নতুন কমপিউটার ব্যবহারকারীর সাধারণ ১০টি ভুল এবং তার প্রতিকার জেনে নিন (মেগা টিউন)

0
508

আপনি যদি একজন নতুন কমপিউটার ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন কিংবা মাঝেমধ্যে কমপিউটার ব্যবহার করেন তাহলে ভুল করা বা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর এসব ভুল আপনার কাছে মনে হতে পারে কমপিউটারের হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারসংশ্লিষ্ট বা আপনার আচরণগত। এর ফল খুব তুচ্ছ বা ভয়াবহ ধরনের হতে পারে। সাধারণ কমপিউটার ব্যবহারকারীরা সাধারণত যে ধরনের ছোটখাটো ভুল করেন, তা কিভাবে এড়ানো যায় তার আলোকে এ লেখা উপস্থাপন করা হয়েছে এবারের ব্যবহারকারীর পাতায়।

দুর্ঘটনাজনিত শেয়ারিং

কাগজে কোনো ডকুমেন্ট তৈরি করা বা ফটোগ্রাফ যেভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। ঠিক সেভাবেই দেখা যাবে। কিন্তু একই বিষয় যদি কমপিউটারের স্ক্রিনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়, তাহলে আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী সব প্রচেষ্টাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভন্ডুল হবে তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। কেননা অনেক ফাইলে যুক্ত থাকে লুকানো তথ্য। যেমন- ডিজিটাল ক্যামেরা ছবিতে যুক্ত করে ছবি তোলার সময়, তারিখ এবং ফটো তৈরির এক্সপোজার সেটিং যেমন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ডকুমেন্ট সেভ করলে তাতে যুক্ত হতে পারে অথারের নেম, রিভিশন তারিখ এবং নাম্বার বা টেক্সট তৈরি করতে কতটুকু সময় লেগেছে ইত্যাদি।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই মেটাডাটা খুব একটা কাজে আসে না, তবে ডিজিটাল ফটোর দিন-তারিখ দেখে আপনি জানতে পারবেন, বুঝতে পারবেন বিশেষ কোনো মুহূর্তের ঘটনা।

উইন্ডোজে এ ধরনের কোনো তথ্য উন্মোচন করতে পারবেন, এজন্য Windows-এ ডান ক্লিক করে Properties সিলেক্ট করে Details ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। এর ফলে পাবেন Remove Properties and Personal Information অপশন। কতটুকু মেটাডাটা অপসারিত হবে তার জন্য একটি সীমা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও একান্ত গোপনীয় ফাইল যাতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডিলিট হয়ে না যায়, তার জন্য Words save as… ফিচার ব্যবহার করে ডকুমেন্টকে টেক্সট ফাইল হিসেবে সেভ করা উচিত।

ইউএসবি ড্রাইভ ড্যামেজ হওয়া

ইউএসবি খুবই সহায়ক এক ডিভাইস। তবে উইন্ডোজের কোনো রানিং কাজ শেষ করার আগে ইউএসবি ড্রাইভকে প্ল্যাগ আউট করলে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এমন অবস্থায় কিছু কিছু ডিভাইসের ক্ষেত্রে যেমন প্রিন্টারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাজে অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে প্রিন্টিংয়ের কাজ শুরু করার আগে আপনাকে হয়তো পিসি এবং প্রিন্টার উভয়ই রিস্টার্ট করতে হতে পারে। আপাত দৃষ্টিতে এটি তেমন ক্ষতিকর বা সমস্যা সৃষ্টি না করলেও বড় ধরনের স্টোরেজ ডিভাইসের ক্ষেত্রে বেশ ভালোই ক্ষতি হতে পারে। কেননা স্টোরেজ ডিভাইসে ডাটা সেভ হওয়ার সময় ডিভাইসকে প্লাগ আউট করার ফলে ডাটা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে কিংবা আগে ধারণ করা ফাইলের সাথে মিশিয়ে ফেলতে পারে।

এ ধরনের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য স্ক্রিনের নিচে ডান দিকে উইন্ডোজের নোটিফিকেশন এড়িয়ায় Safely Remove Hardware আইকনে ডাবল ক্লিক করুন আপনার কমপিউটারের রিমুভেবল ডিভাইসের লিস্ট পাওয়ার জন্য। এরপর কাঙ্ক্ষিত ডিভাইসটি সিলেক্ট করে Ok করলে উইন্ডোজ আপনাকে জানাবে কখন নিরাপদে ডিভাইস রিমুভ করতে হবে। এ প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে ডাটা হারানোর সম্ভাবনা থাকে না।

