পবিত্র পাপী (একটি বাস্তব গল্প)

16
2098

পবিত্র পাপী

সিগারেট হিসাবে শেখ সিগারেট খারাপ না, পান করিলে নিজেকে কনো শেখ শেখ মনে হয়। একজন শেখ হেটে চলেছে ঢাকা সহরের কনো এক গলির ভিতর দিয়ে, রাস্তায় চরম কাঁদা, পায়ের অনেক টাই কাঁদা দিয়ে মাখা মাখি, পা রীতিমত ভারি ভারি লাগছে কাঁদা স্যান্ডেলে জমে আছে। গন্তব্য যেটা ছিলো সেটা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। পূর্ণিমায় ভোগ ত্যাগ করিব বলিয়া মনস্থির করিলাম আজ। এমনিতেও এখন মেছে ফিরে গেলে কিছু যুটবে না। আনুমানিক রাত এখন (নাহ অনুমান করতে পারছি না কয়টা বাজে, আসলে চাইছি না)…। সময় এর সাথে পুরুনো একটা দ্বন্দ্ব আছে আমার, আমি সময় কে এড়িয়ে চলি সেও আমাকে এড়িয়ে চলে। যদি বলি সময় ই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে মনে হয় না কথাটা খুব একটা ভুল হবে। সময়ে খামখেয়ালী, সময়ে বেড়ে উঠা, সময়ের সাথে ধরণী নিষ্ঠুর হয়ে যাওয়া, সময় তোমাকে দূরে সরিয়ে দেয়া,সময় আমাদের সভ্যতা শিখায় আবার সেই সময় ই আমাদের সভ্যতার নামে নোংরামি করা শিখায়। সময়ে কারো কলে শুয়ে কান্না করা,  সময়ে স্কুল ফাকি মারা, সময়ে লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া, সময়ে টাংকি বাজি করা, সময়ে কাছের মানুষ পাওয়া, সময়ে পাল তোলা নৌকার হাল ধরা, সময়ে কাউকে হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যাওয়া,  সময়ে হাতে একখানা লাঠি ধরা, সময়ে মাটির সাথে লেপ্ট যাওয়া, সময়ে নিজের ছবিখানা কনো এক শ্যাওলা ধরা দেয়ালে ঝুলন্ত অবস্থায়, অবশেষে সময়েই সবার সৃতির পাতা থেকে মুছে যাওয়া।

শেখ শেখ ভাব খানা চলে গেলো, সিগারেট শেষ।

 

মনয়ারা সহপিটাল এর সামনে আসতেই একজন আমাকে ফলো করা শুরু করলো। আমি সামনে যাই সেও আমার সাথে সাথে যায়। আমি দাড়াই সেও দাড়িয়ে যায়। মানুষ এর সংজ্ঞা কি? ৪টি হাত ২টিপা আছে, মানুষ নড়াচড়া করতে পারে, পৃথিবীর স্রেস্ট জিব, মানুষের বিবেক, বুদ্ধি আছে, মায়া মমতা আছে, আর আছে কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা (যদিও এখন পর্যন্ত সব  ক্রিত্তিম, তবে এখানেও কথা আছে, প্রাকিতিক আর ক্রিত্তিম এর  সংজ্ঞা কি?) আমাকে যে ফলো করছে  তার সংজ্ঞা কি? সে চির অধম, সেও হল সাধারন একটা প্রানি, তাও আবার নাম হল কুত্তা, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেরায়, কেউ খাওয়া দিলে খায় না দিলে খায় না। সে খুব ই নিকৃষ্ট। অনেকে তার নাম ধরে গালি মারে, “ঐ কুত্তার বাচ্চা” সেই গালি খেয়ে আবার যে কেউ খুন ও করতে পারবে, ego নামের একটা জিনিস ও মানুশের মাঝে আছে তাই। তবে মানুষের মতন কুকুর এর হিংসা নেই, অহংকার নেই, লভ, লালশা নেই, ধর্মের নামে ব্যাবসা নেই, নেই কনো চাহিদা, নেই বিলাসিতা, তারা জানে না কাকে কিভাবে দুমরে মুচরে নিযেকে উপরে উঠানো যায়। তাহলে এখন যদি মানুষের সংজ্ঞার সাথে কুকুর এর সংজ্ঞা টা পরিবর্তন করি তাহলে কি দাঁড়াবে?আসলে সংজ্ঞা ই সব কিছু। জন্মের পর থেকে একটি মানুষ যেই সংজ্ঞা শুনে বড় হয় সে মনে করে সেটাই একমাত্র সংজ্ঞা। আসলে কি বদলানো যায় না? নাকি আমরা চেষ্টা করি না?

