পৃথিবীর সবচাইতে পুরনো কৃত্রিম পায়ের বুড়ো আঙ্গুল

0
595

দুর্ঘটনা বা রোগবালাইয়ের ফলে অঙ্গহানি ঘটলেও বর্তমানে কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রসথেটিক এর কল্যাণে মানুষের জীবন সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হচ্ছে এমনকি কৃত্রিম অঙ্গের অধিকারী ব্যক্তিরা কর্মক্ষেত্রেও যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। কৃত্রিম হাত বা পা সম্বলিত খেলোয়াড়দেরও দেখা পাওয়া যাচ্ছে এখন। কৃত্রিম অঙ্গের উৎপাদন ও ব্যবহার চলে আসছে অনেক প্রাচীনকাল থেকেই এবং এটি মোটেও আধুনিক কোনও আবিষ্কার নয়। হিন্দুদের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ঋগ্বেদ এবং গ্রীক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাসের বর্ণনায় রয়েছে কৃত্রিম অঙ্গের উল্লেখ। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার এমনই এক নিদর্শন হল কৃত্রিম পায়ের বুড়ো আঙ্গুল।

পায়ের বুড়ো আঙ্গুল পৃথিবীর সবচাইতে পুরনো কৃত্রিম পায়ের বুড়ো আঙ্গুল

মিশরীয় একটি সমাধিতে এই দুইটি কৃত্রিম আঙ্গুল আবিষ্কারের পর অনেকে মতামত দিয়েছিলেন যে এগুলো দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য না হয়ে বরং শুধুমাত্র অলংকরন হিসেবেও সমাধিতে দিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু মিশরীয় সমাজে স্যান্ডেল পরে হাঁটতে হত এবং বুড়ো আঙ্গুল ছাড়া এই স্যান্ডেল পরা বা হাঁটা কোনটাই খুব সহজে করা যেত না। বুড়ো আঙ্গুলবিহীন স্বেচ্ছাসেবীরা এই কৃত্রিম আঙ্গুল এবং মিশরীয় স্যান্ডেল পরে হেঁটে দেখান এবং প্রমাণ করেন যে এগুলো আসলেই প্রায়োগিক কারণে তৈরি করা হয়েছিল, অলংকরনের জন্য নয়।

পায়ের বুড়ো আঙ্গুল2 পৃথিবীর সবচাইতে পুরনো কৃত্রিম পায়ের বুড়ো আঙ্গুল

এই দুইটি নিদর্শনের মাঝে একটি হলো গ্রেভিল চেস্টার টো (Greville Chester toe), যেটা বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সালেরও আগে তৈরি করা এই অঙ্গটি তৈরিতে উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় কারটনেজ (Cartonnage) নামের একটি পদার্থ যেটি লিনেন, প্রাণীজ আঠা এবং রঙিন প্লাস্টার দিয়ে তৈরি হত। অন্যটি হলো কায়রো টো (Cairo toe) যেটি সংরক্ষিত আছে কায়রোর ঈজিপ্সিয়ান মিউজিয়ামে। এটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় কাঠ এবং চামড়া এবং এটি পাওয়া যায় লুক্সর এর কাছে, এক মহিলার মমিতে। ধারণা করা হয় এটি তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৯৫০ থেকে ৭১০ সালের মাঝে কোন এক সময়ে। এর আগে রোমান সভ্যতার একটি কৃত্রিম পা পাওয়া গিয়েছিল ব্রোঞ্জ এবং কাঠের তৈরি। ধারণা করা হয়েছিল এটি খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সালের তৈরি এবং তখন এটিকেই ধরা হত পৃথিবীর সবচাইতে পুরনো প্রস্থেটিক হিসেবে।

“বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এই আঙ্গুলগুলোকে পরীক্ষা করে মত দিয়েছেন যে এগুলোই ইতিহাসের সবচাইতে পুরনো কৃত্রিম অঙ্গ”, ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানচেস্টারের গবেষক জ্যাকি ফিঞ্চ বলেন। “প্রাচীনকালে মিশরিয়রা মমিদের সমাধিস্থ করার সময়ে অলংকরনের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করত বটে কিন্তু এগুলোর পড়ার ধরন এবং নকশা থেকে বোঝা যায় যে মানুষ এগুলো ব্যাবহার করত হাঁটার সুবিধার জন্যই”।

এ বিষয়টি প্রমানের জন্য ফিঞ্চ দুইজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেন যাদের ডান পায়ে বুড়ো আঙ্গুল নেই। এদের পায়ে এই কৃত্রিম বুড়ো আঙ্গুল পরানো হয় এবং মিশরীয় স্যান্ডেলের অনুরুপ পাদুকা পরানো হয় এর উপরে। এরপর দুই স্বেচ্ছাসেবীকে ৩৩ ফুট হাঁটানো হয়। তাদের চলন এবং হাঁটার সময় পদক্ষেপের চাপ পরিমাপ করা হয় বিশেষ একটি ম্যাটে। দেখা যায় কৃত্রিম আঙ্গুল এবং স্যান্ডেল পরা অবস্থায় তারা হাঁটতে পারছেন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে।

উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 2 =