স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন? তার আগে অবশ্যই কিছু দিন বিবেচনা করে নিবেন

0
491

বর্তমান বাজারে স্মার্টফোনের প্রচুর চাহিদা। মোবাইল ফোন প্রস্ত্ততকারী কোম্পানিগুলো এই চাহিদার কথা ভেবে তাদের স্মার্টফোনগুলো ডিজাইন করছে। স্মার্টফোন তৈরির ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন বিষয় ভেবে দেখছে। কেউ বড় স্পর্শকাতর পর্দার স্মার্টফোন পছন্দ করেন, আবার কারো দরকার হার্ডওয়্যার কিবোর্ড, কেউ মিনি কমপিউটার হিসেবে ব্যবহার করতে চান, আবার কেউ কলের গুণগত মান যাচাই করেন, কেউ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করেন, কেউ করেন নিতান্ত শখের বসে। বাজারে এত স্মার্টফোনের মাঝে আপনারটি বেছে নেয়া সত্যি কঠিন। তুলনামূলকভাবে স্মার্টফোন কেনার খরচটা বেশি। তাই কেনার পর এর সুযোগ-সুবিধা যাচাই করার চেয়ে ভালো কেনার আগেই ভেবে দেখা। কিছু কিছু বিষয় ভেবে দেখলে হয়তো আপনার দরকারি স্মার্টফোনটি বাছাই করা সহজ হবে।

কোন অপারেটিং সিস্টেমটি আপনার দরকার

আপনি যদি প্রাত্যহিক কাজের জন্য গুগলের সেবার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হন, তবে অ্যান্ড্রোয়িড অপারেটিং সিস্টেমযুক্ত স্মার্টফোন বেশি কাজের হবে। সার্চ ইঞ্জিন, জি-মেইল, গুগল ড্রাইভ, গুগল ক্যালেন্ডার, গুগল ম্যাপ, ইউটিউব ইত্যাদি সেবা ভালো পাওয়া যাবে অ্যান্ড্রোয়িড ফোনে। অন্যদিকে আপনার বেশিরভাগ কাজ যদি মাইক্রোসফট অফিস সফটওয়্যার ভিত্তিক হয়, সেক্ষেত্রে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমে বেশি ভালো সেবা পাবেন কারণ ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, অ্যাক্সেস বা আউটলুকের মতো অ্যাপ্লিকেশন উইন্ডোজ ফোনে বিল্ট-ইন থাকে। অ্যাপলের আইওএস তাদের জন্য ভালো হবে যাদের অ্যাপলের অন্যান্য পণ্য আছে বা তাদের সেবা ব্যবহারে অভ্যস্ত। তবে এখনও পেশাদার মানুষদের কাছে ব্ল্যাকবেরি তুমুল জনপ্রিয়। ব্যবসায়িক যোগাযোগ রক্ষার জন্য ব্ল্যাকবেরি সত্যি অতুলনীয়। এখন আপনাকেই ভেবে দেখতে হবে আপনার কাজের ধরন কেমন।

থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন পাওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন

মোটামুটি সব স্মার্টফোনের জন্য থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন সুবিধা থাকলেও এই সেবাটি ভালো পাওয়া যায় গুগলের অ্যান্ড্রোয়িড এবং অ্যাপলের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে। হাজার হাজার অ্যাপসের পাশাপাশি প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন অনেক অ্যাপ্লিকেশন। তাই আপনার লক্ষ্য যদি হয় প্রচুর অ্যাপস ইনস্টল করে স্মার্টফোনটিকে আরও বেশি উৎপাদনশীল করে তোলা, তাহলে এই দু’টি অপশনের মধ্যে একটি বেছে নিন।

স্মার্টফোনটির ডিজাইন কি আপনার মনের মতো?

যারা শৌখিন এবং স্মার্টফোন কিনবেন অনেকটা শখ মেটাবার জন্য তাদের জন্য রয়েছে প্রচুর অপশন। কারণ সব স্মার্টফোন প্রস্ত্ততকারী কোম্পানির লক্ষ থাকে পণ্যের ডিজাইনের ওপর। অ্যাপলের আইফোন এক্ষেত্রে অন্যতম পছন্দ হতে পারে। এছাড়া এইচটিসি, স্যামসাং এবং নোকিয়ার স্মার্টফোনগুলোর ডিজাইন চমৎকার। স্মার্টফোনের ডিজাইনের ক্ষেত্রে আউটলুক যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভেতরের ব্যাপারটাও ঠিক ততটাই। মোবাইলের পর্দার ভূমিকাও অনেকখানি। সবকিছু দেখার পর নির্বাচন করুন আপনার পছন্দের স্মার্টফোনটি।