পিসিকে আনলক রাখা

উইন্ডোজে লগইন করে দৈনন্দিন গৃহস্থালির টুকিটাকি কাজ ছাড়া কমপিউটিংয়ের প্রায় সব ধরনের কাজই করা হয়। কমপিউটারে ব্যবহারকারীকে লগ-ইন পাসওয়ার্ড ছাড়াও আরো পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয়। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এড়িয়ে যান। এর ফলে এসব ব্যবহারকারী সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধানের জন্য Start বাটনে ক্লিক করে Start Menu-র সার্চবক্সে ইউজার নেম টাইপ করে User Accounts-এ ক্লিক করতে হবে। এক্সপির ক্ষেত্রে User Accounts পাওয়া যাবে Control Panel-এ। এটি চালু করে কন্ট্রোল প্যানেল টুল। এর মাধ্যমে আপনি পাসওয়ার্ড যুক্ত বা পরিবর্তন করতে পারবেন নিজের মতো করে এবং অন্যান্য ইউজার অ্যাকাউন্ট সৃষ্টি করতে পারবেন। বেশি ইউজার অ্যাকাউন্ট লগ-অফ বা লক করার সময় নিরাপত্তা বিধানের জন্য Start Menu ব্যবহার করা উচিত। লক করার ক্ষেত্রে উইন্ডোজ কী চেপে L চাপতে হবে একত্রে।

মেকি সতর্ক মেসেজে পড়া

অনেক বৈধ প্রোগ্রাম কিছু মেসেজ প্রদর্শন করে, যা আপনাকে জানিয়ে দেয় আপনার প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিংবা আপনার সিস্টেমে অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব মেকি মেসেজের মাধ্যমে হ্যাকার এবং ডাটা চোরেরা চালাকির মাধ্যমে মারাত্মক সফটওয়্যার ইনস্টল করার জন্য প্ররোচিত করে কিংবা হ্যাকারেরা জেনে নেয় গুরুত্বপূর্ণ ফিন্যান্সিয়াল তথ্য। এ ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হবে আপনার সিস্টেমকে আপডেট করা এবং ভাইরাস থেকে রক্ষা করা। তবে আর্থিক বা অন্য কোনো বিশেষ কারণে সিস্টেমকে আপডেট করা সম্ভব না হলেও ভাইরাস প্রতিরোধের ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে হবে যার জন্য নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা।

যদি ভাইরাস স্ক্যানার সতর্ক করে দেয় যে, আপনার পিসি আক্রান্ত, অর্থাৎ ‘Your PC is infected, check to see if it is from the software you actually installed on your computers’- এ ধরনের মেসেজ আবির্ভূত হয়, তাহলে ধরে নিতে পারেন এটি একটি চালাকি। সুতরাং এই চালাকির ফাঁদে পা না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

আবার কিছু কিছু ওয়েবপেজ পপ-আপ উইন্ডো ওপেন করতে পারে, যেখানে উল্লেখ থাকে, ‘Your computer is ‘slow’ or needs some kind of a scan’- এ ধরনের বার্তা মূলত স্ক্যাম এবং এসব বার্তায় বিচলিত না হয়ে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

এছাড়া সম্প্রতি আরেকটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে : ‘Microsoft employees’ পিসির সমস্যা ফিক্স করার উদ্দেশ্যে ডাকার জন্য অনুরোধ করছে। বস্ত্তত মাইক্রোসফট কখনই এ ধরনের কাজ করে না, যদি না আপনার সাথে সুনির্দিষ্ট কোনো সাপোর্ট এগ্রিমেন্ট থাকে। শুধু মাইক্রোসফট কেন, অন্য কেউই এ ধরনের কাজ করবে না বিনা পারিশ্রমিকে, বিশেষ কোনো চুক্তি ছাড়া। সুতরাং এ ধরনের প্রতারণামূলক অফার থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলতে পারলে সিস্টেমের নিরাপত্তার ব্যাপারে বেশি মাত্রায় নিশ্চিত থাকতে পারবেন।

ভুল হার্ডওয়্যার কেনা

নতুন পিসি কেনার ক্ষেত্রে বা কোনো পার্টস বদলিয়ে নতুন সংস্করণের পার্টস দিয়ে আপগ্রেড করার ক্ষেত্রে অবশ্যই অভিজ্ঞ কারও সহায়তা নিয়ে কিনবেন, অন্যথায় প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

নতুন পিসি কেনার ক্ষেত্রে আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা চাহিদা যথাযথভাবে ভেন্ডরকে অভিহিত করুন। এক্ষেত্রে অবশ্য অভিজ্ঞ কোনো একজনের সহায়তা নিলে ভালো হবে বা সুপ্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের প্রতি নজর দিতে পারেন যারা আপনার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে পারবে। তাছাড়া যাদের কাছ থেকেই পণ্য কেনেন না কেন ওয়ারেন্টি কার্ড যেমন নিতে হবে, তেমনি নিশ্চিত হতে হবে বিক্রয়োত্তর সেবার ব্যাপারে।

