অনলাইনের ১০ কু অভ্যাস থেকে মুক্তির উপায়

0
373

দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত প্রযুক্তিপণ্যগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ ভুলও কিন্তু আমাদের বড় ধরনের ঝামেলায় ফেলতে পারে। প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারের সময় গড়ে ওঠা কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। এমনই ১০ কু-অভ্যাস থেকে মুক্তির উপায় জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেখে নিন কি সেই ভুলগুলো।

সবকিছুতে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার
এই ভুলটি প্রায় অধিকাংশ মানুষই করেন। তারা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। এতে করে একটি পাসওয়ার্ড দুর্বৃত্তদের হাতে পড়ে গেলে তারা সব অ্যাকাউন্টে সহজে ঢুকতে পারে। একটি পাসওয়ার্ড মনে রাখা সহজ বলে সব অ্যাকাউন্টে ওই একই পাসওয়ার্ড দিয়ে পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে চান অনেকে। এ অভ্যাসটিকে বিপজ্জনক অভ্যাস বলছেন প্রযুক্তি গবেষকেরা। যদি নতুন পাসওয়ার্ড মনে রাখতে সমস্যা হয়, তবে লাস্ট পাসের মতো পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনার অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্য নিতে পারেন।

কোনোদিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করা
একই পাসওয়ার্ড যেমন বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আবার ঠিক তেমনি একই পাসওয়ার্ড বেশিদিন ব্যবহার করাও উচিত নয়। পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত। মাইক্রোসফটের পরামর্শ হচ্ছে, প্রতি মাসে একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। মাসে একবার না পারলে নিরাপদ থাকতে প্রতি তিন মাসে হলেও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা সক্রিয় না করা
সাইবার দুর্বৃত্তদের রাজত্বের সময়ে দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার না করা বোকামি। অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোর অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘টু-স্টেপ অথেনটিকেশন’ সক্রিয় করা প্রয়োজন।

অনলাইনে আপনি যে যে সার্ভিস ব্যবহার করেন তাতে যদি দ্বিস্তরযুক্ত শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগ থাকে তা কাজে লাগাবেন। ম্যাকাফির অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রবার্ট সিসিলিয়ানোর পরামর্শ হচ্ছে দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে তার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি লগ ইন করার সময় স্মার্টফোন ও ট্যাবে আরও একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয়।

এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না, সে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো অনেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া রয়েছে।

ছবি মুছতে ভুলে যাওয়া
আপনার মোবাইল ফোনের জায়গা নষ্ট হওয়ার জন্য ছবি মুছে ফেলতে ভুলে যাওয়ার অভ্যাস দায়ী। বেশি পুরোনো ছবি মোবাইলে না রেখে তা মুছে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনার পুরোনো ছবি বা গানগুলোকে অনলাইনে ক্লাউড সার্ভিসে রেখে দিতে পারেন।

কম্পিউটারের জন্য যখন শ্বাস বন্ধ হয়
যারা নয়টা-পাঁচটা অফিস করেন তারা কম্পিউটারে বসার নিয়ম কানুন অনেক সময় মেনে চলেন না। গবেষকেরা জানিয়েছেন, টানা ৮ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে স্থূলতা, ডায়াবেটিসের মতো নানা সমস্যার ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একটানা কম্পিউটার ব্যবহারের পরিবর্তে মাঝে মাঝে বিরতি দিন। এছাড়া কম্পিউটার মনিটরটির অবস্থান আপনার চোখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থাপন করুন।

লগ আউট করতে ভুলে যাওয়া
অনেকেই ফেসবুক, জিমেইলের মতো অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোতে যাওয়ার পর লগ আউট করতে ভুলে যান। শিক্ষার্থীরা এই ভুল বেশি করে বসেন। সাইবার ক্যাফে. লাইব্রেরি কম্পিউটার কিংবা বন্ধুর কোনো কম্পিউটারে লগ ইন করার পর অনেক সময় তা ব্যবহার করে আর লগ আউট করেন না।

অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট হওয়া এবং ব্রাউজিং হিস্ট্রি মুছে ফেলার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার বিষয়টি অনিরাপদ কোনো পিসি থেকে না করাই ভালো। গুগল, ফেসবুক, স্কাইপে দূর থেকে কীভাবে লগ আউট করা যায় তার ভিডিও টিউটোরিয়াল পাবেন।

কম্পিউটার কখনো রিস্টার্ট না দেয়া
টানা কম্পিউটার ব্যবহার করে যাচ্ছেন কিন্তু পিসিকে মোটেও বিশ্রাম দিচ্ছেন না। এতে পিসির মারাত্মক ক্ষতি না হলেও পিসির গতি কমে যাবে। কম্পিউটারের গতি কমিয়ে দেয় এ ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বন্ধ করতে রিস্টার্ট একটি উত্তম উপায়। অবশ্য, ঘন ঘন রিস্টার্ট দেয়া বা পিসি বন্ধ করার অভ্যাস করাও ঠিক নয় এতে আপনি অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারেন।

বারবার মোবাইল দেখা
ঘুমানোর আগে অনেকেই বারবার মোবাইল দেখতে থাকেন যা মোটেও ঠিক নয়। গবেষকেরা বলেন, কৃত্রিম এই আলো ঘুম নষ্ট করার জন্য এই আলো দায়ী। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ঘুমানোর আগে ট্যাব বা স্মার্টফোনের ব্যবহার ঘুমের চক্রকে নষ্ট করে দেয়।

আপডেট নিতে ভয় করা
সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করতে অনেক সময় বিরক্তিবোধ হয়। বেশি সময় লাগে বলে গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটা অনেকেই করতে চান না। কিন্তু সফটওয়্যার সবসময় হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করা উচিত। মোবাইল ফোনের অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার আপডেটে অনেক সময় সফটওয়্যার বাগ দূর করা হয় এবং অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে বলে হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করা উচিত।

ফাইল ব্যাকআপ না রাখা
অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল ব্যাকআপ রাখেন না যা তার বাজে অভ্যাসের মধ্যে পড়ে। যদিও এখনকার ফোনে বেশির ভাগ ছবি, কন্টাক্ট ও বার্তা ব্যাকআপ রাখার সুবিধা থাকলেও ডেস্কটপে যখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয় তখন তা দ্রুত ব্যাকআপ করে রাখা উচিত। এখন অনেক ক্লাউড সার্ভিস রয়েছে যার সুবিধা নিয়ে আপনি সহজেই তথ্য ব্যাকআপ রাখতে পারবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