মহাবিশ্বের রহস্যের সমাধানে কৃষ্ণ শক্তি পর্যবেক্ষণ

0
399

মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারনাগুলোর একটি হলো, এটি ক্রমশই প্রসারিত হচ্ছে এবং এর প্রসারিত হবার বেগও বেড়ে চলছে। এর পেছনে কারণ কি? বিজ্ঞানীরা আশা করছেন Dark Energy Survey নামের একটি গবেষণা থেকে তারা এর জবাব পাবেন। এই গবেষণায় মহাবিশ্বের একটি বিশেষ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হবে আগামী পাঁচ বছর ধরে। বিগত ১০ বছর ধরে এই গবেষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং এর সাথে জড়িত রয়েছে ছয়টি দেশের ২৫টি সংস্থা।

এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ আকাশের পাঁচ হাজার বর্গ-ডিগ্রি অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করবেন। এ অঞ্চলটি রয়েছে আকাশের প্রায় এক অষ্টমাংশ এলাকা জুড়ে। এর মাধ্যমে Dark Energy বা কৃষ্ণ শক্তি নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। কৃষ্ণ শক্তিকে ধরা হয় এমন একটি শক্তি হিসেবে যা সর্বত্র বিরাজমান এবং মহাবিশ্বের প্রসারণের পেছনে এটি মূল কারণ। কিন্তু এটি অদৃশ্য এবং একে সরাসরি পর্যবেক্ষণের কোনও উপায় নেই। বিজ্ঞানীরা তাই পরোক্ষ উপায়ে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

কৃষ্ণ শক্তির প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য যেসব বিষয়ের ওপর লক্ষ্য রাখা হবে সেগুলো হলো, ছায়াপথগুচ্ছের সংখ্যা, পৃথিবী থেকে সুপারনোভা নক্ষত্রগুলোর দূরত্ব, ছায়াপথগুলোর আকৃতি ইত্যাদি। এছাড়াও মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র এক লক্ষ বছর, তখনকার শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে এর প্রসারন তত্ত্ব যাচাই করে দেখা হবে। মূলত মহাজাগতিক বস্তুগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব পরিমাপ এবং মহাকর্ষ এবং কৃষ্ণ শক্তির মাঝে সম্পর্ক স্থাপনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে এই গবেষণা।

মহাবিশ্বের রহস্যের সমাধানে কৃষ্ণ শক্তি পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের রহস্যের সমাধানে কৃষ্ণ শক্তি পর্যবেক্ষণ

গবেষকদের মতে, মহাকর্ষের টানে ছায়াপথগুলো একত্রিত হতে থাকে এবং গুচ্ছাকৃতির সৃষ্টি হয়। কৃষ্ণ শক্তি আবার মহাকর্ষের বিপরীতে কাজ করে এগুলোকে আলাদা করে ফেলে। তাই এসব ছায়াপথগুচ্ছের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কৃষ্ণশক্তির প্রভাব বুঝে ওঠা সম্ভব হবে। একটা সুপারনোভার বিস্ফোরিত হবার সময় থেকে বিলীন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এর উজ্জ্বলতা পরিমাপের মাধ্যমে পৃথিবী থেকে এর দূরত্বের পরিমাপ করা যায়। একটা সুপারনোভা এর বিস্ফোরণের স্থান হতে যত দূরে অবস্থিত, ততটাই দ্রুত মহাবিশ্বের প্রসারণের হার। ছায়াপথের আকৃতি থেকে জানা যাবে কৃষ্ণ বস্তু সম্পর্কে।

মহাবিশ্বের তারুন্যে (যখন এর বয়স ছিল ৪ লক্ষ বছর এর মত), তখন আলো এবং বস্তুর সম্মিলিত ক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয় শব্দ তরঙ্গ। ছায়াপথের বিন্যাসে এগুলোর যথেষ্ট প্রভাব ছিল এবং এই Dark Energy Survey এর একটি কাজ হল মহাবিশ্ব কিভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে তার একটি মানচিত্র তৈরি করা।

এই গবেষক দল ব্যবহার করবে চিলিতে অবস্থিত Dark Energy camera টি। এটা একটা ডিজিটাল ক্যামেরা যাতে আছে পাঁচটি লেন্স এবং ৫৭০ মেগাপিক্সেল এর সেন্সর। পৃথিবী থেকে ৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথগুলোকেও পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা আছে এর। এছাড়া এই ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি পরবর্তীতে পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং মহাবিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাপারে গবেষণা করা যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

six − three =