চাকরির ইন্টারভিউয়ে যে ৫টি কথা কখনোই বলবেন না

0
437

ইন্টারভিউ চাকরিপ্রার্থীদের কাছে একটি বাড়তি চাপের বিষয়। ইন্টারভিউয়ে প্রশ্নকর্তারা যেমন ভালো ও উপযুক্ত লোক বাছাই করার চাপে ভোগেন, তেমনি চাকরিপ্রার্থীরাও স্নায়ুচাপে ভোগেন। ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় তারা ধরেই নেন তাদের মাইক্রোস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অমুক উত্তরটা এভাবে না দিলেও হতো, অমুক জায়গায় এই প্রশ্নটা করা উচিত ছিলো অথবা অমুক কাজটি অন্যভাবেও করলে পারতাম- পেছনে ফিরে তাকালে এমন অনেক কারণই পাওয়া যাবে যা নিয়ে আমরা আফসোস করি ৷ চাকরির ইন্টারভিউয়ে কোন ধরনের বোকামি করতে হয় না তা আমরা অনেকেই জানি যেমন- অপ্রত্যাশিতভাবে পারিশ্রমিকের কথা জিজ্ঞেস করা, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন কর্মচারীর সম্পর্কে সমালোচনা করা অথবা অপ্রয়োজনীয় ফোন রিসিভ করা।

এখানে আরো ৫টি বিষয় তুলে ধরা হলো যা ইন্টারভিউয়ে কখনোই বলা উচিত নয়।

১. চাকরিটা আমার খুব দরকার
হিউস্টোনের ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এর গাইয়ে উয়েনট্রাব বলেন, ইদানিং চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অনেক বেশি করে এই কথাটি শোনা যাচ্ছে। কেননা এখন অনেক মানুষের চাকরি দরকার। ‘কথাটি সত্য হলেও, সম্ভাব্য চাকরিদাতাকে কোনো চাকরিপ্রার্থী যে কথাগুলো বলতে পারে সেগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে আপত্তিকর’। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান এমন লোক খুঁজছে যারা প্রকৃতঅর্থেই ওই পদের যোগ্য। তারা এমন একজনকে চায়, যে ওই পদে বসলে কম্পানির উন্নতি হবে হবে এবং যে ব্যাক্তি কম্পানির প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে।

২. কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে
এই ধরনের বাক্য আপনার ইন্টারভিউকে ভয়ংকরভাবে খারাপ করে ফেলবে। আপনি যদি বলে ফেলেন তাহলে ভেবে দেখেছেন কি কেন আপনি এই ধরনের কথা বলেছেন? ব্যবস্থাপনা পরামর্শক ব্যারি মাহের সম্প্রতি এই ধরনের একটা ইন্টারভিউয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে চাকরিপ্রার্থী প্রথম যে তিনটি কথা জানতে চেয়েছিলো- ১. আমি ছুটি কেমন পাবো? ২. কাজের উপযুক্ত হওয়ার আগে ছুটির জন্য কেমন সময় দিতে হবে চাকরিতে? ৩. ছুটির আগে অতিরিক্ত কত সময় দিতে হবে? এই ধরনের চাকরিপ্রার্থীদের কোন কারণ ছাড়াই চাকরি দেওয়া হয় না। একই ধরনের কথা আপনার অন্যান্য সুযোগ সুবিধার জন্যও বলা ঠিক নয়। যেমন আপনি কবে প্রমোশন পাবেন কিংবা এই ধরনের প্রশ্ন করলে আপনার আর চাকরি করতে হবে না।

৩. আমি অমুক প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিয়েছি
রিজিউমেডে এর সিইও এর রেফারেন্স টেনে বলা যেতে পারে, অন্য কোথাও ইন্টারভিউ দিচ্ছেন কিংবা দিচ্ছেন এই ধরনের কথা ইন্টারভিউবোর্ডে কখনোই তুলবেন না। এ ছাড়াও আপনার কোথাও অন্য কম্পানির ইন্টারভিউ এর শিডিঊল আছে বা অন্য কম্পানি আপনাকে চায় এই ধরনের কথার জের টানা যাবে না। না হলে আপনি বর্তমানে যেখানে ইন্টারভিউ দিচ্ছেন তারা আপনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আপনার প্রতি উৎসাহ দেখাবে না। অন্য কোথাও ইন্টারভিউয়ের কথা শুনলে তারা মনে করবে আপনার মন স্থির নেই, সবখানেই আপনার মন ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্যখানে ব্যর্থ হয়েছেন এটাই এর অর্থ দাঁড়াবে। আর এই ধরনের কথায় পেশাদারিত্ব থাকে না।

৪. কোনো প্রশ্ন নেই
ইন্টারভিউয়ের প্রশ্নের ব্যাপারে কোন আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। মূলত দুই পথে ইন্টারভিউ হয়। প্রথমে কম্পানি আপনাকে ঝালিয়ে দেখবে আপনি উপযুক্ত কী না। যদি কম্পানি আপনার পছন্দ হয় তাহলে আপনার সামনে প্রশ্ন আসবে তখন আপনি চাইলে কম্পানি সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। মাইক ফ্লেমিং বলেন, এটাই আপনার সুযোগ। ইয়েসএসএইচআর এই ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন সাজিয়েছেন। আপনি বলতে পারেন, কম্পানির কোন জিনিসটা আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। জিজ্ঞেস করতে পারেন এমন কিছু জানার আছে কি না যেটা আমি আমার দরখাস্ততে উল্লেখ করিনি? ফ্লেমিং বলেন, এ ছাড়া কম্পানির উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় জানতে চাইতে পারেন। কিন্তু কখনোই বলবেন না, কোনো প্রশ্ন নেই।
৫. নাম ভুল করা

আপনার ইন্টারভিউয়ের আগে প্রশ্নকর্তার নাম ভালোভাবে আয়ত্ত করে নিন। আপনি নিশ্চয়ই চান না যে আপনি রিসেপশনিস্টের কাছে গিয়ে নাম গোলমাল করে ফেলবেন । এতে করে প্রমাণিত হবে যে আপনি ইন্টারভিউ এর জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না ৷ এসব ছোট ছোট বিষয় আপনার জন্য অত্যন্ত মুখ্য হয়ে উঠতে পারে ৷

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

11 + six =