একজন সফল ফ্রিল্যান্সার কিভাবে হবেন? নিয়ে নিন ১০টি সমস্যার সহজ সমাধান বা ফ্রীলেন্সিং টিপস

0
390

অনলাইনের জগতে ফ্রিল্যান্সিং আজ এক অনন্য নাম অনেকে স্বপ্ন দেখে যে, প্রথাগত চাকুরি না করে এটাকে পেশা হিসাবে গ্রহন করবে, কিন্তু অনেক সময় অনেকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায়। কারণ হিসাবে তারা যেগুলো খোঁড়া অজুহাত দাঁড় করায় আজ সেগুলো নিয়ে পোস্টমার্টম করব।

সমস্যা নং ০১:- সর্বপ্রথম আমরা যেটা নিয়ে সবার নিকট থেকে প্রথমে শুনি তা হলে ইংরেজী ভীতি, বলে ঠিক এমন করে যে, “ভাই আমি ভাল ইংরেজি জানি না তাহলে কাজে কি করে কাজে বিড করব আর ক্লাইন্টের সাথে কিভাবে কথা বলব কাজ নিয়ে”?

 

সমাধানঃ- আপনাকে সাধারণত যেটা করতে হবে তাহলে আপনি প্রথমমত প্রচুর ইংলিশ মুভি দেখতে পারেন, তাহলে যেটা হবে আপনি প্রথমত ইংরেজি টা বুজতে পারবেন আসলে সেখানে তারা কি বলতে চাচ্ছে। আর যে যাই বলুক আপনি যদি ইংরেজি ঠিক মতন বলতে চান তাহলে আপনি প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজে নিজে কথা বলেন ভয়টা দূর করেন।

সমস্যা নং ০২:- অনেকে বলে ভাই কোন কাজটা করব বুজতে পারছি না? আমি তো অমুক অমুক অমুক কাজটা জানি।

 

সমাধানঃ- আমি আগে আমার একটা আর্টিকেলে বলেছিলাম “যেটা আপনার নেশা সেটা কে পেশা হিসাবে নেন তাহলে কাজ করে মজা পাবেন”। এখানে ও তাই আপনি ভাবুন আপনি কোন কাজটা ভাল জানেন আপনার আগ্রহ বা ভাল লাগে কোন কাজটা বেশী? যেটা আপনার ভাল লাগে সেটা আর ও ভাল করে জানুন আর সেটা কে পেশা হিসাবে নেন। সমাধান পাবেন ইনশাল্লাহ্।   

 

সমস্যা নং ০৩:- অনেকে বলে যে, “ভাই কাজ করতে ভাল লাগে না আগে অনেক ভাল লাগত এখন আর লাগে না”।

 

সমাধানঃ- কথায় আছে প্রথম প্রথম সব জিনিস ই ভাল লাগে পরে আর ভাল লাগে না। কেন বলে সবাই এই কথা কখন ও ভেবে দেখেছে। এই যে আমি আজ দুই বছর অনলাইনে আছি অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে যে, এই ছোট্ট একটা কম্পিউটারের ভিতরে কি আছে? একঘেয়েমি লাগে না? আমার উত্তর আমি তো প্রতিদিন ই নতুন কিছু খুঁজে পাই এর ভিতরে। আপনাকে ও ঠিক এটাই করতে হবে আপনার কাজের ভিতরে নতুন কিছু নিয়ে আসবেন।   

 

সমস্যা নং ০৪:- সময় জ্ঞানের অভাব।

 

সমাধানঃ-  অনেক ক্লাইন্টের নিকট থাকে শুনেছি যে তারা সময় কে বেশী প্রধান্য দিয়ে থাকেন। আর এই জন্য আপনাকে অব্যশই ক্লাইন্টদের সাথে আপনার সময় মেনে চলতে হবে।

 

সমস্যা নং ০৫:- মার্কেট প্লেস নির্বাচনে ভূল করা।

 

সমাধানঃ- এখানে আমি বুঝাতে চেয়েছি যে আপনি কোন দেশের মার্কেটের উপরের ভিত্তি কাজ করবেন। যেমন আপনি আমেরিকার ক্লাইন্টদের কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে অব্যশই তাদের সময় মেনে কাজ করতে হবে।

 

সমস্যা নং০৬:- সার্বক্ষনিক অনলাইনে না থাকা।

 

সমাধানঃ- আপনি যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চান তাহলে আপনাকে অব্যশই সার্বক্ষনিক অনলাইনে অব্যস্থান করতে হবে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় যে একজন ক্লাইন্ট চায় তার প্রশ্নে জবাব যেন তিনি তাড়াতাড়ি পান। আমি চেষ্টা করি দিনে ১৬ ঘন্টা সময় ব্যয় করার।

 

সমস্যা নং ০৭:- ফাস্ট ইন্টারনেট ব্যবস্থা রাখা।

 

