আপনি অন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

এতক্ষন তো অনলাইনে কেনাকাটা অনেক গুনগান করলাম। চলেন এবার দেখি কিভাবে আপনি অনলাইনে শপিং করবেন।

  • প্রথমেই গুগলে গিয়ে সার্চ দেন “অনলাইনে শপিং ইন বাংলাদেশ”। দেখবেন হাজারো সাইট এসে হাজির, আপনি সেখান থেকে যেকোন একটি সাইটে প্রবেশ করে সাইন আপ এ ক্লিক করতে পারেন।
  • পরবর্তীতে একটি সাইন আপ এর ফর্ম আসবে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো প্রদান করে সাবমিট এ ক্লিক করেন। দেখবেন একটি স্বাগতম ম্যাসেজ আসবে।
  • পরবর্তীতে সাইন আপ করার সময় যে ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড দিয়েছিলেন সেই ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করেন।
  • তারপর যে পণ্যটি ক্রয় করতে চান সেই পন্যটিতে ক্লিক করলে দেখবেন প্রসিড/সাবমিট এর অপশন আসবে।
  • প্রসিড/সাবমিটে ক্লিক করার সাথে সাথে টাকা জমা দেওয়ার কিছু অপশন আসবে। সেখান থেকে যেকোন একটি পেমেন্ট মাধ্যম সিলেক্ট করতে পারবেন। আপনি যদি ক্যাশ অন ডেলিভারি সিলেক্ট করেন তাহলে আপনি পন্য রিসিভ করে পরে টাকা দিতে পারেন।

বুঝতে অসুবিধা হলে আমি একটি ভিডিও শেয়ার করছি সেখানে প্রত্যেকটি ধাপ বণর্না করা করেছি।

ভিডিও লিংকটি হলো

 আরেকটি ঘটনা শেযার না করে পাচ্ছি না

গত ঈদের বড় ভাইয়ের শুভ কাজ ছিল । অথার্ৎ বিয়ে। আমাদের এলাকায় বিয়েতে বউকে অনেক প্রসাধনী উপহার দিতে হয়। একটি প্রসাধনী কোন শপিং মলেই পাওয়া যচ্ছিল না । হঠাৎ করে মনে হল একটু গুগল করে দেখি তো । গুগল করার সাথে সাথে দেখি প্রিয়শপ.কম(priyoshop)এর একটি লিংক। লিংকে ক্লিক করে  যখন প্রসিড দিয়ে প্রমেন্ট অপশন ক্যাশ অন ডেলিভারী দিয়ে সাবমিট করি সাথে সাথে প্রিয়শপ.কম থেকে একজন ফোন করে বলে উঠল স্যার আপনি একটি পন্য এর জন্য অর্ডার দিয়ে ছিলেন । আমরা কি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারি। সত্যিই সাথে সাথে  ধরনের সার্ভিস খুবেই সন্তষজনক।

সবশেষে বলতে চাই আসুন ঘরে বসে পন্য ক্রয় করি সময়ের সৎ ব্যবহার করি ।

 

একটি উত্তর ত্যাগ