ট্যাবলেট কমপিউটার কেনার কথা ভাবছেন? তার আগে জেনে নিন ট্যাবলেট পিসি দিয়ে যা কিছু সম্ভব নয়

0
701

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ট্যাবলেট পিসির অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয় নিচে বর্ণনা করা হলো।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ট্যাবলেট পিসি ট্যাবলেট কমপিউটার কেনার কথা ভাবছেন? তার আগে জেনে নিন ট্যাবলেট পিসি দিয়ে যা কিছু সম্ভব নয়স্টোরেজ সীমাবদ্ধতা :
সম্প্রতি বাজারে আসা আইপ্যাডে উন্নতমানের ঝকঝকে গ্রাফিক্স ছাড়াও ফোরজি এলটিই ওয়্যারলেস ও সম্মুখ ক্যামেরা সংযোজন করা হয়েছে। একই সাথে এতে রয়েছে ১৬-৬৪ গি.বা. ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টোরেজ। তবে এখনো এতে বহনযোগ্য কোনো স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করার সস্নট সংযোজন করা হয়নি। যখন ট্যাবলেট পিসি ব্যবহারকারীরা ১২৮ গি.বা. স্টোরেজ আশা করছেন সে সময় ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কমপিউটারে সংযোজন রয়েছে যথাক্রমে ১ টিবি থেকে ২ টিবি ধারণক্ষমতার স্টোরেজ। যদিও আইপ্যাডের জন্য আইক্লাউডে এবং উইন্ডোজ ৮ ট্যাবলেটের জন্য মাইক্রোসফটের স্কাইড্রাইভে তথ্য-উপাত্ত রাখার সুবিধা রয়েছে। তবে একথা সত্য, ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকা অবস্থায় এর গুরম্নত্ব থাকলেও ইন্টারনেটবিহীন অবস্থায় লোকাল স্টোরেজই একমাত্র ভরসা।

নিরাপত্তায় দুর্বলতা :
একথা বলা হয়ে থাকে, আধুনিক মোবাইল প্রযুক্তির এই যন্ত্রটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। আর একথাই বিশ্বাস করেন এর উন্নয়ন কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা। গত মার্চে ইউরোপের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা বিষয়ক কনফারেন্স ব্ল্যাক হ্যাট ইউরোপ ২০১২-এ রাশিয়াভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলকম সফট একটি গবেষণা মূল্যায়ন উপস্থাপন করে। আর এই পুরো বিষয়টি ছিল ট্যাবলেট পিসির, বিশেষ করে আইওএসের ভিন্ন ভিন্ন ১৩টি স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে। এই মূল্যায়ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এর মধ্যে শুধু একটি জায়গার পাসওয়ার্ডই অত্যন্ত কঠোর ছিল এবং তিনটি জায়গার পাসওয়ার্ডে কোনো রকম এনক্রিপশনই করা হয়নি। সম্প্রতি সান ফ্রান্সসিকোতে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তাবিষয়ক কনফারেন্সে মোবাইল প্রযুক্তিতে ব্যবহার হওয়া হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের নিরাপত্তার দুর্বল দিক নিয়ে দু’টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, এসব দুর্বলতাই মোবাইল প্রযুক্তির দ্রম্নত প্রসারে বড় অন্তরায়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সমস্যা :
কারখানা, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টের মতো স্থানগুলোতে দৈনন্দিন জীবনের কাজের অনেক ক্ষেত্রেই এখন পিসির পরিবর্তে ট্যাবলেট কমপিউটার ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় ধরে এই যন্ত্রটি ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে? ২০১১ সালে হার্ভার্ড ও মাইক্রোসফট একটি যৌথ গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ করা হয়, ট্যাবলেট ব্যবহার করার ফলে মাথা ও ঘাড়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। তবে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের ততটা দেখা যায় না। এক পাউন্ডের একটি বস্ত্ত ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে এক হাতের ওপর রেখে কাজ করলে হাতের পেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

