থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করছে ত্রিমাত্রিক বস্তু

1
870
থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করছে ত্রিমাত্রিক বস্তু

kafi

বড় একটি কোম্পানিতে ছোট একটি জব করছি :) দেখা হলে বিস্তারিত আড্ডা হবে। ধন্যবাদ
থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করছে ত্রিমাত্রিক বস্তু

হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেল প্রিয় চায়ের মগটি। মন খারাপ হয়ে যাবে, তাই না? আরেকটা মগ কিনতে দোকানে যাওয়া লাগবে। একই রকম পাওয়া নাও যেতে পারে। কি করা যেতে পারে এমন অবস্থায়? একটা থ্রিডি প্রিন্টার থাকলেই হল! প্রিন্টারে আপনার পছন্দের মগটির নকশা দিয়ে দিলেই প্রিন্ট হয়ে বের হয়ে আসবে একেবারে নতুন একটা মগ। ভাবছেন, ত্রিমাত্রিক একটা জিনিস কিভাবে প্রিন্ট হবে, প্রিন্টার দিয়ে তো শুধু কাগজে প্রিন্ট করা যায়! আমাদের পরিচিত প্রিন্টারগুলো হয়ে থাকে দ্বিমাত্রিক প্রিন্টার তাই তারা শুধুমাত্র সমতল পৃষ্ঠে প্রিন্ট করতে পারে। কিন্তু থ্রিডি প্রিন্টার এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে তৈরি হয় সম্পূর্ণ ত্রিমাত্রিক বস্তু।

ভাবুন, প্রাকৃতিক গুহাগুলোতে ছাদ থেকে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে মেঝেতে তৈরি হয় বিভিন্ন আকৃতির চুনের স্তুপ। এ থেকেই ধারনা করা যায় ক্রমাগত একের পর এক স্তর জমা হলে বিভিন্ন আকৃতির বস্তু তৈরি হতে পারে। থ্রিডি প্রিন্টারের ধারনাটি আমাদের কাছে নতুন হলেও এ নিয়ে গবেষণা চলছে বেশ কয়েক দশক ধরে। একবিংশ শতাব্দির শুরু থেকেই এ নিয়ে গবেষণা এগিয়ে চলছে এবং এর দামও বেশ কমে এসেছে।

থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করছে ত্রিমাত্রিক বস্তু2 থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করছে ত্রিমাত্রিক বস্তু

এটি ডিজিটাল টেকনোলোজি ব্যবহার করে চলে। এর আরও একটি নাম হল Additive Manufacturing বা যুত-উৎপাদন। ১৯৮৪ সালে থ্রিডি সিস্টেমস কর্প এর চাক হাল প্রথম থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করেন। স্টেরিওলিথোগ্রাফির ধারণার প্রবর্তন হয় তারই হাত ধরে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কোন একটি ত্রিমাত্রিক বস্তুর প্রস্থচ্ছেদের নমুনা তৈরি করার পর এটিকে গড়ে তোলা হয়। একে স্টেরিওলিথোগ্রাফি ছাড়াও থ্রিডি প্রিন্টিং বা থ্রিডি লেয়ারিং বলা হয়ে থাকে।

ইতোপূর্বে ত্রিমাত্রিক বস্তু তৈরির জন্য নেওয়া হত এর উপাদানের একটি টুকরো (যেমন কাঠ, প্লাস্টিক, ধাতু) এবং সেটাকে কেটেকুটে দরকারি আকৃতিটা আনা হত। কিন্তু থ্রিডি প্রিন্টিং হল এর সম্পূর্ণ উল্টো। কোন বড় বস্তুকে কেটে প্রয়োজনীয় আকৃতি দেওয়ার বদলে একে তৈরি করা হয় একেবারে শুরু থেকে। সাধারণত Computer Aided Design(CAD) এ তৈরি নকশা ব্যাবহার করা হয় থ্রিডি প্রিন্টারে কোন বস্তু তৈরি করতে। এ নকশাটি ব্যাবহার করে যন্ত্রটি একের পর এক উপাদানের(তরল, গুঁড়ো, কাগজ অথবা কাপড়) প্রলেপ দিতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না বস্তুটি সম্পূর্ণ রূপ পায় বা “প্রিন্ট” হয়। সাধারণত ১০০ মাইক্রোমিটার সমান পুরু হয় একেকটি প্রলেপ। এর মাধ্যমে যে কোন রকমের বিস্তারিত জ্যামিতিক আকৃতি দেওয়া যায়। সাধারণত নকশার চাইতে একটু বড় করে নমুনাটি তৈরি করা হয় এবং তার পর একটু সূক্ষ্মভাবে কেটেকুটে তার ফিনিশিং দেওয়া হয়।

