মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্টকে ই-বুকে রূপান্তর করুন (ইবুক এবং পিডিএফ নিয়ে মেগা টিউন্স)

0
463

স্ম্যাশওয়ার্ড ই-বুক পাবলিশিং ও ডিস্ট্রিবিউশন সার্ভিস আপনার হার্ডডিস্কের কোনায় পাবলিশিং এর অপেক্ষায় পরে থাকা বইয়ের ওয়ার্ড ফাইলকে EPUB, MOBI এবং অন্যান্য ই-বুক ফরম্যাটে রূপান্তর করে আপনার ই-বুককে অনেকগুলো খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রির জন্য পৌঁছে দেবে । এই সুবিধা আপনি পাচ্ছেন ফ্রি।

স্ম্যাশওয়ার্ড ই-বুক পাবলিশিং সার্ভিস আপনাকে পাবলিশিং এর জন্য কম সময় ব্যয় করে লেখা-লেখির জন্য বেশি সময় নিশ্চিত করতে চায়। তাই আপনার পাবলিশিং ও ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য লগ অন করুন ও স্মার্ট গাইডের নির্দেশনা অনুসরণ করে আপনার লেখার ই-বুক পাবলিশ করুন।

Pulsing site logo.gif মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্টকে ই-বুকে রূপান্তর করুন (ইবুক এবং পিডিএফ নিয়ে মেগা টিউন্স)

এজন্য আপনাকে সাইন আপ করতে হবে ও তারপর আপনার যে বই কে আপনি ই-বুক এ পরিণত করতে চান তার কপি স্ম্যাশ ওয়ার্ডে আপলোড করতে হবে। তবে চমৎকার ই-বুক তৈরির জন্য আপনার জন্য রয়েছে কিছু টিপস যা আপনি পাবেন স্টাইল গাইডে। এই স্টাইল গাইড আপনি স্ম্যাশওয়ার্ডের সাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। বই বা ডকুমেন্ট এর কপি আপলোড করার পূর্বে স্টাইল গাইডের নির্দেশ অনুসারে আপনার ওয়ার্ড ফাইলের টেক্সট বক্স, টেবিল ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। কারন ই-বুক এ পরিণত হলে এগুলো সব ই-বুক রিডারে নাও সাপোর্ট করতে পারে।

স্ম্যাশ ওয়ার্ডের ফাইল কনভার্টার মেটাগ্রিন্ডারে আপনার ওয়ার্ড ফাইল আপলোড করার পূর্বে স্টাইল গাইডে বর্ণিত নির্দেশাবলী অবশ্যই অনুসরণ করুন।

পাঁচটি সাধারণ ভুল পরিহার করুন

১)অযাচিত ইনটেন্ড:
প্রথম লাইনের প্যারাগ্রাফ ইনটেন্ড তৈরির জন্য ট্যাব অথবা স্পেসবার ব্যাবহার করবেন না বরং আপনি প্যারাগ্রাফ স্টাইল থেকে আপনার পসন্দের ইনটেন্ড ব্যাবহার করুন ।

২) এক পেজে বেশি প্যারাগ্রাফ ব্যাবহার করবেন না:
এক পেজে বড় জোর চারটি প্যারাগ্রাফ পরপর ব্যাবহার করতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি হলে আপনার ই-বুক তার সৌন্দর্য হারাবে ও পাঠকের পড়ার জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করবে।

৩)প্যারাগ্রাফ সেপারেশন:
আপনি প্রথম প্যারায় প্যারাগ্রাফ ইনটেন্ড বা ব্লক প্যারাগ্রাফ ব্যাবহার করতে পারেন। অন্যথায় আপনার ই-বুক তৈরির পর আপনার প্যারাগ্রাফ কোথায় শেষ হয়েছে ও পরের প্যারাগ্রাফ কোথায় শুরু হয়েছে তা পাঠকের বুঝতে সমস্যা হবে। প্রথম পারায় প্যারাগ্রাফ ইনটেন্ড বা ব্লক প্যারাগ্রাফ এর যেকোনো একটি ব্যাবহার করুন এক বইয়ে উভয় প্রকার স্টাইল ব্যাবহার করবেন না।

৪)ফন্ট ও স্টাইল নির্ধারণ
ফেন্সি ও রঙ্গিন ফন্ট ব্যাবহার করবেন না। স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট ব্যাবহার করুন । নয়ত কিছু কিছু ই-বুক রিডারে আপনার লেখার রঙ্গিন ফন্ট দেখা যাবে না। অনেক চওড়া বা কমপ্রেসড কোন ফন্ট ব্যাবহার করবেন না তবে আপনার ই-বুক পড়তে পাঠকের বিরক্ত হবার সম্ভাবনা আছে।

