আসুন জেনে নেই ডিজিটাল ড্রাগ কি এবং কোন কাজে ব্যাবহার করা হয়

0
780

আসসালামু আলাইকুম।সবাই কেমন আছেন?আশা করি সবাই ভালো আছেন।আজকে একটু প্রযুক্তি রিলেটেড ভিন্ন ধারার কিছু নিয়ে টিউন করব।আর সে বিষয়টি হচ্ছে ডিজিটাল ড্রাগ।তাহলে এবার মূল টিউনে যাই।

আসলে এখানে ডিজিটাল ড্রাগে যে ড্রাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এটার কোন খারাপ পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই যেটা অন্য সব খারাপ মেডিক্যাল ড্রাগে আছে।এই ড্রাগটা পুরোটাই তৈরি করা হয় সাউন্ড দিয়ে।এ কারনেই এর নাম ডিজিটাল ড্রাগ।ডিজিটাল ড্রাগ বলতে বুঝায় মূলত বাইনরাল বীটকে।যখন একই মাধ্যম দিয়ে দুইটি ভিন্ন কম্পাঙ্কের সাউন্ড স্টেরিও হেডফোন অথবা স্পিকারের দ্বারা আমাদের কানে প্রবাহিত করা হয়,তখন আমাদের ব্রেন দুইটি আলাদা সিগনালকে একত্রিত করে তৃতীয় ভিন্ন কম্পাঙ্কের একটি সাউন্ডের উৎপন্ন করে।এই তৃতীয় সাউন্ডকেই বলা হয় বাইনরাল বীট।উদাহরণ দিয়ে বলা যায়-যদি আপনার এক কানে ১০০ হার্জ কম্পাঙ্কের সাউন্ড বাজানো হয় এবং একই সাথে আরেক কান দিয়ে ১০৭ হার্জ কম্পাঙ্কের সাউন্ড বাজানো হয় তখন ব্রেন দুটি জিনিস মিলিয়ে ৭ হার্জ কম্পাঙ্কের তৃতীয় একটি সাউন্ড উৎপন্ন করে।এটিই হচ্ছে বাইনরাল বীট।

আসুন জেনে নেই ডিজিটাল ড্রাগ কি এবং কোন কাজে ব্যাবহার করা হয়

বিভিন্ন ব্রেন-ওয়েভে মানুষের মনের অবস্থা

বেটা(১২-৩০ হার্জ)-এ অবস্থায় মানুষের ব্রেন সবচেয়ে সচল অবস্থায় থাকে।এ অবস্থায় মানুষের মনোযোগ একাগ্রচিত্র থাকে এবং প্রবলেম-সল্ভিং ক্ষমতা খুবই ভালো থাকে।

আলফা(৭.৫-১২ হার্জ)-এটা হচ্ছে মানুষের রিলেক্সড  মুড।এ অবস্থাটা ইবাদত এবং মেডিটেশনে অনেক কাজে লাগে।পড়ালেখা করার জন্য এটা খুবই উপযোগী একটা অবস্থা।গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে আলফা ব্রেন-ওয়েভে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করে।

থেটা(৪-৭.৫ হার্জ)-ডিপ মেডিটেশনে ব্রেন এই অবস্থায় থাকে।আমরা ঘুমানোর সময় যে স্বপ্ন দেখি তা ব্রেনের এই অবস্থায় দেখি।ব্রেন এ অবস্থায় থাকাকালে আমরা আমাদের জীবন সম্পর্কিত ঘটনাবলি ভিজুয়ালাইজ করি।

ডেলটা(০.৫-৪ হার্জ)-এটা হচ্ছে মানুষ যখন গভীর ঘুমে থাকে তখনকার অবস্থা।এ অবস্থায় মানুষের ব্রেন পুরোপুরি অচল থাকে।

আসুন জেনে নেই ডিজিটাল ড্রাগ কি এবং কোন কাজে ব্যাবহার করা হয়

আসুন জেনে নেই ডিজিটাল ড্রাগ কি এবং কোন কাজে ব্যাবহার করা হয়

এটা যেভাবে কাজ করে

আপনার এক কানে যদি ১০০ হার্জ কম্পাঙ্কের সাউন্ড বাজানো হয় এবং ওপর কানে যদি ১০৩ হার্জ কম্পাঙ্কের সাউন্ড বাজে তখন ৩ হার্জ কম্পাঙ্কের বাইনরাল বীট সৃষ্টি হবে।৩ হার্জ কম্পাঙ্ক হচ্ছে ব্রেনের ডেলটা অবস্থা।আর ব্রেন ডেলটা অবস্থায় চলে গেলে মানুষ গভীর ঘুমে চলে যায়।সুতরাং যাদের ঘুমে সমস্যা আছে তারা এই কম্পাঙ্কের বাইনরাল বীট ব্যাবহার করে দেখতে পারেন।

আসুন জেনে নেই ডিজিটাল ড্রাগ কি এবং কোন কাজে ব্যাবহার করা হয়

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন রকমের বাইনরাল বীট পাওয়া যায়।গির্জার ঘণ্টার সাউন্ড,সমুদ্রের স্রোতের গর্জনের শব্দ,বিভিন্ন রকম পাখির শব্দ এগুলোকে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে রেখে এখন নতুন নতুন বাইনরাল বীট বানানো হচ্ছে।নিচের ওয়েবসাইটে পাবেন এসব বাইনরাল বীট-

http://free-binaural-beats.com

এছাড়া এগুলো ইউটিউবেও পাওয়া যায়(ডিরেক্টলি প্লে করে শুনতে পারেন অথবা mp3 ফরম্যাটে ডাউনলোড করে ইচ্ছেমত শুনতে পারেন।প্রত্যেকটার আলাদা কি বৈশিষ্ট্য আছে সেটা পাশে আপলোডার লিখে দিয়েছে)

https://www.youtube.com/user/BinauralBrainwave/videos

এগুলো আবার কিছু নামি-দামি কোম্পানি বিক্রিও করে।যেমন-আইডোজার।

যারা কষ্ট করে টিউনটি পরেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ্‌ হাফেজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × five =