আপনি পূর্ণাঙ্গ পিসি বা পিসির বিভিন্ন কম্পোনেন্ট যা-ই কেনেন না কেন, কেনার আগে ওয়ারেন্টির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিন এবং কেনার সময় ওয়ারেন্টি কার্ড নিতে ভুল করবেন না। যদি বিশেষ কোনো কম্পোনেন্ট কেনেন, তাহলে আপনার পিসির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে কি না তা পিসি ভেন্ডরকে আপনার পিসির কনফিগারেশন জানিয়ে কেনা উচিত।

পাসওয়ার্ড লিখে রাখা

গুরুত্বপূর্ণ ডাটার সুরক্ষার জন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা খুবই জরুরি। তবে সব ধরনের ডাটার জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা শুধু বদঅভ্যাসই নয় বরং বোকামিও বটে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধরনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যেমন উচিত তেমনই তা মনে রাখাও উচিত। তবে পাসওয়ার্ড ভুলে যাবার ভয়ে অন্যান্য ডাটার সাথে লিখে না রেখে বরং গোপন অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখা উচিত। এমনকি কমপিউটারে বা মোবাইল ফোনেও গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড স্টোর করা উচিত নয়, কেননা এতে যেকেউ বিশেষ করে হ্যাকারদের নাগালে পৌঁছে যেতে পারে আপনার গোপনীয় তথ্য। আর পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা উচিত যেখানে সিম্বল, নাম্বার থেকে শুরু করে সবকিছুই থাকবে, যাতে অন্যদের কাছে দুর্বোধ্য হয়। যদি আপনি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাহলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যাবে যদি তা ব্যবহার করা না হয়। যদি হারিয়ে যায় তাহলে মোবাইল অপারেটরকে অবহিত করুন যাতে তারা আপনার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়।

সফটওয়্যার ক্র্যাক করা

সফটওয়্যার বেশ ব্যয়বহুল। যারা বিদেশ থেকে কমপিউটার বা ল্যাপটপ নিয়ে আসেন কিংবা অনলাইনে কেনেন তাদের ভাগ্যেই বেশিরভাগ সময় জোটে ফ্রি অ্যাপ্লিকেশনের ক্র্যাক ভার্সন।

আবার অনেকেই কপিরাইট মুভি, টিভি এবং মিউজিক কোনো অর্থ খরচ না করেই ডাউনলোড করে নেন যা অনৈতিক এবং বেআইনী। শুধু তাই নয়, এটি একটি খারাপ অভ্যাসও বলা যেতে পারে দুটি কারণে। প্রথমত অবৈধভাবে ডাউনলোড করা হলো সম্পূর্ণরূপে বেআইনী বা আইনবিরোধী কাজ, যার কারণে আপনাকে বিপুল অর্থ জরিমানাসহ সশ্রম কারাদন্ড হতে পারে। দ্বিতীয়ত ক্র্যাক সফটওয়্যারে বেশিরভাগ সময় থাকে অন্যান্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে হ্যাকার বা অন্যরা আপনার পিসির নিয়ন্ত্রণ দখল করে গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনার অজান্তে হাতিয়ে নিতে পারে সহজেই। বৈধ সফটওয়্যার কেনার ক্ষেত্রে খুব সহজে অর্থের সাশ্রয় করতে পারেন। এজন্য প্রথমেই আপনাকে চেক করে দেখতে হবে যে প্রকাশকের কোনো সংক্ষিপ্ত ভার্সন আছে কি না, যা বিনামূল্যে বা অনেক কম মূল্যে পাওয়া যায়। এতে আপনি নিজেকে একজন বৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারকারী হিসেবে যেমন দাবি করতে পারবেন তেমনি থাকতে পারবেন হ্যাকার, ক্র্যাকারদের হাত থেকেও কিছুটা হলেও মুক্ত।

নিরাপত্তার ব্যাপারে অবহেলা

পিসি ভাইরাস আক্রান্ত হলে ডাটার ক্ষতিকর সম্ভাবনা যেমন থাকে তেমনি আপনার পিসি করতে পারে অস্বাভাবিক কিছু আচরণ, এমনকি স্টার্ট নাও হতে পারে। অন্যান্য ম্যালাসিয়াস বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার আপনার পিসিকে স্প্যামার নেটওয়ার্কের তালিকাভুক্ত করতে পারে এবং আপনার অজান্তেই প্রতিদিন হাজার হাজার জাঙ্ক ই-মেইল পাঠাতে পারে। অবশ্য এ ধরনের অভিযোগের কথা সবসময় শোনা যায়, তবে এ নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না, কেননা অনেকেই মনে করেন এতে তেমন কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

