১৫ টি উপায় জেনে নিন ফেসবুক ব্যবহার কমানোর

0
452

১. লগইন করার সময়, “keep me logged in” অপসনে কখনই টিক দিবেন না। আর বিশাল সাইজের একটা লম্বা পাসওয়ার্ড দিবেন পারলে কমপক্ষে ৯০-৯৫ ক্যারেক্টার লম্বা। তাইলে পাসওয়ার্ড টাইপ করতে করতেই আঙ্গুল ব্যথা হয়ে যাবে- বিরক্তি চলে আসবে এবং দু-একবার টাইপ করতে গিয়ে ভুল করলে আপনাকে পুরা পাসওয়ার্ড আবার টাইপ করতে হবে। এইসব ক্ষেত্রে, ক্ষেপে গিয়ে আপনি আর ফেইসবুকেই লগইন করবেন না।

২. আপনার ফেসবুক একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড সেট করুন, “IAmAStupidPersonToUseFacebookAgainAndAgain” অথবা “lojjaKoreNa5MinPorPorFacebookeDhukte” বা “duiDinPorPorikkhaTaoAiGhadaPorenaKen” কিংবা “facebookELoginKoraArGulshanHaguLakeErPaniKhawaEkKotha”

৩. StayFocused নাম ক্রোম ব্রাউজারের একটা এক্সটেনশন আছে। সেটা “chrome web store” গিয়ে সার্চ দিয়ে ব্রাউজারে ইনস্টল করে ফেলেন। তাইলে কোনো একটা সাইটে সপ্তাহে কোন কোন দিন সর্বোচ্চ কতক্ষণ ব্যবহার করতে চান সেটা সেট করে ফেল্তে পারেন। সেই টাইম পার হয়ে গেলে ওই সাইট অটো ব্লক হয়ে যাবে। প্রতিদিন ফেইসবুকের জন্য নিদৃষ্ট পরিমান টাইম রাখুন। পরীক্ষার সময় বা কোন স্পেশাল কাজে মনোনিবেশের সময় পুরোপুরি ব্লক করতেও পারেন। আপনার যদি মনে হয় আপনি ৫ মিনিট পরে গিয়ে সেটিংস চেঞ্জ করে ফেল্বেন তাইলে, Require challenge নামে একটা অপসন আছে। সেখানে কমপক্ষে ৪৫০ ক্যারেক্টার লম্বা একটা বকাঝকা টাইপ কিছু সেট করতে হয়। এবং সেটা হুবহু টাইপ করতে পারলেই আপনি সেটিংস চেঞ্জ করতে পারবেন।টাইপ করার আলসেমির কারণে আপনার আর সেটিংস চেঞ্জ করা হবে না। btw, ওরাও কম চাল্লু না, কপি পেস্ট অপসন বন্ধ করে রাখছে।

৪. একটু পর পর ফেসবুকে সুন্দরী মেয়েদের নক করেন, “hi. hows going. girl you look nice on red dress. girl tell me why are you sad” টাইপ মেসেজ পাঠান। পরে উনি যখন আপনার বিরক্তিকর চেচরা ম্যাসেজের স্ক্রিনশট পোস্ট করে ট্যাগ করবে তখন আর লজ্জায় আপনার ফেসবুকে যাইতে ইচ্ছা করবে না।

৫. উইনডোজ বা পিসি ব্যবহার করলে কোনো সাইট পুরোপুরি ব্লক করে দিতে চাইলে। C:\Windows\System32\drivers\etc ড্রাইভে যান এবং host ফাইলটি notepad এ ওপেন করুন। এই ফাইলটির সবচেয়ে নিচে নতুন লাইনে লিখে দেন, “127.0.0.1 www.facebook.com” আরো সাইট ব্লক করতে চাইলে নতুন লাইনে লিখুন যেমন “127.0.0.1 www.youtube.com“। তারপর সেইভ করুন। ব্যস , কেল্লা ফতে। যেই ব্রাউজার খুলেন না কেনো ওই সাইট আর খুলবে না। বাচ্চাকাচ্চাদের আপনি যদি তাদের ল্যাপটপে কোন সাইট ব্লক করতে চান তাইলে এই ব্যবস্থা নিতে পারেন। অবশ্য আজকালকার পোলাপান আব্বুআম্মুদের কম্পুটার চালানো শিখায়।

ইনডাইরেক্ট অ্যাকশন:

৬. মোবাইলে ফেসবুক app আনইনস্টল করে ফেলুন। হাল্কা দরদ লাগলেও আনইনস্টল করে ফেলেন। এক্ষুনি, এই মুহুর্তে।

৭. ল্যাপটপ এক রুমে রেখে অন্যরুমে পড়তে যান। দরকার হলে বাসার বাইরে বা লাইব্রেরিতে পড়তে যান। ভুলেও ল্যাপটপ নিয়ে যাবেন না। আর ল্যাপটপে পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড বা পিডিফ ব্যবহার করতে হলে এমন জায়গায় যাবেন যেখানে ইন্টারনেট বা wifi নাই। তাইলে ডিস্ট্রাকটেড হবার চান্স থাকে না। অথবা wifi বন্ধ করে রাখেন। আপনি যদি বলেন আমার সার্চ দিতে হবে। তাইলে কি কি সার্চ দিতে হবে সেগুলা একটা কাগজে লিখে রাখেন। ১৫-২০ টা সার্চ দেয়ার আইটেম জমে গেলে একবারে সার্চ দেন।

৮. পোলাপানের কাছে গিয়ে পার্ট লন, “আমি ফেইসবুক ইউজ করি না” আপনার ভাব হচ্ছে, you are someone different.

