বিভিন্ন ধরনের চাকরির জন্য ফেসবুক

0
385

সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকের নানাবিধ ব্যবহার বাড়ছে দিন দিন। ছবিটি প্রতীকী।প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দেয়াল টপকে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে পর্যাপ্ত পড়াশোনার পাশাপাশি দরকার সার্বিক প্রস্তুতির। এ জন্য দলবেঁধে পড়াশোনা বা ‘গ্রুপ স্টাডি’র প্রয়োজনীয়তা ও প্রবণতা নতুন নয় মোটেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রুপ স্টাডির ধরন ও ধারণায় এসেছে পরিবর্তন। চাকরির দরজা খোলার চাবি খুঁজতে এখন চাকরিপ্রার্থীরা ঢুঁ মারছেন ফেসবুক গ্রুপে। বিভিন্ন ধরনের চাকরির জন্য আলাদা এসব গ্রুপে তাঁরা চাকরি-সংক্রান্ত দরকারি তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর, প্রকাশিত ফলাফলসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, যোগাযোগ করছেন পরস্পরের সঙ্গে। ফলে অনেকেই বইয়ের পাতা থেকে চোখ তুলে প্রতিদিন একটিবারের জন্য হলেও চোখ বোলাচ্ছেন ফেসবুকের পাতায়। আর টুকে নিচ্ছেন টুকিটাকি নানা বিষয়। এভাবে কাঙ্ক্ষিত চাকরির দোরের চাবি হয়ে উঠছে এসব ফেসবুক গ্রুপ।

দশে মিলে পড়ি
বিসিএস বা সরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষাগুলোয় লাখের ওপরে প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে শুধু নিজের মতো পড়লেই হয় না। একা একা পড়াশোনায় যেমন একঘেয়েমি চলে আসতে পারে, তেমনি সব বিষয়ে সবার সমান দখলও থাকে না। তাই একটা গ্রুপ করে পড়লে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতে সুবিধা হয়। সঙ্গীদের সহায়তায় প্রার্থীদের দুর্বলতা কাটে, ধারণা স্পষ্ট হয়, অন্যের সঙ্গে আলোচনার কারণে নানা তথ্য-উপাত্ত সহজে মনে থাকে। এমন দলবেঁধে পড়াশোনার কাজটা সহজ করে দিয়েছে ফেসবুক। তাই প্রতিনিয়ত বাড়ছে এসব গ্রুপের সদস্যসংখ্যা। যেমন বিসিএস চাকরিপ্রার্থীরা ফেসবুকে ‘বিসিএস আওয়ার গোল’ নামে একটি গ্রুপ খুলেছেন, কদিন আগেই যার সদস্যসংখ্যা ৪১ হাজার ৪৬০ জন হয়েছে। আবার ৩৩তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা, ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রয়েছে আলাদা গ্রুপ। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরিপ্রার্থীরা সমবেত হয়েছেন ‘বিবি (এডি-জিএস) ভাইভা-২০১৩’ নামে। এরকম ভিন্ন ভিন্ন নামে বিভিন্ন চাকরির জন্য ফেসবুকে গ্রুপ খুলে চলছে চাকরির পড়াশোনা।

দূরত্ব বাধা নয়
বিসিএস মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে বাংলাদেশ কর্মকমিশনের সামনে উত্সুক প্রার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতোই। কদিন পরই মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পড়বে এমন প্রার্থীরাই ভিড় করেন সেখানে। কেমন প্রশ্ন করা হয়, কী কী জানতে চায় ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা পাওয়ার জন্যই এই ভিড়। কেউ সাক্ষাত্কার দিয়ে বের হয়ে এলেই সবাই মিলে জেরা শুরু—কী কী প্রশ্ন করেছে? কতক্ষণ রেখেছে? বাড়তি কিছু বলেছে কি না? এই দৃশ্য এখন পাল্টে যাচ্ছে। কেননা এসব অনেক প্রশ্নের উত্তর এখন মিলছে ফেসবুক গ্রুপেই। উত্তর খুঁজতে এখন আর পিএসসির সামনে ভিড় না করলেও চলে। গ্রুপের সদস্যরা পরীক্ষা দিয়ে নিজেরাই তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। অন্যরা ফেসবুক মারফত ঘরে বসেই এ ধারণা পাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা সহজেই সংযুক্ত থাকতে পারছেন অন্যদের সঙ্গে। শতব্যস্ততার মধ্যেও মুঠোফোনেই দেখে নিতে পারছে সর্বশেষ প্রশ্নের উত্তর।

নানা মত, নানা পথ
একই প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন উপায়ে দেওয়া যায়। সে লিখিত মৌখিক বা যে পরীক্ষাই হোক। বিশেষ করে ব্যাখ্যামূলক বা কৌশলগত প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তরটি সহজেই বেছে নেওয়া সম্ভব এসব গ্রুপ থেকে। হয়তো একজন কোনো নমুনা প্রশ্ন পোস্ট করেছেন, অন্যরা তার উত্তর লিখে দিচ্ছেন নানারকম যুক্তি দিয়ে। ফলে বাকিরা এসব প্রশ্নোত্তর পড়ে অনুশীলন করতে পারছেন সহজেই। যেমন ‘আপনি পুলিশ ক্যাডার হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন?’ কিংবা ‘আপনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও কেন প্রশাসনে আসতে চান?’ বা ‘পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুযোগ পেলে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নিজের দেশকে বিশ্বের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করবেন?’ এমন নানা প্রশ্নের যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর দেওয়ার জন্য অনেকের দিক নির্দেশনা চোখে পড়বে ফেসবুক গ্রুপগুলোতে। আর এসব পোস্টের নিচে অনেক মন্তব্য তো আছেই। ফলে নানা জনের নানা মতের আদান-প্রদানে সহজেই একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় অনেক জটিল বিষয়েরও।

তথ্যবিনিময়
শুধু পড়াশোনা নয়, চাকরি-সংক্রান্ত নানা তথ্যও শেয়ার করা হয় এসব গ্রুপে। ফলে একজন চাকরিপ্রার্থী সহজেই অন্য অনেক কিছুর খবর পেয়ে যান। নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি, ফলাফল, নোটিশ কিংবা চাকরি ও চাকরির প্রস্তুতি-সংক্রান্ত নানা লেখাজোখাও বিনিময় করছেন তাঁরা। এ ছাড়া বাজেট, মুদ্রানীতি, পররাষ্ট্রনীতিসহ বিশেষ কোনো বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনও আপলোড করা হচ্ছে, যাতে একজন পরীক্ষার্থী প্রয়োজনে তা ডাউনলোড করে পড়তে পারেন। বিতর্কিত বা আলোচিত-সমালোচিত নানা বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত এবং সেগুলোর তথ্যসূত্র যুক্ত করা হচ্ছে এসব গ্রুপে। ফেসবুকে চাকরিপ্রার্থীদের এসব গ্রুপের কল্যাণে এখন দেশে নানা প্রান্তের তরুণ-তরুণীরা একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে হতে পারছেন। এতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা প্রস্তুতির পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের প্রার্থীদের মধ্যেও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ছে। নানাবিধ উপযোগিতার কারণেই ফেসবুকের এমন গ্রুপগুলো চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

five − four =