সিকিউরিটি সফটওয়্যারসংশ্লিষ্ট তিন ধরনের সাধারণ ভুলভ্রান্তির মুখোমুখি হই, যেমন কোনো সিকিউরিটি সফটওয়্যার ইনস্টল না করেই নতুন পিসি ব্যবহার করা, পুরনো বা আপডেটবিহীন সিকিউরিটি সফটওয়্যার ইনস্টল করা এবং মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া সফটওয়্যারকে নতুন সফটওয়্যার দিয়ে প্রতিস্থাপন না করে ব্যবহার করা।

উপরে উল্লিখিত বিষয়টি আমরা খুব সহজেই এড়াতে পারি। আর এ জন্য প্রথমেই আপনার সিকিউরিটি সফটওয়্যারকে চেক করে দেখুন, যদি আপডেটেড না হয়, তাহলে দেরি না করে সাথে সাথে আপডেট করে নিন যা সাধারণত এক ক্লিকেই সম্পন্ন হয়। অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের সর্বশেষ সিকিউরিটি টুল পাওয়া যায় তার রিভিউ দেখে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত একটি ফ্রি টুল ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

আপডেট না থাকা

সফটওয়্যার ইনস্টল করা অনেক সময় ঝামেলাপূর্ণ বিরক্তিকর মনে হতে পারে, বিশেষ করে যখন সব কাজ সেভ করে পিসি রিস্টার্ট করতে হয়। কিন্তু এই বিরক্তিকর কাজ এড়াতে গিয়ে সফটওয়্যার আপডেটেশনকে প্রাধান্য না দেয়াটা হবে মারাত্মক ভুল।

উইন্ডোজ ও অন্য যেসব প্রোগ্রাম কমপিউটারে রান করে তা জটিল ধরনের এবং এসব প্রোগ্রামে ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। আর সেসব ভুলের সুযোগ নেয় অপরাধী চক্র বা হ্যাকাররা, যারা আপনার কমপিউটারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হাতিয়ে নিতে পারে।

সাম্প্রতি মাইক্রোসফট গবেষণা করে দেখেছে যে বিভিন্ন সফটওয়্যারের ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা যে চৌর্যবৃত্তি করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হয় মাইক্রোসফটের মাধ্যমে।

নিজেকে রক্ষা করার জন্য Start Menu সার্চবক্সে Update টাইপ করে এন্টার চেপে Windows Update রান করুন। বাম দিকের প্যানে ‘Change Settings’ ক্লিক করে চেক করুন যে আপনার কমপিউটারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হওয়ার জন্য সেট করা আছে কি না। এজন্য Microsoft Updates বক্সে টিক দিন।

উইন্ডোজ এক্সপির ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ওপেন করে ভিজিট করুন Windows Update ওয়েবসাইটে। মাইক্রোসফটের প্রোগ্রাম নয় যেগুলো তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রের জন্য রয়েছে ‘Check for updates’ অপশন। এটি নিয়মিতভাবে করার চেষ্টা করা উচিত।

ব্যাকআপ না করা

ইতোমধ্যে অনেক সাধারণ ভুলভ্রান্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেসবের কারণে ডাটা নষ্ট বা হারিয়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে সাধারণ যে বিষয়টি আমরা সাধারণত এড়িয়ে যাই, তা হলো ডাটা ব্যাকআপ না করা। ডাটা নিয়মিতভাবে ব্যাকআপ না করার মূল্য দিতে হয় সবচেয়ে বেশি। আর এটি হয়ে থাকে সাধারণত নিয়মিত ব্যাকআপ করার কথা ভুলে যাওয়ার কারণে বা গুরুত্ব না দেয়ার কারণে।

অথচ উইন্ডোজের সব ভার্সনেই ব্যাকআপ অপশন রয়েছে। এজন্য Start Menu সার্চ বক্সে backup টাইপ করে Backup and Restore রান করাতে হবে।

উইন্ডোজ এক্সপির অনেক ভার্সনেই ব্যাকআপ অপশন রয়েছে। আর এটি পেতে চাইলে Start মেনু ওপেন করে All Programs-এ ক্লিক করে System Tools-এ খুঁজে দেখুন, যা Accessories-এ পেতে পারেন।

শেষ কথা

পিসি ব্যবহারকারীরা সাধারণত যেসব ছোটখাটো ভুল করেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে যেসব ভুল-ভ্রান্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য খুব সাধারণ ও স্বাভাবিক ব্যাপার হলেও অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের বেলায় স্বাভাবিক ভুল না বলে বরং বলা যায় চরম অবহেলা বা গাফিলতি। উল্লিখিত ভুল-ভ্রান্তি বা গাফিলতি এড়াতে পারলে সব ব্যবহারকারীই স্বাভাবিক এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের কমপিউটিং কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