আধুনিক উইন্ডোজ ভার্সনে পুরনো প্রোগ্রাম রান করান

0
383

উইন্ডোজের প্রায় সব ভার্সনই ব্যাকওয়ার্ড কম্প্যাটিবল অর্থাৎ উইন্ডোজের নতুন ওএস পুরনো অ্যাপ্লিকেশন গুলোকে সাপোর্ট করে। এর ফলে সবাই বিশেষ করে কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনীয় ও গুরম্নত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো উইন্ডোজের নতুন ভার্সনে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এ ‡ÿত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি পুরনো প্রোগ্রামগুলো অনেকটা সেকেলের হয়ে যায়। সাধারণত ব্যবহারকারীদেরকে পরামর্শ দেয়া হয় পুরনো সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য। উইন্ডোজ এক্সপি বা তারও পুরনো কোনো উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের উপযোগী সফটওয়্যার কাজ করবে না, তাই ব্যবহারকারীদের উচিত পুরনো অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে আধুনিক কম্প্যাটিবল ভার্সন দিয়ে আপগ্রেড করে নেয়া।

সফটওয়্যার মিডিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী নয়

বিশ বছরের পুরনো সিডি চমৎকারভাবে প্লে করতে পারে আধুনিক সিডি প্লেয়ারে, আধুনিক রেকর্ড প্লেয়ারে চমৎকারভাবে রেকর্ডও প্লে করবে। আর ডিভিডি ভিডিও সবসময়ই ডিভিডি রিডিংয়ে সÿম হার্ডওয়্যার ডিভাইসে প্লে করে। তবে ১৫-২০ বছরের পুরনো সফটওয়্যার যেগুলো উইন্ডোজ ৯৫-এর জন্য তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলোর কথা ভিন্ন।
অডিও সিডি, ভিডিও, ডিভিডি ইত্যাদি রের্কডও করতে পারে। এগুলোর সবই স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাটের মিডিয়া। অন্যভাবে বলা যায়, একটি অডিও সিডির রয়েছে অডিও ডাটা। কমপিউটার এই অডিও ডাটাকে তার নিজের উপযোগী হিসেবে ইন্টারপ্রেট করে। এ কারণেই ১৯৮০ সালের তৈরি একটি অডিও সিডি উইন্ডোজ ৮ পিসিতে, ম্যাকে বা অন্য যেকোনো ডিভাইসে প্লে করতে পারে, কেননা কমপিউটার জানে কীভাবে অডিও সিডি ইন্টারপ্রিট তথা রূপামত্মর করতে হয় এবং নিজের মধ্যে যত্ন করতে পারে। এ ‡ÿত্রে কোন ধরনের অপারেটিং সিস্টেমে বা কোন ধরনের ডিভাইসে অডিও সিডি প্লে করছে, তা বিবেচ্য বিষয় নয়।

কেননা সফটওয়্যারের ‡ÿত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সফটওয়্যারের ‡ÿত্রে স্ট্যান্ডার্ড বলতে কিছু নেই যে সব কমপিউটারকে জানতে হবে কীভাবে ইন্টারপ্রেট করতে হয়। আসলে সফটওয়্যার হলো কোড, যা কমপিউটারে রান করে। কমপিউটারকে কী করতে হবে তা সফটওয়্যারই ঠিক করে দেয়। উইন্ডোজ ৩.১ বা উইন্ডোজ ৯৫-কে খুবই বিভ্রান্তকর মনে হতে পারে যদি তা উইন্ডোজ ৭ বা উইন্ডোজ ৮-এ রানিং অবস্থায় দেখা যায়। কেননা এটি সেসব ফাইল খোঁজ করে যেগুলোর অসিত্মত্ব বর্তমানে আর নেই এবং তাই এই অপরিচিত পরিবেশে রান করতে প্রত্যাখ্যান করবে।

উইন্ডোজ সবসময় তার ব্যবহারকারীদেরকে সর্বোত্তম সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করে। তাই উইন্ডোজের প্রতিটি নতুন ভার্সনে সমন্বিত রয়েছে উইন্ডোজের ব্যাকওয়ার্ড কম্প্যাটিবিলিটি। আর এজন্যই উইন্ডোজ তার ব্যবহারকারীদের কাছে খুবই সমাদৃত, বিশেষ করে যারা তুলনামূলকভাবে পুরনো সফটওয়্যার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। উইন্ডোজে পুরনো সফটওয়্যারগুলো যতটুকু সম্ভব সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা গেলেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হলো, উইন্ডোজের সবচেয়ে আধুনিক ভার্সনও উইন্ডোজ ৯৫-এর প্রোগ্রাম রান করাতে পারে। উইন্ডোজ ৯এক্স সিরিজের ভিত্তি হলো ডস এবং উইন্ডোজ এক্সপি ও উইন্ডোজের পরবর্তী ভার্সনের ভিত্তি হলো উইন্ডোজ এনটি কার্নেল, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের অন্তর্গত।