সমাধানঃ- অনেক সময় দেখি যে অনেক ক্লাইন্ট তাদের জবে ক্ষেত্রে জানতে চান যে, যে বা যিনি কাজের জন্য আবেদন করছেন তার ইন্টার নেই কতটা ফাস্ট। আবার এটা ও দেখা যায় যে, অনেক ক্লাইন্ট তার কাজ যে করছেন তার সাথে কথা বলতে চান সরাসরি। তবে আমাদের দেশে প্রচলিত ইন্টারনেট ব্যবস্থা এখন ও অনেক নিম্ন মানের। আর তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব যে এর পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে। তবে হ্যাঁ যারা যশোরের আছেন তাদের জন্য একটা সুখবর আছে আমাদের প্রতিষ্টান Advance Institute of Technology  আগামি ০৬ মাসের ভিতরে সম্পর্ণ যশোর শহর কে Wi-Fi এর আওতায়ে নিয়ে আচ্ছে যেখানে আপনাদের জন্য থাকছেউচ্চ গতি সম্পর্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা।  

 

সমস্যা নং ০৮:- ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার না জানা।

 

সমাধানঃ- অনেক সময় দেখা যায় যে, বিভিন্ন ক্লাইন্ট বিভিন্ন ধরণের ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার করে থাকেন যেমন- স্কাইপি, গুগল হ্যাং আউট, জি টক, ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি। আপনাকে অব্যশই এই সব ম্যাসেঞ্জার সম্পর্কে বিস্তারিত না জানলেও চলবে তবে আপনাকে ব্যাসিক টা জানতে হবে যেমন কেমন করে একটা ফাইল রিসিভ করতে হয় কিংবা পাঠাতে হয়। আপনাকে অব্যশই প্রতিটা ম্যাসেঞ্জার ব্যবহার জানতে হবে।

 

সমস্যা নং ০৯:- ক্লাইন্ট কে প্রশ্ন না করা।

 

সমাধানঃ- বর্তমান সময়ে দেখা যায় যে, oDesk এ প্রায় প্রতি জবের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দেখা যায়। যেটা আপনাকে দিতে হয় তেমনি ক্লাইন্ট আপনাকে জিজ্ঞাসা করে আপনার কোন প্রশ্ন আছে কিনা প্রোজেক্ট সম্পর্কে। অনেকে ভাবনে আসলে প্রশ্ন করার কি আছে কিছুই নেই আমি ও আগে তাই ভাবতাম,কিন্তু আমি এখন প্রায় প্রতিটা বিডে ক্লাইন্টকে প্রশ্ন করি প্রোজেক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য। আর আপনি যখন এটা করবেন তখন ক্লাইন্ট আপনাকে বেশী প্রধান্য দিবে কারণ আপনি তার প্রোজেক্ট সম্পর্কে আগ্রহী।

 

সমস্যা নং ১০:- সময় মতন রিপোর্ট না দেওয়া।

 

সমাধানঃ- যারা এই আর্টিকেলটা পড়ছেন তারা অব্যশই সফল ফ্রিল্যান্সার হবার জন্য পড়ছেন তার নিকটে আমার অনুরোধ হল এই যে, আপনি যে কাজ টা করছে সেটা আপনার মূল্যায়ন আর আপনি যদি সেটা নিয়মিত আপনার ক্লাইন্টের নিকটে না পাঠান তাহলে সে কিভাবে আপনাকে মূল্যায়ন করবে। তাই আপনার উচিত হল শত ব্যস্ততার ভিতরে রিপোর্ট সাবমিট করা। আর আপনার ব্যস্ততা কি আপনি তো একজন ফ্রিল্যান্সার আপনার কাজ ই আপনার দায়িত্ব। আর যারা দায়িত্বে অবহেলা করা তাদের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব না সে যে ক্ষেত্র ই বলেন না কেন।

 

আমি আশা করি এই আর্টিকেলটা আপনাদের এই সমস্ত সমস্যার সমাধান দিবে এবং আপনাদের কে করে তুলবে দেশের একজন সেরা ও সফল ফ্রিল্যান্সার। এবার আসি আসল কথায় আমি এত তাড়াতাড়ি ফিরলাম আপনাদের ভালবাসার টানে কারণ আমার শেষ আর্টিকেল টা আপনারা অনেক আগ্রহের সাথে নিয়েছেন এবং আমি আশা করি সেটা সবার ভাল ইনজয় করেছন। আর সেই সাথে আশা করে এটা ও ভাল লাগবে। শেয়ার করেন সবার সাথে কারণ শেয়ার করলে আনন্দ বাড়ে। ফিরব খুব শিগ্রহ আপনাদের সেবায়। নিরাপদে থাকুন সবাই। আল্লাহ্ হাফেজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 + nine =