এ তো গেল প্রযুক্তির খটোমটো ভাষা। এবার আসুন দেখা যাক এটি কি কাজে আসতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে তো বটেই বরং ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে কোন একটি বস্তু প্রচুর পরিমানে উৎপাদন করা যাবে শুধুমাত্র নকশাতি থেকে। যে কোন বস্তুর প্রোটোটাইপ তৈরিতেও এটি কাজে লাগবে। এছাড়া ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নকশায় সামান্য কোন পরিবর্তন আনাও হয়ে উঠবে সহজ। সম্প্রতি এর মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কান, কিডনি, রক্ত নালিকা, হাড় এমনকি শরীরের কোন স্থানে সংযোজনের জন্য চামড়াও তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও শখের বশে ছোটোখাটো জিনিস তৈরি করতে পারা যাবে এটি দিয়ে। যেমন ছোট খেলনা, অলংকার ইত্যাদি।

থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করছে ত্রিমাত্রিক বস্তু থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করছে ত্রিমাত্রিক বস্তু

সব প্রযুক্তিরই আছে ভালো এবং খারাপ দিক। থ্রিডি প্রিন্টারও তার ব্যাতিক্রম নয়। ২০১২ সালে একটি ওপেন সোর্স গ্রুপ এমন একটি বন্দুকের নকশা তৈরি করে যেটি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে বানিয়ে নেওয়া যাবে। আবার সম্প্রতি এমন একটি আইফোন অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে যা দিয়ে একটি চাবির ছবি তোলার পর সেটিকে হুবহু বানিয়ে নেওয়া যাবে থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে। এটি তৈরি করা হয় সাধারণ মানুষের উপকারের উদ্দেশ্যে, যাতে কারও বাড়ির চাবি হারিয়ে গেলেও তিনি অসুবিধায় না পড়েন। কিন্তু এতে যে চোরদের সুবিধাও হয়ে যাবে! থ্রিডি প্রিন্টারের এ ধরণের অ্যাপ এবং নকশার বিরুদ্ধে অনেকেই এখন সোচ্চার হয়ে উঠছেন এবং এগুলোকে বলা হচ্ছে “ক্রিমিনাল অ্যাপ”।

অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে থ্রিডি প্রিন্টিং মানুষের জীবনে নিয়ে আসতে পারে যুগান্তকারী পরিবর্তন। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুদানের প্রয়োজন আর হবে না, দরকার হবে না অনুদানকারী বা রক্তের গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার। নিজের শরীরের সাথে মিল রেখেই তৈরি করা যাবে প্রয়োজনীয় অঙ্গ। বাংলাদেশেও এসে পড়ছে এই প্রযুক্তিটি এবং খুব শীঘ্রই হয়তো আমরা এর উপকারিতা ভোগ করতে পারব।

1 মন্তব্য

  1. ভাল উদ্যোগ। আমাদের তরুনরা যদি আপাত হতাশাগুলি কাটিয়ে এই ধরনের উদ্ভাবনী দিগন্তে হাঁটা শুরু করতে পারে তবে দেশের উন্নতি এর লজিকাল নেক্সট স্টেপ হতে বাধ্য।ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য তবে এরকম আরো একটি লেখা পড়েছিলাম ।। এখানে> http://muktomoncho.com/archives/2719

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 − four =