৫)কপিরাইট পেজ সংযুক্তি
আপনার ই-বুক এর কপিরাইট বিষয়ক তথ্যাদি বইয়ে সংযুক্ত করতে অবশ্যই ভুলবেন না, আপনার প্রকাশিত ই-বুক পাবলিসারসদের কাছে পৌছাতে হলে আপনাকে অবশ্যই কপিরাইট সম্পর্কিত তথ্য বইয়ে সংযুক্ত করতে হবে।

মোট কথা ই-বুক ফরম্যাটিং এর গোপন রহস্য যদি বলতে হয় তবে বলতে হবে একে সিম্পল করুন যতটা সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় জটিল ফরম্যাটিং ও জটিল লেআউট আপনার ই-বুকের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেবে। আরও বলতে গেলে যদি আপনি আপনার ই-বুক কে প্রিন্টেড বইয়ের মত চমৎকার করার চেষ্টা করেন তবে আপনি হয়ত বৃথাই আপনার সময় নষ্ট করবেন এবং আপনার বই কে ই বুক এ রূপান্তর করা হয়ে উঠবে না। যদি হয় তবে দেখা যাবে বিভিন্ন ই-বুক রিডারে আপনার ই-বুক বিভিন্ন সমস্যা দেখাবে কোথাও ছবি দেখাবে না আবার কোন কোন রিডারে টেক্সট অস্পষ্ট দেখাবে।

আপনার বই কে চলমান টেক্সট এ পরিণত করুন ও অবাঞ্ছিত ফরম্যাটিং পরিহার করুন। এর মানে এই নয় যে কোন ফরম্যাটিং বা প্যারাগ্রাফ স্টাইল ব্যাবহার করা যাবে না। যদি আপনার করা ফরম্যাটিং এ ১৫ থেকে ৩০ টি কাস্টম ফরম্যাটিং ও প্যারাগ্রাফ স্টাইল থাকে তবে আপনি অবশ্যই একে ই বুকে পরিণত করতে গেলে ঝামেলায় পরবেন।

স্ম্যাশ ওয়ার্ড আপনার ই-বুক যেভাবে বিতরণ করবে:

স্ট্যান্ডার্ড ক্যাটালগ:
এই ক্যাটালগের ই-বুক smashword.com এ বিক্রির জন্য রাখা হবে । এছাড়াও আই- ফোন, অ্যালডিকো, ওয়ার্ড প্লেয়ার ইত্যাদি ডিস্ট্রিবিউশনেও বিক্রির জন্য রাখা হবে, তবে এক্ষেত্রে লেখককে ওয়ার্ড স্ম্যাশের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

প্রিমিয়াম ক্যাটালগ:
এই স্পেশাল ক্যাটালগ সকল অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ও সব বড় বড় অনলাইন লাইব্রেরীর কাছে আপনার ই-বুক বিক্রির জন্য পৌঁছে দেবে। পৌঁছানোর জন্য আপনাকে আলাদা ভাবে কোন অর্থ স্ম্যাশ ওয়ার্ড কে দিতে হবে না তবে আপনার বই এর বাহ্যিক ভাবে সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেমন সুন্দর কভার, ভাল ফরম্যাটিং, কপি রাইট পেজের সংযুক্তি ইত্যাদি।

ই-বুক ফরম্যাটিং ও প্রিন্ট ফরম্যাটিং এর পার্থক্য:
ই- বুক ফরম্যাটিং ও প্রিন্ট ফরম্যাটিং সম্পূর্ণ আলাদা তাই আপনি কখনই ভাববেন না আপনার ই-বুক প্রিন্টেড বই এর মত রঙ্গিন ফন্টের বা কারুকার্যময় হওয়া সম্ভব । আপনি যখন প্রিন্ট করেন আপনি যেখানে যে ফন্ট চান বা যে লেআউট চান তাই ব্যাবহার করতে পারেন। কিন্তু ই-বুকে কোন ‘পেজ’ নেই । পেজ নাম্বার ই-বুকের সাথে অপ্রাসঙ্গিক । আপনার ই-বুক ভিন্ন ভিন্ন রিডারে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখাবে । তাই ভাল ই-বুক এর জন্য স্টাইল গাইডের নির্দেশনা অনুসরণ করুন ।

