মুখের কালো দাগের চিকিৎসা.

0
943

444 মুখের কালো দাগের চিকিৎসা.

Tunerpage আমার প্রথম পোস্ট

মুখের কালো দাগ বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। সাধারণভাবে দাগ বলতে আমরা কেবল মেছতাকেই বুঝি। মেছতা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কালো দাগ মুখে হতে দেখা যায় নানা রোগের কারণে। 

প্রথমেই মেছতার কথায় আসা যাক। মেছতা সাধারণত কালো বা বাদামি রঙের দাগ, যা মুখমণ্ডলের যে কোনো স্থানেই হতে পারে। মেছতা সাধারণত মেয়েদেরই বেশি হয়ে থাকে। মেছতা হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও আবিষ্কৃৃত হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হরমোনের তারতম্যজনিত কিছু রোগ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, ইস্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, গর্ভাবস্থা এবং সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ইত্যাদি কারণে মেছতা হতে ও যাদের সামান্য মেছতা আছে তা বাড়িয়ে তুলতে পারে। মেছতার ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাবও বিদ্যমান। যাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে মেছতা থাকে তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যে এর প্রভাব ঝুঁকি থাকে খুবই বেশি। সূর্যরশ্মির প্রভা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো মেছতার গাড়ত্ব সূর্যরশ্মির প্রভাবে বেড়ে যায়। তাই সূর্যরশ্মির আলো সব সময় এড়িয়ে চলতে হবে। আর যদি সূর্যের আলোতে যেতেই হয় তাহলে মুখ ঢেকে যেতে হবে। সেটা হতে পারে একটি ছোট্ট ছাতা, কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা কিংবা সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করলেও সূর্যের অতি বেগুনি প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা যায়। অনেকে আবার ভাবেন সূর্যরশ্মির মতো চুলার আগুনেও এর ক্ষতি হয়। ধারণাটি সম্পূর্ণই ভুল। চুলার আগুনের তাপে মেছতার কোনো ক্ষতি হয় না। 
মনে রাখতে হবে, মুখের সব কালো দাগই মেছতা নয়। মেছতার ক্ষেত্রে কোনো রকম উপসর্গ থাকে না এবং চুলকাও না।
 
শুধু দেখতে যা অসুন্দর লাগে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে তাদের জন্য ভীষণ মানসিক সমস্যার সৃস্টি করে। মুখের ত্বক খুবই নাজুক, তাই মেছতা চিকিৎসার ব্যাপারে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই চিকিৎসা করা উচিত। যাদের মেছতা আছে তারা রোদে যাওয়ার আগে সূর্যের রশ্মিকে এড়াতে সানস্ক্রিন বা লোশন লাগাবেন। এ ছাড়া ইতিমধ্যেই যারা মেছতাই ভুগছেন তারা ২ শতাংশ হাইড্রোকুইনন ক্রিম ব্যবহার করে দাগ দূর করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, যে কারণে এ দাগ হয়েছে তার কারণ দূর করা না হলে মেছতা সেরে গিয়ে আবার হতে পারে। তবে এ কথাও ঠিক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেছতার কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। মুখের কালো দাগ আবার কিছুসংখ্যক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমেও হতে পারে। যেমন_ সোরালিন, আর্সেনিক, এন্টিএপিলেপ্টিক, ফেনোথায়াজিন ইত্যাদি। কিছু কিছু হরমোন গ্রন্থির রোগ যেমন_ এডিসনস ডিজিস, হাইপারথাইরয়েডিজম ইত্যাদি রোগের কারণেও দাগ তৈরি হতে পারে। ফ্রিকলস নামে একটি রোগ প্রায় দেখা যায়। সাধারণত এটি কম বয়সেই শুরু হয়ে শরীরের যেসব খোলা অংশে সূর্যের আলো পড়ে যেমন_ মুখ ও হাত ইত্যাদি স্থানে ১ থেকে ৬ মিলিমিটার সাইজের অসংখ্য সংখ্যায় ছোট ছোট কালো দাগ বা বাদামি রঙের দাগ হতে দেখা যায়। 
 
ফ্রিকেল নিয়ে রোদে চলাচল করলে এ দাগ আরও কালো হতে থাকে। তাই মুখে যাদের ফ্রিকেলযুক্ত দাগ আছে তারা রোদে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করে নেবেন রোদে যাওয়ার আগে। লেন্টিগো নামে আরও একটি রোগ আছে, যার কারণে মুখে কালচে ও বাদামি রঙের দাগ হতে দেখা যায়। এ দাগ ফ্রিকেলের মতো পরিমাণে অসংখ্য হয় না এবং এ দাগ রোদে গেলে বাড়েও না। যদিও ফ্রিকেল নিয়ে রোদে গেলে দাগের গাঢ়ত্ব বাড়তে থাকে। আয়তনের দিক দিয়েও দাগগুলো একটু বড় হতে পারে। অর্থাৎ কয়েক মিলিমিটার থেকে সেন্টিমিটার পর্যন্ত সাইজের হতে পারে। ফ্রিকেল যেমন শুধুই শরীরের অনাবৃত অংশে হয়, লেন্টিগো কিন্তু তেমন নয়। আবৃত-অনাবৃত উভয় অংশেই হতে পারে।
 
ন্যাভাস ও ম্যালানোমা নামে আরও দুটি রোগ আছে, যার কারণে মুখ বা শরীরে কালো ও বাদামি রঙের দাগ হতে পারে। কয়েক ধরনের ন্যাভাস আছে_ যার মধ্যে জাংসানাল, ন্যাভাস দেখতে ফ্রিকেল আর লেন্টিগোরই অনুরূপ। সাধারণত ন্যাভাস ক্ষতিকারক হয় না, তবে ডেসপ্লাস্টিক ন্যাভাস হলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
 
ম্যালানোমা কখনও কখনও কালো দাগ নিয়ে মুখে উঠতে পারে, যা সব সময় নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণে ব্যর্থ হলে জীবনের ওপর ঝুঁকি চলে আসতে পারে।
সেবোরিক কেরাটোসিস নামে আরও একটি চর্মরোগ আছে, যা মুখে হতে দেখা যায়। এক্ষেত্রেও মুখে কালো বা বাদামি রঙের দাগ হতে দেখা যায়। হঠাৎ করে দেখা দেওয়া এবং ক্রমান্বয়ে বড় হওয়ার কারণে অনেকেই আবার এটাকে ত্বকের ক্যান্সার বলে ধারণা করেন। এ ছাড়াও আরও কিছু কিছু রোগ আছে, যার কারণে মুখের ত্বকের গায়ে কালো রঙ দেখা দেয়। তাই সবক্ষেত্রে এটাকে হালকাভাবে না নিয়ে উপযুক্ত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই উত্তম।
 
প্রথম প্রকাশিত এখানে
আমার ফেসবুক  পেজ
 

LEAVE A REPLY

11 − 6 =