বাংলাদেশী প্রকৌশলীর সাফল্যঃ কম খরচে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ডিজিটাল বিলবোর্ড ডিসপ্লে উদ্ভাবন।

1
574

বাংলাদেশী প্রকৌশলী মোঃ তাহের উজ জামান তপু উদ্ভাবন করেছেন ডিজিটাল মাল্টি ফাংশনাল বিলবোর্ড ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি চালাতে বিদ্যুৎ খরচ হবে অত্যন্ত কম। একটি ৪ ফুটের ডিসপ্লে চালাতে বিদ্যুৎ লাগবে মাত্র ২৫ ওয়াট। এ ছাড়া এটি ব্যাটারি দিয়েও চালানো যাবে। একটি ১২ ভোল্ট ৭ এম্পিয়ার ব্যাটারি দিয়ে প্রায় ৬ ঘন্টা চালানো যাবে। তপু জানিয়েছেন এই ডিজিটাল বিলবোর্ড প্রযুক্তি উন্নত বিশ্বে পুরানো হলেও বাংলাদেশে তা দুর্লভ। সচরাচর দেশে যেই বিলবোর্ড ডিসপ্লে দেখা যায় সেগুলি চীন থেকে রেডি মেড আমদানী করা হয়। ফলে গ্রাহকরা তাদের পছন্দের সাইজ অনুযায়ী নিতে পারেন না। কিন্তু তপুর উদ্ভাবিত এই এলইডি ডিসপ্লে যে কোন সাইজেরই তৈরি করা সম্ভব।

 

তপু এই ডিসপ্লেতে নতুন কিছু ফাংশন সংযোজন করেছেন। তা বাংলা, ইংলিশ, আরবি যে কোন ফন্ট দিয়েই লিখা যাবে। ডিসপ্লের লেখা যে কোন কালারের করা যাবে। এর মধ্যে রিয়াল টাইম ক্লক সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিসপ্লে বন্ধ থাকলেও তা সঠিক সময় দিবে। সময় কম বেশি হবে না।এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত ডিসপ্লেতে ফন্ট পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু তপুর এই ডিজিটাল এলইডি বিলবোর্ড ডিসপ্লেতে যে কোন ফন্ট দিয়ে লিখা যাবে। ব্যবহারকারী কোন টেকনিশিয়ানের সাহায্য ছাড়াই ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে ইচ্ছেমত যে কোন লেখা ইনপুট দিতে পারবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি এই ডিসপ্লে স্থাপন খরচও অনেক কম।

 

মোঃ তাহের উজ জামান তপুর জন্ম ঢাকা জেলায়। সম্প্রতি তিনি ইলেকট্রিক এন্ড ইলেকট্রনিক্স এ বি.এস.সি করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যসিফিক থেকে। এই টিউনারকে তিনি জানান আমার স্বপ্ন একদিন বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ইলেকট্রনিক্সে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং রোবটিক বিপ্লবের সূচনা করা। বর্তমানে তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য ভয়েস শুনেই ডিসপ্লেতে লিখে দিতে পারবে এমন মেশিন, শারীরিক পঙ্গুদের জন্য Electric Wheel Chair,Electric Car সহ আরও অনেক প্রজেক্ট নিয়ে গবেষণা করছেন। তপু বলেন কেউ পৃষ্ঠপোষকতা করলে আমার গবেষণাধীন প্রজেক্টগুলি খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে পারব।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তপু জানিয়েছেন শুধু ডিজিটাল ডিসপ্লেই নয় তিনি আরও অনেক ধরনের ইলকট্রনিক্স ডিভাইস আবিষ্কার করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ডিজিটাল সোলার চার্জ কন্ট্রোলার, বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামএবল রোবট, কোয়াদ কপ্টার, ব্লুটুথ কন্ট্রোলড লোড, রোবটিক আর্ম, ১২ ওয়াটের পরিবেশ বান্ধব এসি ইত্যাদি। এর মধ্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

 

এ ব্যপারে মোঃ তাহের উজ জামান তপুর ডিজিটাল ডিসপ্লে উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতাকারী জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান বলেন, তপুর মাঝে আমি ইলেকট্রনিক্সে অসাধারণ প্রজ্ঞা লক্ষ্য করেছিলাম। সেই থেকেই আমি তপুকে বিলবোর্ড ডিসপ্লে উদ্ভাবনের দায়িত্ব দেই। কারন দেশে ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপন করতে হয় বাহিরে থেকে টেকনিশিয়ান এনে। যা আমাদের জন্য লজ্জার ব্যপার। আমি জানতাম এই প্রযেক্টে ও সফল হবেই। জেনে ভাল লাগছে যে ও সফল হয়েছে। তিনি জানান এই আবিষ্কারের ফলে এখন দেশেই আন্তর্জাতিক মানের বিলবোর্ড ডিসপ্লে তৈরি করা সম্ভব হবে।

 

তপুর পণ্য বিপননে সহায়তাকারী মাসুদ সরকার রানা জানান, তপু ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় ফেইসবুকের মাধ্যমে। আমি তপু ভাইয়ের থেকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ব্যপার নিয়ে সাহায্য নিতাম। তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় আমাকে সেটা বুঝিয়ে দিতেন। তিনি একদিন জানান যে কাস্টমাইজড বিলবোর্ড ডিসপ্লে তৈরি করেছেন। তপু ভাইয়ের এই আবিষ্কার দেশের বিজ্ঞাপন ইতিহাসে মাইলফলক হয় থাকবে। এখন থেকে ব্যবসায়ীরা স্বল্প খরচেই বিলবোর্ডের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন।

 

তাহের জামান জানিয়েছেন, আমি আমার অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উন্নত প্রযুক্তি স্বল্প খরচে মানুষের দাড় গোড়ায় পৌছে দিতে চাই। আমার উদ্ভাবিত পণ্যগুলি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করতে চাই। সেজন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। ডিসপ্লে সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে acimasud@yahoo.com এই ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে।

এখনও যারা বুঝতে পারছেন না এই ডিসপ্লেটা আসলে কি? তারা ইউটিউব থেকে নিচের ভিডিও টা দেখে নিন।

https://www.youtube.com/watch?v=yepxuwOZe9A

 

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