মগজটিকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগানোর চর্চা করতে সেরা ১০টি অ্যাপস

0
536
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা চাকরির ক্ষেত্র সবখানেই মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহার জরুরি। এ জন্য মগজটিকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগানোর চর্চা প্রয়োজন। বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। মোবাইল বা কম্পিউটারে বিভিন্ন অ্যাপস রয়েছে যার ব্যবহারে বুদ্ধিমত্তা বাড়ে। ইমোরি ইউনিভার্সিটির সাইকিয়াট্রির প্রফেসর নাদিন কাসলো বলেন, এ সকল অ্যাপ মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং দৈহিক ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি শুধু মানসিক স্বাস্থ্যে উন্নতিই নয়, এগুলো মস্তিষ্ককে ব্যবহারের পদ্ধতিও শেখায়। এখানে জেনে নিন এমনই ১০টি কার্যকর অ্যাপসের কথা।
১. লুমোসিটি : এই জনপ্রিয় অ্যাপটি কয়েকটি লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনযোগ, সমস্যার সমাধান, গতির সঙ্গে কাজ করা ও সমৃদ্ধ চিন্তাশীলতা। ঘড়ির বিপরীতে এর গেমসগুলো খেলতে হয়। প্রস্তুতকারকরা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত একবার এই গেম খেললে মানসিক দক্ষতা বাড়ে।
 
২. কগনিফিট ব্রেইন ফিটনেস : স্মৃতিশক্তি ও মনযোগ বাড়ানোর কাজটি মজার সঙ্গে করার সুযোগ করে দিয়েছে এই অ্যাপটি। উন্নতির পথ খুঁজে নিতে এবং মস্তিষ্কের পুরোপুরি ব্যবহার করা যাবে এর মাধ্যমে। প্রোফাইলে সহজ ও কঠিন পন্থা বেছে নেওয়াসহ অন্য কারো সঙ্গে প্রতিযোগীতায় নামা যাবে।
 
৩. পারসোনাল জেন : দুটো চরিত্রের একটি বেছে নিতে হবে। একটি চরিত্র বন্ধুত্বপূর্ণ এবং শান্ত। আর অপরটি রাগী। নিউ ইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি এবং হান্টার কলেজের প্রফেসর ড. ডেনিস এবং তার দল এই অ্যাপটি বানিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইতিবাচক বিষয়গুলো ওপর মনযোগ রাখা এবং নেতিবাচকগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। এতে পৃথিবীটাকে আরো ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা যাবে।
 
৪. ব্রেইন ট্রেইনার স্পেশাল : লুমোসিটির মতোই এই অ্যাপটিতে গেমস রয়েছে যা অক্ষরের ধারাবাহিকতাসহ সমস্যার সমাধান বের করতে শেখায়। এটি গাণিতিক সমস্যা সমাধানে দক্ষতা বাড়ায়।
 
৫. ব্রেইন ফিটনেস প্রো : এতে মেমোরি এক্সারসাইজের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া দেওয়া রয়েছে। এতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিসহ সমস্যা সমাধানের পথ বের করার চর্চা চালানো যাবে।
 
৬. হ্যাপিফাই : মস্তিষ্ককে সুখ-শান্তি দিতে হলে এই অ্যাপটি জরুরি। এর মাধ্যমে নেতিবাচক চিন্তা দূর করাসহ, তৃপ্তিকর অনুভূতি, বিষণ্নতা দূর করাসহ ইতিবাচক মানসিকতা ধারণ করা শেখা যায়।
 
৭. পজিটিভ অ্যাকটিভিটি জ্যাকপট : পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার সমস্যায় সুফল পেতে এই অ্যাপটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। তা ছাড়া সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা থেকে মুক্তি দেবে এটি। যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখাবে এই অ্যাপটি। প্রতিদিন একটি সময়ের জন্য হলেও মনটাকে প্রশান্তি দিতে এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন।
 
৮. ফিট ব্রেইনস ট্রেনার : দারুণ গেমস আর পাজলের মাধ্যমে আপনার চিন্তাশক্তি বাড়াতে এবং তৎক্ষণাত সঠিক সিদ্ধান্তে যেতে এই অ্যাপটি প্রয়োজন। এটি খেলার জন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা রয়েছে।
 
৯. ইডেটিক : গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর বা নাম বা প্রয়োজনীয় শব্দ মনে রাখতে পদ্ধতি শেখাবে এটি। এই অ্যাপ ব্যবহার করলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর, ফোন নম্বর ইত্যাদি মুখস্থ রাখার পেশাদার পদ্ধতি শিখতে পারবেন।
 
১০. রিলিফলিঙ্ক : আত্মহত্যা প্রবণতা বন্ধের জন্য ড. কাসলোর বানানো এই অ্যাপটি পুরষ্কার পেয়েছে। এর মাধ্যমে আপনার মানসিক অবস্থা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলোমেলো উপাদান এক করে তা আদর্শ অবস্থায় নিয়ে আসতে পারবেন। এতে আরো রয়েছে ভালো কিছু অনুকরণের পদ্ধতি, মনটাকে শান্ত করার সঙ্গীত এবং মিউজিক। তা ছাড়া এর ম্যাপ আপনার আশপাশের সাইকিয়াট্রিস্ট ও মনোবিজ্ঞানীদের অবস্থান শনাক্ত করতেও সহায়তা করে।

একটি উত্তর ত্যাগ