 

হেটে হেটে রমনা পার্কের সামনে চলে আসলাম। ঢাকার অতিব পবিত্র জায়গার মাঝে রমনা পার্ক ও একটা। পবিত্রতা দেখার জন্য ভিতরে ঢুকা যায়। আঁধারের অন্ধত্য গ্রাশ করে আজ ফুটন্ত জছনা উঠেছে। ঘাস গুলো চিক চিক করছে, মনে হচ্ছে কনো অবুঝ শিশু রঙ তুলেতে একেছে, রঙ টা অনেক করা করে দিয়ে ফেলেছে, রঙ এত বেশি করা যে এর জন্য সেই শিশুটার যদি চিত্রাঙ্কন পরীক্ষা থাকে তাহলে ২নাম্বার কম পাবে। একজন অন্ধের সপ্ন কি? আলো কি রঙ এর? সেটা খুজে বেরানো? নাকি রঙ এর রঙ কি? সেটা খুজে বেরানো? আচ্ছা আলোর সংজ্ঞা কি যদি কনো অন্ধকে বুঝাতে চান?

টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে মাত্র খেয়াল করলাম। সবার কাছে বৃষ্টির সংজ্ঞা কি? মনে হয়, “ইহা আসমান থেকে ধাবিত হইলে দৌড়াইয়া পালায়া যাইতে হবে কনো কিছুর নিচে গিয়ে ঠায় জমাতে হবে যেনো দেহো খানা না ভিজিয়া যায়” আমার কাছে সংজ্ঞা অন্যরকম, বৃষ্টি তার মতন পরতে থাকিবে আমি আমার মতন হাটিতে থাকিব। বাতাশের কাজ বাতাস করিবে আমাকে আবারো শুঁকাইয়া দিবে।

