ওডেস্কে কাজ শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় ৭টি বিষয় জেনে নিন

0
407
ওডেস্কে কাজ করা নিয়ে অনেকের মনেই নানান প্রশ্ন রয়েছে। এমন অনেকেই আছেন যারা প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও ওডেস্কে কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। এটা নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। নতুন করে প্রফেশনাল স্কিল বাড়ানোর চেয়ে কিছু সাধারণ পদ্ধতি ব্যবহারে মাধ্যমে ওডেস্কে কাজ করা অনেক সহজ। শুরুর দিকে কিছু কৌশল অবলম্বন করে কাজ করলে ভবিষ্যতে আপনার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যাবে। তাছাড়া আপনার ক্লায়েন্ট কাজে সন্তষ্ট হলে আপনি অনেক ইতিবাচক ফিডব্যাক পাবেন যা কিনা আপনাকে আরও কাজ পেতে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে।
 

১. প্রথমে নিজের জন্য উপযুক্ত টাইটেল ঠিক করুনঃ আপনার ওডেস্ক আক্যাউন্টের জন্য উপযুক্ত টাইটেল খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার যাবতীয় দক্ষতাকে দুই-তিন শব্দে সাজিয়ে তৈরি করুন কার্যকরী একটি টাইটেল। এটি আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেবে।

২. সাবধানতার সাথে ট্যাগ যুক্ত করুনঃ স্কিল ট্যাগ নির্ধারণ করার উপর নির্ভর করবে কিভাবে এবং কত সহজে ক্লায়েন্ট আপনাকে খুঁজে পাবে। চিন্তা-ভাবনা করে ১০-২০টি শব্দ বেছে নিন যার মাধ্যমে আপনার ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা সম্পূর্ণভাবে ক্লায়েন্টের সামনে উপস্থাপিত হবে।

৩. একটি স্পষ্ট ও সহজবোধ্য বর্ণনা লিখুনঃ হেডলাইন ও ট্যাগ ঠিক করার পর প্রোফাইলের বর্ণনা লেখা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। বর্ণনা লেখার ক্ষেত্রে একজন ক্লায়েন্ট কেন আপনার সাথে কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হবেন তার পক্ষে যুক্তি দিন।

৪. বিভিন্ন টেস্টের সাহায্যে আপনার কাজের মান যাচাই করুনঃ কাজের সাথে সম্পর্কিত ছোটখাটো পরীক্ষা–নিরীক্ষার সাহায্যে নিজের কাজের মূল্যায়ন করতে পারেন। আপনার মুখের কথার চেয়ে ক্লায়েন্টরা এসব টেস্টের ফলাফলকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন। উদাহরণস্বরুপ, আপনার মাতৃভাষা যদি হয় ইংরেজি, তবে বিভিন্ন ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি টেস্ট দিয়ে আপনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারেন।

৫. পুরোদমে কাজ শুরু করার আগে ৫-১০ টি ছোট অ্যাসাইনমেন্ট করে নিনঃ কাজ শুরুর প্রথম থেকেই আপনাকে ভবিষ্যতের চিন্তা মাথায় রেখে এগোতে হবে। সততা, সময়নিষ্ঠা আর কাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার মাধ্যমে নিজের সুনাম বৃদ্ধি করুন। ৫০ ডলারে নিচে ছোট ছোট প্রকল্প দিয়ে আপনি ওডেস্কে আপনার যাত্রা শুরু করতে পারেন। অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে আপনার পেমেন্ট রেটও বেড়ে যাবে। তাই একদম শুরুতেই বিরাট লাভের আশা না করে ছোট পদক্ষেপে সামনে এগোতে থাকুন।

৬. পোর্টফোলিও তৈরি করুন ও আপডেটেড রাখুনঃ এযাবৎ আপনি যেসব কাজ করেছেন সেগুলো প্রোফাইলের পোর্টফোলিও সেকশনে সযত্নে রেখে দিন। কারণ, এগুলো থেকে ক্লায়েন্ট আপনার কাজ সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন। সেক্ষেত্রে নিজের সেরা কাজগুলোর সাথে সাথে মাঝারি বা সাধারণ মানের কাজগুলোও পোর্টফোলিওতে তুলে ধরুন।

৭. ক্রমান্বয়ে বড় কাজগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হোনঃ ছোট থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে বড় কাজের প্রতি আগ্রহ দেখান। এভাবে আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে অনেক বৈচিত্র আসবে। বড় বড় ক্ষেত্র থেকে আপনি একটি নিয়মিত ক্লায়েন্টের গ্রুপও পেয়ে যেতে পারেন। নিজেকে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে ভবিষ্যতে এই খাতে আপনার অনেক সম্ভাবনা তৈরি হবে।

একজন নব্য ফ্রিল্যান্সার হিসেবে উপরের পদক্ষেপগুলো মেনে চলতে আপনার একটু হিমশিম খেতে হতে পারে। তাই এই পদ্ধতিগুলোর সাথে সাথে মাথায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঢুকিয়ে ফেলুন। বিষয়টি হলো, কোন কাজ শুরু করার আগে খুব ভালোভাবে কাজের বর্ণনা, ক্লায়েন্টের প্রত্যাশা, ডেডলাইন ইত্যাদি বিষয় দেখে নেয়া। কোন কাজের জন্য আবেদন করার পর গ্রাহকের প্রতিটি প্রশ্নের নিয়মিত উত্তর দেয়াও আপনাকে সেই কাজটি পেতে দারুণ সাহায্য করতে পারে।

LEAVE A REPLY

20 − 3 =