বিভিন্ন ই-বুক ফরম্যাট:
আপনার প্রকাশিত ই-বুক সর্বাধিক পাঠকের কাছে পৌছাতে হলে আপনাকে অনেক গুলো ফরম্যাটে রুপান্তর করতে হবে কারন সব ডিভাইস সব ফরম্যাট সাপোর্ট করে না । তাছাড়াও বিভিন্ন পাবলিশার আপনার ই-বুকের বিভিন্ন ফরম্যাটিং চাইবে । কাজেই বুঝতেই পারছেন কেন এত সব ফরম্যাট আপনাকে করতে হবে এবার তবে জানা যাক কি কি ফরম্যাট এর ই-বুক পাওয়া যায় । এর মধ্যে কোন কোন ফরম্যাট কোন ডিভাইস সাপোর্ট করে ।

EPUB:
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরম্যাট । এর পুরো অর্থ Open Industry Ebook Format. স্ম্যাশ ওয়ার্ড এই ফরম্যাট অ্যাপল, বারনেস এন্ড নোবেল, সনি, কবো, ডিজেল ই-বুক রিডার ইত্তাদিকে দিয়ে থাকে । আপনার ই-বুক যদি EPUB ফরম্যাট এ পাওয়া যায় তবে বহুল প্রচলিত ই-বুক রিডিং আপ্লিকেশন যেমন আই ফোন এর স্ট্যনজা অথবা অ্যন্ড্রয়েড এর অ্যালডিকো ইত্যাদি সফট ওয়্যার একে ব্যাবহার করতে পারবে ।

Mobipocket:
আপনি যদি অ্যামাজন বা কিন্ডল ইউজার দের জন্য আপনার ই-বুক উন্মুক্ত করতে চান তবে আপনার এই ফরম্যাট অবশ্যই থাকতে হবে ।

Palm Doc(PDB):
এই ফরম্যাটটি পাম পাইলট ডিভাইস এ ব্যাবহার করা হয় । Palm OS, Symbean OS, Pc Smart Phone , Desktop ইত্যাদি ডিভাইস এই ফরম্যাট সাপোর্ট করে ।

PDF:
এটি এমন একটি ফরম্যাট যা বেশিরভাগ ডিভাইসই ব্যাবহার সাপোর্ট করে থাকে । এর পুরো নাম Portable Document Format । আপনি যে বই কে ই-বুক এ পরিণত করতে চাচ্ছেন যদি তাতে ছবি, কমপ্লেক্স লেআউট, চার্ট ইত্যাদি থাকে তবে এটি তার চমৎকার সমাধান । মাইক্রো সফট ওয়ার্ড এ যেসকল ফাইল সুন্দর দেখাবে তা PDF ফরম্যাটেও ভালো দেখাবে। যারা পিসি থেকে প্রিন্ট করতে চান তাদের জন্য এই ফরম্যাট দারুণ কাজে আসে ।

কিন্তু PDF ফরম্যাট নভেল পরার জন্য খুবই খারাপ । আপনি চাইলেই এই ফরম্যাটের ফন্ট সাইজ বা স্টাইল পরিবর্তন করতে পারবেন না । আরও অসুবিধা হল এই ফরম্যাট পরতে হলে আপনাকে পেজ বাই পেজ আকারে জেতে হবে যা অনেক পাঠকের কাছে বিরক্তিকর মনে হতে পারে ।

LRF:
এটি অনেক পুরাতন একটি ফরম্যাট যা সনি রিডার সাপোর্ট করে । অবশ্য সনি এখন EPUB ফরম্যাটও সাপোর্ট করে । LRF ফরম্যাট টি এখন আর আগের মত জনপ্রিয় নেই ।

RTF:
এর পুরো নাম Rich Text Format . আপনার ওয়ার্ড ডকুমেন্ট এর আসল ফরম্যাটিং দেখানোর জন্য এটি বেশ ভাল কাজ করে । তবে ই-বুক এর এই ফরম্যাটে ছবি ভাল প্রদর্শন করে না ।

Plain Text:
এটি সর্বাধিক ডিভাইসে ব্যবহৃত একটি ফরম্যাট । প্রায় সকল ই-বুক রিডার এই ফরম্যাট এর ই-বুক সাপোর্ট করে । এই ফরম্যাটিং এর অসুবিধা হল আপনি এই ফরম্যাটে ছবি বা ফেন্সি ফরম্যাটিং ব্যাবহার করতে পারবেন না ।

HTML SmashReadar:
এই ফরম্যাটিং এ তৈরি করা ই-বুক ব্রাউজারের মাধ্যমে খোলা ও পড়া যায় । যদি কোন ই-বুক এই ফরম্যাট এ ভাল দেখায় তবে তা EPUB এবং Mobi সাপোর্টেড রিডার গুলতেও ভাল পড়া যাবে ।

একটি উত্তর ত্যাগ