মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানো গ্রহাণু

0
359

মহাশূন্যের বুকে কত কি যে ভেসে বেড়ায় তার কোন হিসেব নেই। এক দিকে ছুটে আসলো ধূমকেতু, তো আরেক দিকে উল্কাপিণ্ড। এছাড়া আছে অনেক ছোট ছোট গ্রহাণু। দেখতে কিছুটা গ্রহের মতোই কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর গ্রহে পরিণত হতে পারে নি এসব গ্রহাণু। ধূমকেতু বা উল্কা ধরা খুব সহজ কাজ নয়। কিন্তু কেমন হবে যদি মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানো গ্রহাণুর কয়েকটাকে ধরে আনা যায়? NASA এতদিন সেই চেষ্টাই করে আসছিলো। এবার তারা বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের গ্রহাণুকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ধরে আনার জন্য।

মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানো গ্রহাণু মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানো গ্রহাণু

বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন সাত থেকে দশ মিটার আকৃতির গ্রহাণু পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য ধরে আনার। তবে এর চেয়েও ছোট দৈর্ঘ্যের গ্রহাণু পাওয়া গেলে সেটির দিকেও নজর দিবেন তাঁরা। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে বিজ্ঞানীরা এ ঘোষণা দেন। তাঁরা একটি রবোটিক মহাকাশযান তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন ।

এটি নির্দিষ্ট গ্রহাণুগুলোকে আমাদের চাঁদের কক্ষপথের কাছাকাছি টেনে নিয়ে আসবে। এরপর যখন নভোচারীরা মহাশূন্যে যাবেন, তখন চাঁদের কক্ষপথে টেনে আনা গ্রহাণুগুলো থেকে কিছু নমুনা গবেষণার জন্য পৃথিবীতে নিয়ে আসতে পারবেন।

সম্পুর্ণ নতুন ধরণের এই মিশনটি সম্পন্ন হবে Orion multi-purpose vehicle দিয়ে। দূর মহাশূন্যে প্রেরণের জন্য নাসা’র এই রকেট লঞ্চারের নির্মাণকাজ এখনো চলছে।

নতুন এই মিশনের উদ্দেশ্য হলো, গ্রহাণুর সাথে পৃথিবীর সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর উপায় বের করা ও দূর মহাশূন্যে ভবিষ্যৎ মানুষের পদচারণার কাজটিকে এগিয়ে নেয়া। NASA’s Human Exploration and Operations Directorate এর সহকারী প্রশাসক বিল গার্স্টেনমায়ার বলেন,

“ এ মিশনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মহাশূন্যের কোন বস্তু(গ্রহাণু) কে টেনে নিয়ে এসে নিজেদের গবেষণার কাজের জন্য ইচ্ছেমত ব্যবহার করা এবং এটাকে মহাশূন্যের এমন এক স্থানে ধরে রাখা যেখানে আমরা যখন ইচ্ছা তখন যেতে পারবো।

“ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই গ্রহাণু প্রকল্পের জন্য ২০১৪ সালের জন্য নাসা’কে বরাদ্দ করেছেন ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু নতুন এই গ্রহাণুকে ধরে আনার প্রকল্পে খরচ হতে পারে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। নাসা বলছে, মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে তারা সক্ষম কিন্তু বরাদ্দকৃত বাজেট অপ্রতুল।

আগামী ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মাঝেই শুরু হতে পারে গ্রহাণু ধরার এই চমকপ্রদ মিশন। আর এই মিশনের জন্য যে নতুন রবোটিক মহাশূন্যযান তৈরি হচ্ছে সেটির গ্রহাণুগুলোর কাছে গিয়ে পৌছাতে সময় লাগবে দেড় বছর। আর নির্দিষ্ট গ্রহাণুকগুলোকে ধরে চাঁদের কক্ষপথে টেনে নিয়ে আসতে লাগবে আরো সাড়ে তিন বছরের মতো।

এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা!

LEAVE A REPLY

2 × three =