পুরনো প্রোগ্রাম যেভাবে রান করা যায়

সম্ভব হলে পুরনো সব সফটওয়্যারকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তবে কখনা কখনও তা মোটেও সম্ভব হয়ে ওঠে না। ধরম্নন, আপনার কাছে ব্যবসায় সংশিস্নষ্ট একটি পুরনো জটিল অ্যাপ্লিকেশন কিংবা একটি পুরনো পিসি গেম রয়েছে, যা রান করাতে হবে। যেহেতু এগুলো অনেক দিনের পুরনো, তাই এগুলো রান করানোর জন্য উদ্ভিগ্ন থাকার কোনো কারণ নেই, কেননা এসব পুরনো অ্যাপ্লিকেশন বা গেম রান করানোর উপায়ও রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে নিচে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উইন্ডোজ ৭-এ কম্প্যাটিবিলিটি মোডে প্রোগ্রাম ব্যবহার করা
উইন্ডোজ ৭-এ কোনো ড্রাইভার অথবা অন্য কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করার পর যদি দেখেন সেটি আপনার নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সাথে কম্প্যাটিবল নয়, তাহলে নিশ্চয় খুব বিরক্তিকর এক ব্যাপার হবে। এ ‡ÿত্রে কার্যকরভাবে সহায়তা পেতে পারেন প্রোগ্রাম কম্প্যাটিবিলিটি অ্যাসিসট্যান্স ও ট্রাবলশুটিং কম্প্যাটিবিলিটি ইস্যু ব্যবহার করে, যাতে প্রোগ্রাম যথাযথভাবে সফলতার সাথে ইনস্টল হয়।

প্রোগ্রাম কম্প্যাটিবিলিটি অ্যাসিসট্যান্ট

প্রোগ্রাম কম্প্যাটিবিলিটি হলো এমন এক মোড, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজের আগের ভার্সনের জন্য লেখা প্রোগ্রামগুলোকে রান করাতে পারবেন। প্রোগ্রাম কম্প্যাটিবিলিটি অ্যাসিসট্যান্ট টুল শনাক্ত করে কম্প্যাটিবিলিটি ইস্যু এবং ব্যবহারকারীদেরকে অনুমোদিত সেটিং ব্যবহার করে রিইনস্টলেশনের সুযোগ দেয়। ধরম্নন, হোম রেকর্ডিংয়ের জন্য আপনি একটি মিউজিক ইন্টারফেস ডিভাইস ড্রাইভার ইনস্টল করতে গিয়ে একটি এরর মেসেজ পেলেন।
এরর মেসেজ বন্ধ করার পর প্রোগ্রাম কম্প্যাটিবিলিটি অ্যাসিসট্যান্ট স্ক্রিন আবির্ভূত হবে, যেখানে উলেস্নখ থাকে প্রোগ্রাম যথাযথভাবে ইনস্টল করা হয়নি। এটিকে আবার ইনস্টল করার জন্য Reinstall using recommended settings অপশন সিলেক্ট করম্নন এবং পরবর্তী ধাপগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করলে ড্রাইভার ইনস্টল হবে সফলতার সাথে। এ ক্ষেত্রে সমস্যাটি ছিল ড্রাইভার সংশিস্নষ্ট, যা উইন্ডোজ ভিসত্মার জন্য ডিজাইন করা। অ্যাসিসট্যান্ট টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিলেক্ট করে নেয় সঠিক কম্প্যাটিবিলিটি মোড এবং তা ইনস্টল করে ব্যবহার করার জন্য।
উইন্ডোজের কম্প্যাটিবিলিটি সেটিং ব্যবহার করা

উইন্ডোজের রয়েছে বিল্ট-ইন কম্প্যাটিবিলিটি মোড সেটিং, যা প্রোগ্রামকে কাজে সহায়তা করে। এজন্য একটি প্রোগ্রামের শর্টকাটে ডান ক্লিক করে প্রোপার্টিজ সিলেক্ট করম্নন এবং এরপর কম্প্যাটিবিলিটি ট্যাবে ক্লিক করম্নন। এখান থেকে আপনি উইন্ডোজের ভার্সন বেছে নিতে পারবেন, যার অন্তর্গত প্রোগ্রাম রান করে। উইন্ডোজ চেষ্টা করবে কৌশলী হতে, যাতে প্রোগ্রাম উইন্ডোজের পুরনো ভার্সনে রান করে। তবে এটি সব পুরনো প্রোগ্রামে কাজ করে না। এ ক্ষেত্রে সহায়তা পাবেন Program Compatibility Troubleshooter নামের টুল থেকে, যা চেষ্টা করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোগ্রামের জন্য সঠিক কম্প্যাটিবল মোড সেটিং খুঁজে বের করতে।

