কিছু পদক্ষেপ নিলেই সাইবার আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকা যায়, যেমনঃ

0
406

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে সাইবার নিরাপত্তা। দিন যতই যাচ্ছে সাইবার নিরাপত্তা ততই হুমকির সম্মুক্ষীন হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তামূলক গবেষকরা বারবার সবাইকে সতর্ক করার পরও কেউ কেউ নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না। গত কয়েক মাসের মধ্যে প্রচুর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সাইবার আক্রমনের সম্মুক্ষীন হয়েছেন।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিইয়ায় একটি গবেষোণা করে দেখা গেছে যে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা অনেকটাই দূর্বল প্রকৃতির, সংখ্যায় হিসেব করলে তাদের নিরাপত্তার মান ১০ এর মধ্যে ৪.৫, যা অনেকখানি দূর্বল অস্ট্রেলিয়ার মত একটি প্রগতিশীল দেশের জন্য। বর্তমান সাইবার আক্রমনের লিস্টে অস্ট্রেলিয়া ২১তম অবস্থানে আছে, যা আগে ছিল ২৪-এ। অস্ট্রেলিয়া’স কম্পিউটার ইমার্জেন্সী টিমের(CERT) মতে ২০১২ সালে প্রায় ২০ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

হ্যাকাররা মূলত ম্যালওয়ার, ডিওএস (Denial-of-Service) আক্রমণের মাধ্যমে এইসব সাইটগুলোকে হ্যাক করে আসছে। ক্রেডিট কার্ডের উপর অস্ট্রেলিয়ার এক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান তদন্ত করে দেখেছে যে, রোমানিয়ান ক্রিমিনাল নামে একদল সিন্ডিকেট প্রায় ৫০০,০০০ এর মত ক্রেডিট কার্ডের দখল নিয়ে নিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০,০০০ কার্ডের মাধ্যমে প্রতারণামূলক লেনদেন করে প্রায় ৩০ মিলিয়নের চেয়েও বেশী টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সুতরাং এখনই সময় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার, হয়তবা কয়দিন পর থেকে, বাংলাদেশও সাইবার হুমকির সম্মুক্ষীন হতে পারে। সময় থাকতেই সাবধান হয়ে যাওয়া ভালো। এখন আসুন আলোচনা করি এই হুমকির থেকে কিভাবে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা নিজেকে রক্ষা করবেন। কিছু পদক্ষেপ নিলেই সাইবার আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকা যায়, যেমনঃ

১. অ্যাপ্লিকেশনের হোয়াইটলিস্ট করা: অ্যাপ্লিকেশনের হোয়াইটলিস্ট বলতে, কিছু নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন চালানোর অনুমতি দিয়ে দেওয়া। অনুমতি ব্যাতিত অন্য কোন অ্যাপ্লিকেশন চলতে না দিলে, আপনি আপনাকে ম্যালওয়ার থেকে রক্ষা করতে পারবেন। কারণ অনেক অ্যাপ্লিকেশন আছে যেগুলোতে ম্যালওয়ার থাকে, যার ফলে আপনি সাইবার আক্রমণের সম্মুক্ষীন হতে পারেন।

২. প্যাচ করা সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন: আমরা অনেকেই সফটওয়্যার টাকা দিয়ে না কিনে, সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে প্যাচ করি, যা করা উচিত নয়। কারণ এতে আপনি সফটওয়্যারটির মূল ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন না, ফলে সফটওয়্যারটি আপডেট দিতে পারে না, এবং আপনার সফটওয়্যারটি নিরাপদ থাকেনা।

৩. পাসওয়ার্ড এবং বিশেষাধিকার দেওয়া: আমরা অনেকেই খুব দূর্বল প্রকৃতির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি, যেমন ডিকশনারী শব্দ ব্যবহার করি, যা ব্যবহার করা উচিত না। হ্যাকারদের জন্য ডিকশনারী শব্দ ভাঙ্গা অনেক সহজতর একটি কাজ। আর আমাদের সবার উচিত সাইটের মধ্যে কে কি করছে বা করবে এইগুলো পর্যবেক্ষণ করে রাখা।

৪. তথ্য নীতির বিকাশ ঘটানো: তথ্য নীতির বিকাশ ঘটানো বলতে, আপনার সাইটের তথ্যগুলোর নিরাপত্তার জন্য সঠিক নীতি নির্ধারণ করে রাখলে, আপনার সাইটে যেকোন ধরনের তথ্যের অবাধ অনুপ্রবেশ হবে না, যার ফলে আপনার সাইট সাইবার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

৫. কর্মীদের শিক্ষা প্রদান: কর্মীদের সঠিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে আপনি আপনার তথ্য নিরাপত্তা বাড়াতে পারেন। গোপন তথ্য কিভাবে সংরক্ষন করতে হয়, তার শিক্ষাও দিতে হবে। আরেকটি শিক্ষা অবশ্যই দিতে হবে, মেইল ব্যবহার করার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে মেইলে যদি কোন ফাইল সংযুক্ত থাকে, তা ফিল্টার করে খুলতে পারা।

৬. সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রাখা: কাজের সময় কর্মীরা যাতে সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো না খুলে রাখে, তার উপর নজর দিতে হবে। কারণ অধিকাংশ সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের মাধ্যমেই ম্যালওয়ার ছড়াচ্ছে। সুতরাং কর্মীদের কাজ করার সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

৭. রিপোর্ট করা: অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা সাইবার আক্রমণের জন্য রিপোর্ট করে না, যা সাইবার আক্রমণকারীদের উৎসাহ জোগায়। আমাদের উচিত সাইবার আক্রমণ হলেই রিপোর্ট করা, তাহলে সাইটগুলোকে আক্রমণকারীদের থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।

সুতরাং এখনই সময় সতর্ক হওয়া এবং নিজেকে নিজের প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার স্বার্থে উপরের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা। নাহলে হয়তবা আপনিও যেকোন সময় সাইবার আক্রমনের স্বীকার হতে পারেন।

একটি উত্তর ত্যাগ