বাংলাদেশে ৮৭ শতাংশ সফটওয়্যার লাইসেন্সবিহীন

0
409
বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধমান প্রযুক্তি-বাজারের অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে দায়ী করা হয় অবৈধভাবে (পাইরেসি) সফটওয়্যার ব্যবহার। সম্প্রতি প্রকাশিত বিজনেস সফটওয়্যার অ্যালায়েন্স (বিএসএ) পরিচালিত গ্লোবাল সফটওয়্যার সার্ভে অনুযায়ী, ২০১১ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাপী লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যারের ব্যবহার ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের সফটওয়্যারের ব্যবহার বেশি। বিএসএ গ্লোবাল সফটওয়্যার অ্যালায়েন্সের তথ্য অনুসারে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার হয় বাংলাদেশে। আর সামগ্রিকভাবে বর্তমানে বিশ্বে পাইরেসি করা সফটওয়্যার ব্যবহারে বাংলাদেশ তৃতীয়। চীন ও তানজানিয়ার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। তবে কয়েক বছর ধরে দেশে পাইরেটেড সফটওয়্যারের ব্যবহার কমছে।

ওই জরিপ অনুযায়ী, ২০১৩ সাল শেষে বাংলাদেশে লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহারের হার দাঁড়িয়েছে ৮৭ শতাংশ। এর বাজার প্রায় ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের। ২০১১ সালে এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারের হার ছিল ৯০ শতাংশ, ২০০৯ সালে ৯১ ও ২০০৭ সালে ৯২ শতাংশ। ২০১১, ২০০৯ ও ২০০৭ সালে লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যারের বাজার ছিল যথাক্রমে ১৪ কোটি ৭০ লাখ, ১২ কোটি ৭০ লাখ ও ৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। বিএসএর জরিপ বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহারের হার ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৮৫ ও শ্রীলংকায় ৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশে পাইরেসি সফটওয়্যার প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার কোম্পানি এসএপির সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজার এবং বর্তমান ক্রসওয়েস আইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম তানভীর আহমেদ বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে পার্সোনাল ইউসেজ এবং এন্টারপ্রাইজ বা অর্গানাইজেশনাল ইউসেজের ক্ষেত্রে ব্যাপকহারে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে। তবে ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহারের দিক থেকে এ দেশের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সচেতন হতে শুরু করেছে। এছাড়া ব্যাংক, ক্রেডিটকার্ড এবং অন্যান্য নিরাপত্তার প্রয়োজনে সফটওয়্যার ব্যবহারে সচেতনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, পার্সোনাল কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে এখনও পাইরেটেড সফটওয়্যার একরকম ন্যাচারাল চয়েস। ব্যক্তি পর্যায়ে যেমনি ঠিক তেমনি বাংলাদেশের বেশির ভাগ এন্টারপ্রাইজ বা অর্গানাইজেশনের চিত্রও অনেকটা একই রকম সেটা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হোক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান।

তিনি আরও বলেন, এদেশে ইচ্ছামতো কপিরাইট আইন ভঙ্গ করলেও আদতে তা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা হয় না। বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে আইন আছে কিন্তু তার সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না বলে আমরা চুরি করে পার পেয়ে যাচ্ছি। অথচ এটাকে আমরা অপরাধও মনে করছি না। ফলে আমরা নকলের জোয়ারে ভাসছি। খেতাব পাচ্ছি বিশ্বের সেরা চোরদের তালিকায়। পাইরেটেড সফটওয়্যারের ওপর আমাদের এই ভাসমান থাকার বিষয়টি পৃথিবীর মানুষ ভালো চোখে দেখছে না।

ফাহিম তানভীর আহমেদ বলেন, পাইরেটেড সফটওয়্যারের ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে আমাদের দেশের জন্যও তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা কিছু উদ্ভাবন করলে তা নকল হবে কিন্তু এর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। অনেকে বলেন, ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার শিখিয়ে অভ্যস্ত করিয়ে তারপর লাইসেন্স সফটওয়্যার ব্যবহার করতে উৎসাহ দিতে হবে। কিন্তু আমি বলি, ভুল পথ দিয়ে কখনও সঠিক কিছু শেখানো যায় না। এভাবে বাংলাদেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রি চলতে পারে না বা পারা উচিত না। খুব সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে, চুরি করা বিদ্যার ওপরে ভরসা করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব নয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 15 =