উইন্ডোজ ৮-এ যেভাবে উইন্ডোজ এক্সপি মোড পাবেন
উইন্ডোজ ৮-এর সাথে উইন্ডোজ এক্সপি মোড সম্পৃক্ত করা হয়নি। মাইক্রোসফট খুব শিগগির এক্সপির জন্য সব ধরনের সাপোর্ট বন্ধ করে দেবে, কেননা মাইক্রোসফট চাচ্ছে না যেকেউ উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করম্নক। এমনকি ভার্চুয়াল মেশিনেও না। তবে যাই হোক, উইন্ডোজ ৮-এ খুব সহজে আপনার জন্য নিজস্ব উইন্ডোজ এক্সপি মোড সেটআপ করতে পারবেন।
আপনি উইন্ডোজ এক্সপিকে ভার্চুয়ালাইজ করতে পারবেন যেকোনো ভার্চুয়াল মেশিন প্রোগ্রামে। তবে ভিএমওয়্যার পেস্নয়ার ইন্টিগ্রেশন ফিচারের মতো অফার করে উইন্ডোজ এক্সপি মোড। এখানে আপনি উইন্ডোজ এক্সপি অ্যাপিস্নকেশনের জন্য সরাসরি শর্টকাট তৈরি করতে পারবেন, যার থাকবে প্রতিটি ভার্চুয়ালাইজড প্রোগ্রামের জন্য ইউনিক টাস্কবার আইকন।
প্রথমে আপনার কমপিউটারে ভিএমওয়্যার পেস্নয়ার ডাউনলোড ও ইনস্টল করে নিন। এরপর উইন্ডোজ ৮-এ উইন্ডোজ এক্সপি ইন্টিগ্রেট করে নিন। এবার ভিএমওয়্যার পেস্নয়ার মেনুতে ক্লিক করে ইউনিটি সিলেক্ট করম্নন। এটি এনাবল করবে একটি বিশেষ মোড, যেখানে আপনার উইন্ডোজ এক্সপির অ্যাপিস্ন-কেশন রান করবে উইন্ডোজ ৮ ডেস্কটপে।

পিসি গেমে ট্রাবলশুট ইস্যু
ধরম্নন আপনি ২৫ বছরের পুরনো কোনো মুভি দেখতে চাচ্ছেন কিংবা ২৫ বছরের পুরনো কোনো গেম খেলতে চাচ্ছেন। যাই হোক, গেমগুলো হলো সফটওয়্যার এবং ২৫ বছর আগের গেমগুলো রান করানোর জন্য দরকার সে সময়ের সফটওয়্যার অর্থাৎ ডস যুগের সফটওয়্যার। এ সময়ের অর্থাৎ ২৫ বছর আগের প্রোগ্রাম, যা এখন ব্যবহারকারীরা এড়িয়ে চলেন।
আগেই উলেস্নখ করা হয়েছে, প্রায় সব পিসিই ব্যাকওয়ার্ড কম্প্যাটিবল। তবে এ ক্ষেত্রে কখনও কখনও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ডসের জন্য ডিজাইন করা গেম উইন্ডোজের আধুনিক ভার্সনের সাথে যথাযথভাবে কাজ করতে পারে না যদি না তা ঠিকভাবে টোয়েক করা হয়।

ডস গেমের জন্য ডসবক্স
বেশিরভাগ ডস গেম উইন্ডোজের আধুনিক ভার্সনে কাজ করতে পারে না। এমনকি কমান্ড প্রম্পটেও রান করে না। কেননা কমান্ড প্রম্পট সম্পূর্ণ ডস পরিবেশ প্রদান করে না, যা সমকক্ষ হতে চেষ্টা করে সাউন্ড বস্নাস্ট কার্ডের লো- লেভেল অ্যাক্সেসসহ অন্যান্য বিষয়ের ওপর, যেগুলোর ওপর ডস গেম নির্ভর করে।
আধুনিক উইন্ডোজ ভার্সনে ডস গেম রান করাতে চাইলে ইনস্টল করতে হবে ডসবক্স নামের এক টুল। এই টুল ম্যাক ও লিনআক্স পরিবেশের জন্যও রয়েছে

একটি উত্তর ত্যাগ