ল্যাপটপের ব্যাটারির আয়ু বাড়িয়ে নিন

    0
    540
    ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় হুট করে ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে গেছে! অধিকাংশ ল্যাপটপ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারির আয়ু কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। খুব বেশি কাঠখড় না পুড়িয়েও কয়েকটি ছোট পরামর্শ মেনে চললে ল্যাপটপের ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব। 
     
    ব্যাটারি সেভার মুড ব্যবহার : প্রতিটি ল্যাপটপেই ব্যাটারি সেভার মুড থাকে। এই মুড চালু করলে ল্যাপটপের সেটিংসে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে ব্যাকআপ প্রোগ্রামসহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস এবং প্রোগাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেয় এই মুড। ফলে ব্যাটারির ওপর চাপ অনেক কমে যায়।
     
    অব্যবহৃত ডিভাইস এবং পোর্ট ডিজেবল রাখুন : ব্যাটারির অতিরিক্ত চার্জ ক্ষয়রোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, ল্যাপটপের অব্যবহৃত ডিভাইস এবং পোর্টগুলো ডিজেবল রাখা। যে পোর্ট বা যে ডিভাইসটি যখন প্রয়োজন পড়বে, কেবল তখনই তা ল্যাপটপের সঙ্গে সংযুক্ত করুন। অযথা সবসময় সংযুক্ত করে রাখলে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ক্ষয় হয় এবং আয়ু কমে যায়।
     
    সেটিংস পরিবর্তন করুন :একটি নির্দিষ্ট সেটিংস ব্যবহার না করে সময় অনুযায়ী আলাদা সেটিংস ব্যবহার করুন। যেমন দিনের বেলা ল্যাপটপের কিবোর্ডের ব্যাকলাইট চালু রাখার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। সেক্ষেত্রে দিনের বেলা তা বন্ধ রাখাই শ্রেয়। আবার ল্যাপটপের রেজ্যুলেশন সাধারণ রাখুন। অযথা সবসময় উচ্চ রেজ্যুলেশন ব্যবহার না করাই উত্তম। এতে ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
     
    একসঙ্গে অনেক সফটওয়্যারের ব্যবহার কমান :শুধু হার্ডওয়্যারই নয়, সফটওয়্যারও ব্যাটারির চার্জ ক্ষয়ে বেশ ভূমিকা রাখে। ল্যাপটপে যখন একসঙ্গে অনেক প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার চালু থাকে, তখন ব্যাটারির ওপর বেশ চাপ পড়ে। সেক্ষেত্রে ল্যাপটপ এবং ব্যাটারি দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় অনেক সফটওয়্যারের ব্যবহার যতটা সম্ভব কম করার চেষ্টা করুন।
     
    অপ্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার না করা : ইন্টারনেট ব্যবহারকালে ল্যাপটপের ব্যাটারির চার্জ বেশ দ্রুত ফুরিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে যে কাজগুলো অফলাইনেও করা সম্ভব যেমন গান শোনা, ভিডিও দেখা, স্ক্যান করা, কনভার্ট করা ইত্যাদি, সেগুলো অনলাইনে না করে অফলাইনে সফটওয়্যার বা অডিও-ভিডিওগুলো ডাউনলোড করে কাজ করলে ব্যাটারিতে চাপ অনেক কম পড়বে এবং ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
     
    যত্নে থাক ব্যাটারি : ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে- ব্যাটারি ব্যবহারে যত্নশীল হওয়া। ল্যাপটপ যখন ফুল চার্জ হয়ে যাবে তখন চার্জে লাগানো অবস্থাতেই ল্যাপটপ ব্যবহার না করে কানেকশন খুলে ব্যবহার করলে ব্যাটারি ভালো থাকবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত চার্জ দিলে বা সর্বদাই চার্জে লাগিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অতিদ্রুত ব্যাটারির আয়ু কমে যাবে।
     
    টিউন-আপ করা :ল্যাপটপে সবকিছু গুছিয়ে ব্যবহার করলে ব্যাটারির ওপর চাপ কমে। যেমন সি ড্রাইভে এটা ওটা রেখে ভরিয়ে না ফেলে নির্দিষ্ট ড্রাইভে রাখলে সুন্দর গতির পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। একইভাবে ডেস্কটপও যতটা সম্ভব খালি রাখা উচিত। ল্যাপটপের ডিফ্র্যাগমেন্ট অপশন ব্যবহার করলে সি ড্রাইভের এলোমেলো ডাটাগুলো গোছানো অবস্থায় আসে। উইন্ডোজ ৭ বা ৮-এ এটি আগে থেকেই দেওয়া থাকে। অন্য ভার্সনগুলোতে এক্ষেত্রে ডিফ্র্যাগমেন্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে।

    একটি উত্তর ত্যাগ