ফেসবুক ব্যবহার করে মাসে আয় ২ কোটি টাকা

0
580

ডব্লিউটিএফ ম্যাগাজিন ও ফানিয়ারপিকস ডটনেটের প্রতিষ্ঠাতা। তিন বছর আগে তিনি ছিলেন দেউলিয়া, পথের ফকির, জেল ফেরত আসামি। ফেসবুকের কল্যাণে ভাগ্য বদলে গেছে তার। এখন জেসন ফিকের মাসে আয় দুই লাখ ৭৫ হাজার ডলারেরও বেশি! বাংলাদেশি অর্থে যার পরিমাণ দুই কোটি সাড়ে নয় লাখ টাকা। ফেসবুকের যথাযথ ব্যবহারই তাকে দেউলিয়া থেকে কোটিপতি বানিয়েছে।

ফেসবুক ব্যবহার করে মাসে আয় ২ কোটি টাকা ফেসবুক ব্যবহার করে মাসে আয় ২ কোটি টাকা

২০০৫ সাল থেকেই অর্থকষ্টে ছিলেন জেসন। রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে কাজ করতেন। কিন্তু বাজারে মন্দা চলতে থাকায় তার দুরাবস্থা সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছায়। স্ত্রী-পুত্র নিয়ে পড়েন মহাবিপদে। টিকে থাকার জন্য আয়ের পথ খুঁজতে থাকেন তিনি। এ সময়ই বন্ধুরা একটি ওয়েবসাইট খোলার পরামর্শ দেন জেসনকে। বন্ধুদের কথা শুনে ডব্লিউটিএফ ম্যাগাজিন ডটকম ডোমেইনটি কিনে ফেলেন তিনি।

চিন্তা করেন এই সাইটটিতে বিনোদনমূলক বিভিন্ন কনটেন্ট রাখবেন তিনি। তার এই উদ্যোগের সঙ্গে হাত মেলান কয়েকজন বন্ধু।
২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইট চালু করেন তিনি। এতে মজার মজার সব কনটেন্ট আপলোড করেন। তৈরি করেন ফেসবুক পেজ এবং তার ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে একই রকম কনটেন্ট শেয়ার করতে শুরু করেন। এ সময় ম্যাগাজিনের জন্য একটি গল্প সংগ্রহ করতে গিয়ে তাকে জেলে যেতে হয়।

মারামারিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার জীবন আরও দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। তিনি আত্মহত্যার কথাও ভাবতে শুরু করেন। তবে কারাভোগের অভিজ্ঞতার ঘটনা প্রকাশের জন্য একটি মাধ্যম খুঁজছিলেন তিনি। এ সময় বেছে নেন ফেসবুক। এরপরই জেসন শুরু করেন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ। বিভিন্ন নামে ফেসবুকে ফ্যান পেজ খুলে লাইক বাড়ানোর কাজ শুরু করেন। ওয়েবসাইটে ভালো কনটেন্ট এবং ফেসবুকে লাইকের কারণে ওয়েবসাইটে ভালো পাঠক পেতে শুরু করেন এবং বিজ্ঞাপন থেকে দ্রুত তার আয় বাড়তে থাকে।

জেসন বলেন, ফেসবুকে অনর্থক সময় দেওয়ার জন্য আমার স্ত্রী রাগ করতে শুরু করলেও আমি না খেয়ে বসে ফেসবুক পেজগুলো চালাতাম। আমি আমার স্ত্রীকে বলতাম, ফেসবুকে আমি যে ডিস্ট্রিবিউশনের কাজ করছি- এর মূল্য একদিন পাব। বর্তমানে জেসন ৪০টি ফেসবুক পেজ চালাচ্ছেন এবং এসব পেজগুলোতে সব মিলিয়ে দুই কোটি ৮০ লাখ লাইক রয়েছে। এই ফেসবুক পেজগুলো থেকে তার ওয়েবসাইটে অসংখ্য পেজভিউ হয়। আর বিজ্ঞাপন থেকে তার আয়ও আসে প্রচুর।

একটি উত্তর ত্যাগ