গেমিং সহায়ক নয় :
এই সময় বাজারে যেসব ট্যাবলেট পিসি রয়েছে তার মধ্যে অ্যাপলের আইপ্যাড রেন্টালের ডিসপেস্নতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়াড কোর গ্রাফিক্স প্রযুক্তি। তারপরও গেমপ্রেমীদের জন্য ট্যাবলেট পিসি ততটা গুরম্নত্ব সৃষ্টি করতে পারেনি। এর সাহায্যে অ্যাংরিবার্ড, ফ্রুট নিনজা এবং অ্যাপলের ডেমো-ফেব ও দি ইনফিনিটি বেস্নড সিরিজের মতো সুইপিং গেমস খুবই স্বচ্ছন্দের সাথে খেলা সম্ভব। কিন্তু ট্যাবলেট পিসির টাচ ডিসপেস্ন গেমপ্যাড বা কিবোর্ডের সাথে সামঞ্জস্য নয়, এর ফলে শুটিং গেমর মতো অনেক জনপ্রিয় গেম এটি দিয়ে খেলা সম্ভব নয়।

প্রিন্টিংয়ে সমস্যা :
ডকুমেন্ট প্রিন্ট আমাদের প্রতিদিনের কর্মকান্ডে একটি গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ট্যাবলেট পিসি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে একটু হলেও সমস্যা রয়েছে। যদিও কোনো প্রতিষ্ঠান একই ধরনের ট্যাব অর্থাৎ একই ওএসের ট্যাব ব্যবহার করে, তবে সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি প্রিন্টার ব্যবহার করলেই কাজ করা সম্ভব। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ওএসের ক্ষেত্রে নিশ্চিত সমস্যা। আইওএস ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের এয়ারপ্রিন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এর সাহায্যে ওয়্যারলেস পদ্ধতিতেও ডকুমেন্ট প্রিন্ট দেয়া সম্ভব। এছাড়া প্রচলিত প্রিন্টার ভেন্ডর, যেমন- ক্যানন, এইচপি, এপসনের প্রিন্টারও এই পদ্ধতিতে কাজ করে। কিন্তু অ্যান্ড্রোয়েড ওএসের ট্যাবগুলো আবার একই পস্নাটফরমে কাজ করে না অর্থাৎ প্রচলিত সব প্রিন্টারের সাথে সরাসরি কাজ করে না। এটি মূলত কাজ করে ফিলিপ ডগ সল্যুশন্সের ইজি প্রিন্ট অ্যাপসের মাধ্যমে। এই অ্যাপস ডকুমেন্টগুলো গুগল ক্লাউড প্রিন্টের সাহায্যে প্রিন্ট করার পাশাপাশি ই-মেইল করতে সক্ষম। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীরা নিশ্চয়ই এই ধরনের ঝামেলা পোহাতে চাইবেন না। তাদের প্রত্যাশা একটি স্বতন্ত্র পস্নাটফরম, যার মাধ্যমে সহজেই কাজ করতে পারবেন।

ডাটা রাইট :
আধুনিক নতুন প্রযুক্তির দাপটে পুরনো অনেক ডিভাইস হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফ্লপি ড্রাইভ। আর কিছুদিন গেলে হয়তো প্রযুক্তিপণ্যের তালিকা থেকে আরেকটি নামও হারিয়ে যাবে- তা হলো অপটিক্যাল ড্রাইভ। আর বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী গুরম্নত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্য ট্যাবলেট পিসিতে তো অপটিক্যাল ড্রাইভ থাকার বিষয়টি ভাবাই যায় না। এখনও যেহেতু সিডি, ডিভিডি ও বস্নু-রে ডিস্কের মতো স্টোরেজ সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে প্রয়োজনীয়, ক্ষেত্রে ডাটা সংরক্ষণের জন্য এটি রাইট করার দরকার হয়। তাছাড়া ট্যাবলেট পিসিতে এখনো স্টোরেজ খুব একটা বেশি নয়, ডাটা সংরক্ষণ করতে হলে কখনই তা রাইট করে রাখা সম্ভব হবে না। একইভাবে ব্যবহারকারীর কোনো ফাইল যদি ডিভিডি বা বস্নু-রে ডিস্কে সংক্ষিত থাকে তাহলে একে স্থানান্তর করতে হলে প্রথমে এসব তথ্য-উপাত্ত ক্লাউডে সংরক্ষণ করতে হবে, যা পরে ট্যাবলেটে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