জেনে নিন ব্যাটারির আয়ু

স্মার্টফোনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারি লাইফ। অত্যাধুনিক সব সুবিধা, বড় পর্দা, উঁচুগতির ইন্টারনেট সংযোগ, মিউজিক প্লেব্যাক সব মিলিয়ে অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারী অভিযোগ তুলেছেন তাদের ব্যাটারির স্থায়িত্ব কম এবং প্রায় বেশিরভাগ সময় চার্জ করতে হয়। নিঃসন্দেহে এটি খুব বিরক্তিকর। তাই আগেই দেখে নিন ব্যাটারির আয়ু কেমন। সাধারণত টক টাইম এবং স্ট্যান্ডবাই টাইমে ব্যাটারির জীবনীশক্তি বিচার করা হয়। প্রতিটি স্মার্টফোনের ওয়েবসাইটে ব্যাটারি আয়ু সংক্রান্ত তথ্য দেয়া থাকে। কেনার আগে তা দেখে নিন।

স্মার্টফোনে কি পরিমাণ স্টোরেজ দরকার?

ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল-স্মার্টফোনে এই দু’ধরনের কিংবা এর যেকোনো একটি মেমরি থাকে। স্মার্টফোন নির্বাচন করার আগে মেমরির পরিমাণ দেখে নিন। যদি শুধু ইন্টারনাল মেমরি থাকে তাহলে নিশ্চিত করে নিন যে সেই মেমরিটুকু আপনার জন্য পর্যাপ্ত। আর এক্সটারনাল মেমরির সুবিধা থাকলে ঠিক কতটুকু মেমরি বাড়ানো যাবে তাও দেখে নিন।

মাল্টিমিডিয়া সুবিধা যাচাই করে নিন

প্রায় সব স্মার্টফোনে থাকে উঁচুমানের ক্যামেরা। ক্যামেরার গুণগত মান নির্ধারণ করা হয় সাধারণত মেগাপিক্সেলের পরিমাণ, অপটিক্যাল জুম, ভিডিও ফ্রেম রেট ইত্যাদির ওপর। ভিডিওকলের ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি ক্যামেরা খুব কার্যকর। এছাড়া অডিও-ভিডিও ধারণ ও প্লেব্যাক, বাসার কমপিউটারটির সাথে সিনক্রোনাইজেশন ইত্যাদি বিষয় দেখে নিতে হবে।

টাচস্ক্রিন নাকি কোয়ার্টি কিবোর্ড?

যদিও বেশিরভাগ মানুষ টাচস্ক্রিন স্মার্টফোন পছন্দ করেন। কারণ টাচস্ক্রিন ফোন দেখতে সুন্দর, স্লিম, বড় পর্দার হয়। অপরদিকে হার্ডওয়্যার কিবোর্ডযুক্ত স্মার্টফোন আকারে কিছুটা মোটা অথবা ছোট পর্দার হয়ে থাকে। তবে এতে সুবিধা হলো খুব দ্রুত টাইপ করা যায়।

বাজেট কেমন হবে?

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার বাজেট। পকেটের কথা বিবেচনায় রেখে তারপর সুবিধার কথা ভাববেন। নইলে সবকিছু নির্বাচন করার পর হয়তো আপনাকে হতাশ হতে হবে।

এছাড়া আরও কিছু বিষয় রয়েছে যা আপনার স্মার্টফোন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন প্রসেসর, র‌্যাম, কলের গুণগত মান, ইন্টারনেটের গতি, জিপিএস সুবিধা ইত্যাদি। সবকিছু বিবেচনায় এনে তারপর স্মার্টফোন কিনুন। এজন্য কিছুটা সময় ব্যয় করতে কার্পণ্য করবেন না। আর তথ্যের সবচেয়ে বড় উৎস ওয়েবসাইট। স্মার্টফোনের নিজ নিজ ওয়েবসাইটের পাশাপাশি জিএসএম অ্যারেনা নামের ওয়েবসাইটটিতে ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন (ঠিকানা : http://www.gsmarena.com), যেখানে বিভিন্ন স্মার্টফোন পাশাপাশি তুলনা করে দেখার সুবিধা আছে।

একটি উত্তর ত্যাগ