আকাশের কান্না আজ বাস্তবে শুনতে পারছি ভেবে কান খারা করলাম, এতদেখি মানুষের মতন ই। পড়ে দেখলাম সামনের ব্রেঞ্চ এ একটা মেয়ে বসে আছে, চুল এলোমেলো, কড়া করে লিপস্টিক দেয়া, লাল টোকটকা, হাতে কাচের চুরি পরা, শ্যামলা গায়ের বরণ, কনো বিউটি কন্টেস্টে নিয়ে গেলে প্রথম রাউন্ডে বাতিল হবার মতন চেহারা। তবে কারো কান্নার নিয়ে যদি এক্সিবিশন হয় তবে এই মেয়ে গোল্ড মেডেল পাবে। চোখের জল গুলোর মাঝেও একটা আর্ট আছে, জল গুলো যেনো চিৎকার করে বলছে “ভাসিয়া যাইবো অনন্ত কাল, তবে তোমারি কলে যেনো একটি বার হলেও স্তব্ধ হয়ে জরবুস্তুর রুপে সাজিতে পারি।” জল গুলো নিজেরাও ক্লান্ত। বৃষ্টির জলে চোখের জল মিশে একাকার, তবে চোখের জলের মাঝে একটা তৈলাক্ত ভাব আছে। চোখের জল হাতের আঙ্গুলের মাথায় নিয়ে কিছুক্ষণ লক্ষ করলে বুঝা যাবে। মেয়েটির কাছে গিয়ে দারলাম, কিছুনা বলে চেয়ে রইলাম, অনেক খন পড়ে সে বলে উঠলো “ঐ বান্দির পোলা, কি চাশ? একটা উস্টা খাইবি কইলাম যাগা অহন……” আমি তাকিয়ে আছি কনো কথা না বলে। মেয়েটির কান্না বেড়ে চলেছে। আমি বললাম, বোন চা খাবি? কফি মিশায়া? কফির গন্ধে একটা নেশা আছে, জলের গন্ধের ধাচ কমে যাবে, খাবি? অবাক হয়ে সে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। অবশেষে কফির বেবস্থা কড়া গেলো নেস্কফির মিনি প্যাক এর কল্যাণে। তবে কফির ঝাঁঝালো গন্ধে মেয়েটার কান্নার জলের গন্ধ দাবাং করতে পারলো না। দুইয়ের গন্ধে মিলে মিশে একাকার। এখন আরো বেড়ে গেছে। নাম তার আইরিন। এক সময় তার চমৎকার প্রতিভা ছিলো। সেও গ্রামের সবুজ মাঠে এক সময় দৌড়িয়ে ছুটে বেড়াত, ছিরে যাওয়া ঘুড়ি ধরতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেত আবার উঠে ঘুড়ির পিছনে দৌড়ানো। গানের গলা ভালো না হলেও সে ভালো গান লিখত। কনো এক কারনে সে এখন রমনা পার্কে দেহ ধান্দা করে (ধান্দা শব্দটা সভ্য সমাজের দেয়া, আমার না)। আজকে তার জীবনের প্রথম খদ্দর জুটেছিল। যেই খুশিতে সে কাদছিলো। খুশি ই ত তাই না? তার নিজের কাছে নিজেকে ঘিন্না লাগছিলো। সে আমাকে বলেছিলো। দাদাভাই “আমার নিজের কাছে নিজেকে ঘিন্না লাগছে, কাছে আসবেন না আমার, নাপাক হয়ে যাবেন। এই বলে সে হাত মুখ, ঠট বার বার মুছে যাচ্ছিলো,” (আসলে কি এভাবে মুছা যাবে? তবে কিভাবে মুছা যাবে? ) সে আজকে থেকে বেশ্যার খেতাব পেয়েছে (বেশ্যা সব্দ এবং এর সংজ্ঞা উভয় ই সভ্য সমাজ এর দেয়া, মজার কথা হল এই সংজ্ঞা কক্ষনো বদলাবে না, নাকি বদলাবে? বদলাবে টা কে শুনি? আপনে নিশ্চয়ই নর্দমায় নেমে নর্দমা পরিষ্কার করবেন না, তবে হ্যা আমি জানি আপনি অবশই টিভির সামনে বসে বসে দেশের নেতা কে গালি মারতে পারবেন, ডাইনিং এ বসে বসে বলবেন হায়রে দেশ কি যে হইলো, সব খাইলো বদমাইশের দল, আর বন্ধুদের আড্ডায় বলে বেরাবেন আসলে দেশে নেশা আর বেশ্যা ভরে গেছে রে এদের কে উচ্ছেদ করা উচিত। তাই না?) ওদের কে বিলাসিতার কারনে ব্যবাহার করা হয়, মানুষ নামের স্রেস্ট জিব তাদেরকে গ্রাস করে। দেহের প্রতিটা অংশে কে তারা ভোগ করে। চেটেপুটে খায়। তবে যারা খায় তারা নিষ্পাপ, যাদের কে খায় তারা হল বেশ্যা, পাপি। পাপ এর সংজ্ঞা কি ভাই?

(কাহিনীটা বাস্তব, লিখা লিখির অভ্যাস নাই, তাই ভালো ভাবে লিখতে পারলাম না। জীবনের প্রথম বাংলায় গল্প লিখলাম)

16 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