অকেজো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, নষ্ট মহাকাশযান এবং মহাকাশযানের অতিরিক্ত অংশ

0
363

মহাশূন্য বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে অনেকদূর পৌঁছে গেছে মানবজাতি, কিন্তু সেটা করতে গিয়ে পোহাতে হচ্ছে অন্যরকম এক ঝামেলা। বিভিন্ন প্রযুক্তির কল্যাণে যেমন পৃথিবীর পরিবেশ দূষিত হয়েছে, তেমনিভাবে এবার মহাশূন্যের পরিবেশের ওপরেও পড়ছে প্রভাব। মহাশূন্য অবশ্য এতটাই বিশাল যে আমাদের পৃথিবীর আশেপাশের কিছু জায়গা নোংরা হলেও মহাবিশ্বের তেমন কোনও ক্ষতি হবে না, ক্ষতি যা হবার আমাদেরই হবে!

বছরের পর বছর ধরে মহাশূন্য অভিযানের ফলে পৃথিবীর চারপাশে জমে ওঠা আবর্জনার স্তর এখন মাথাব্যাথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজ্ঞানীদের জন্য। অকেজো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, নষ্ট মহাকাশযান এবং মহাকাশযানের অতিরিক্ত অংশ মিলে তৈরি করেছে পৃথিবীর কক্ষপথে ভাসতে থাকা এই বিশাল আবর্জনার স্তর।

অকেজো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, নষ্ট মহাকাশযান এবং মহাকাশযানের অতিরিক্ত অংশ অকেজো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, নষ্ট মহাকাশযান এবং মহাকাশযানের অতিরিক্ত অংশ

বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে তৈরি করার পর একটা মহাকাশযানকে যখন মহাশূন্যে নিক্ষেপ করা হয় তখন পৃথিবীর কক্ষপথে অকেজো হয়ে ভাসতে থাকা পুরনো কোনও স্যাটেলাইটের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ার অনেক বড় একটা সম্ভাবনা থাকে এর। এর একটি উদাহরণ হল ২০০৯ সালে পুরনো রাশিয়ান স্যাটেলাইট Cosmos-2251 এর সাথে ধাক্কা খেয়ে বিস্ফোরিত হওয়া আমেরিকান মহাকাশযান Iridium-33। এমনকি কক্ষপথে অনেকদিন ধরে সচল থাকা কোনও স্যাটেলাইটও যে কোনও মুহূর্তে এমনই এক দুর্ঘটনায় অচল হয়ে যেতে পারে।

এই সমস্যার চিত্র আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত রাডার সিস্টেমগুলো পৃথিবীর কক্ষপথে ভেসে বেড়ানো প্রায় ২১ হাজারটি আবর্জনার টুকরো রেকর্ড করেছে। NASA এর Orbital Space Observatory এগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখছে সর্বক্ষণ। দেখা গেছে যে, এর মাঝে প্রায় ১৮ হাজার আবর্জনার আকার ১০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং এগুলো পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে ঘণ্টায় কয়েক হাজার কিলোমিটার বেগে। সচল যে কোনও মহাকাশযানকে ফুটো করে দিতে বা একেবারেই অকেজো করে দিতে সক্ষম এগুলো।

এখন বিষয় হল এটাই যে মহাশূন্য হয়ে গেছে ফেলে দেওয়া মহাকাশযানের এক আস্তাকুঁড়। মহাকাশযাত্রার পেছনে জড়িত সংস্থাগুলো, যারা বছরে কমবেশি ১২০ টি মহাকাশযান নিক্ষেপণ করেন, এসব আবর্জনা পরিষ্কারের উপায় তাদেরকেই খুঁজতে হবে। নতুবা চাঁদ ও মঙ্গলে মনুষ্যযাত্রা অথবা মহাশূন্যে রোবটের অভিযান পড়বে হুমকির মুখে।

অকেজো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট অকেজো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, নষ্ট মহাকাশযান এবং মহাকাশযানের অতিরিক্ত অংশ

Inter-Agency Space Debris Coordination Committee দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায় পৃথিবীর বাইরে স্যাটেলাইট চলাচলের এমন কিছু কক্ষপথ আছে যেগুলো আগামী ২০০ বছরের মাঝে ভীষণভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে যদি না এগুলোতে ভেসে বেড়ানো বর্জ্য পরিষ্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারা আরও বলেছেন, এসব বর্জ্যের সাথে সংঘর্ষের কারনে প্রতি পাঁচ থেকে নয় বছর পরপর দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এ গবেষণায় অংশগ্রহণ করে ইউরোপ, আমেরিকা, ইটালি, জাপান, ইন্ডিয়া এবং আরব দেশগুলোর স্পেস এজেন্সি। Saber Astronautics নামে সিডনীর একটি কোম্পানি ইয়ো-ইয়োর মত একটা যন্ত্র তৈরি করেছে যা দিয়ে মহাকাশের বর্জ্য বৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা যাবে। এ থেকে বের হয় ২০০ মিটার লম্বা একটি তার, যেটি পৃথিবীর চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই পুরনো স্যাটেলাইটগুলোকে টেনে সরিয়ে আনবে। এই প্রযুক্তিটি অবশ্য নতুন নয়। আগেও এমন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

১৯৮০ সালে আমেরিকার এয়ার ফোর্স এর জানামতে এমন বর্জ্য পদার্থ ছিল প্রায় পাঁচ হাজার। ২০১০ সালের মধ্যে এ সঙ্খ্যাতি প্রায় তিনগুন হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে যেসব ট্র্যাকিং সিস্টেম আছে সেগুলোতে ধরা পড়ে না ক্ষুদ্রাকৃতির ধাতব অংশগুল তাই আমাদের জানার বাইরেও আছে অনেক বেশি বর্জ্য। তাই ভেসে বেড়ানো এসব বর্জ্য পরিষ্কারে অতিসত্বর ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে একদিন দেখা যাবে একদিন এগুলো কক্ষচ্যুত হয়ে এসে পড়বে আমাদের মাথার ওপরেই!

LEAVE A REPLY

15 − six =