৯. আপনার ফেসিবুক এক্টিভ রাখার দায়িত্ব আপনার বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডকে দিয়ে দেন পাসওয়ার্ড সহ। তবে সতর্ক থাকবেন, আদিমকালের মেসেজ হিস্ট্রি দেখে কার কার লগে সিস্টেম করার ট্রাই মারছেন সেগুলা খুঁজে বের করে আপনার অবস্থা হেমাটাইট করে ফেল্বে কিনা। তারউপ্রে, আপনি যে আড়ালে আবডালে আপনার bf বা gf এর ক্লোজ ফ্রেন্ডের লগে লাইন মারার চেষ্টা করতেছেন সেটা জেনে গেলে আপনার আমও যাবে ছালাও যাবে।

১০. বন্ধুদের সামনে ফেসবুক খোলা রেখে ৫ মিনিটের জন্য বাথরুমে যান। তারা নিজ দায়িত্বে যত্নসহকারে, আপনার হয়ে এমন সব স্টেটাস দিবে আর মাইনসেরে এমন সব মেসেজ পাঠাবে যে আপনার আর লজ্জ্বায় ফেসবুক ব্যবহার করতে ইচ্ছা করবে না। সেইরকমের স্টেটাসের একটা ভদ্র ভার্সন হচ্ছে, “এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি লুঙ্গির আচল, কখন যেনো জোরে বাতাস এসে, লুঙ্গির আচলে মুছে দিয়েছে চোখের কাজল”।

ফকিরামার্কা অ্যাকশন:

১১. টঙ্গের দোকানে বিড়ি টানতে গিয়ে একজনের কাছে আগুন চাইসেন, তারে ফ্রেন্ড বানানোর কিচ্ছু নাই। তবে, সুন্দরী বা হ্যান্ডসাম কাউরে এড রিকোয়েস্ট সেন্ড করার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নহে। খুব বেশি সুন্দরী হলে, প্রয়োজনে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ক্যানসেল করে আবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন। ক্ষেত্র বিশেষে দৈনিক ২৩ বার পাঠাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, ফেইসবুকে যার ফ্রেন্ড কম, আখেরাতে তার হিসাব সহজ হবে।

১২. চ্যাটে সবসময় অফলাইন হয়ে থাকবেন। খুব বেশি প্রয়োজন হলে মেসেজ দিবেন তবুও অনলাইন হওয়া যাবে না।

১৩. কোনো গেমস বা থার্ড পার্টি এপ্লিকেশন দেখলেই ঝাপাইয়া পড়ার কিছু নাই। খেলাধুলা মাঠে গিয়ে করবেন, ফেইসবুকে না। খামারে কাম করতে মনে চাইলে মাঠে গিয়ে বাপেরে হেল্প করেন। ফার্মভিলে খামার বানায় লাভ নাই। ক্রিমিনাল কেইসের জবানবন্দি আদালতে গিয়া দেন। চকলেটের স্বাদ কি ক্যান্ডি ক্রাশে খুঁজে কোনো লাভ নাই। আর গেইমস খেলার ইনভাইটেশন নোটিফিকেশন, ওই গেমস এ গিয়ে বন্ধ করে দেন। আর কেউ না বুইঝা গেইসের রিকোয়েস্ট বার বার সেন্ড করলে তারে নগদে আনফ্রেন্ড করে দেন।

১৪. সেটিংস এর নোটিফিকেশনে গিয়ে সব নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন। অবশ্যই ফালতু গ্রুপেরগুলার সব নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন, লেইম জোকস, মজা লস, হজর যা আছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ যেমন ক্লাস গ্রুপের নোটিফিকেশন এক্টিভ রাখা মার্জনীয়। কেউ ছবিতে বা স্টেটাসে ট্যাগ করলে আনট্যাগ বা নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন। কোনো জায়গায় কম্মেন্ট করছেন, তারপর অন্য মানুষের কম্মেন্ট এর নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন। মোবাইল app রাখলে, মোবাইলে নোটিফিকেশন এবং অটোসিঙ্ক বন্ধ করে দেন। কোনো ফ্রেন্ড যদি সারাদিন আজাইরা জিনিস শেয়ার দেয়, তার প্রোফাইলে গিয়ে আনফলো করে দেন।

১৫. যতবার ব্যবহার করবেন, ততবার লগ আউট করবেন। তবে একাউন্ট ডিএক্টিভ করলে আরো ভালো হয়। দিনে দরকার হইলে ১৭ বার করেন। আর না হয় ক্রোমে Ctrl + Shift + N প্রেস করে “New Incognito window” বা ফায়ারফক্স এ Ctrl + Shift + P প্রেস করে “New Private Window” ব্যবহার করেন। তাইলে পাসওয়ার্ড সেইভ করে রাখবে না। কখনো কখনো অন্যকারো ল্যাপটপে ইমেইল বা ফেসবুক ব্যবহার করলে সবসময় এইভাবে ব্যবহার করবেন তাইলে ব্রাউজার বন্ধ করে দিলে আর পাসওয়ার্ড মনে রাখবে না। আপনার লুঙ্গির আচলও উড়বে না।

LEAVE A REPLY

3 × four =