আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল, কি বোর্ড এবং মাউস অথবা ট্যাবলেট, স্ক্যানার, ক্যামেরা কিভাবে পরিষ্কার করবেন?

0
597

কি বোর্ড এবং মাউস:

একদম সাধারণ ব্যবহারেও কি-বোর্ড হয়ে উঠতে পারে অসম্ভব নোংরা। এছাড়া আশপাশে বসে যখন কিছু খাওয়া-দাওয়া করা হয় অথবা অসুস্থ অবস্থায় যখন একে ব্যবহার করেন তখন এর মাঝে ঢুকে পড়ে অসংখ্য ময়লা এবং জীবাণু। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে একটি টয়লেট সিটের চাইতে বেশী ব্যাকটেরিয়া থাকে কি-বোর্ডে! আর তাই কি-বোর্ড এবং মাউস নিয়মিত পরিষ্কার এবং ডিসইনফেক্ট করতে ভুলবেন না। বিশেষ করে সেই কিবোর্ডটি যদি আপনি অন্যদের সাথে শেয়ার করেন।  কিভাবে করবেন:

কি বোর্ড এবং মাউস আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল, কি বোর্ড এবং মাউস অথবা ট্যাবলেট, স্ক্যানার, ক্যামেরা কিভাবে পরিষ্কার করবেন?

১। কিবোর্ডটিকে আন প্লাগ করুন, যদি কোন ব্যাটারি থাকে তবে তা খুলে রাখুন।

 

২। উলটো করে জোরে জোরে ঝাঁকুনি দিন।

 

৩। কিগুলোর ভেতরে কমপ্রেস এয়ার প্রবাহিত করুন, যাতে গুড়া, ধূলা এবং অন্যান্য বস্তু ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে।

 

৪। যদি ছোট ভ্যাকুয়াম থেকে থাকে তাহলে তা ব্যবহার করে পরিষ্কার করুন।

 

৫। একটু ভেজা মাইক্রো ফাইবার ক্লথ ব্যবহার করে কিবোর্ডের “কি” এবং পাম রেস্টটিকে মুছুন।

 

৬। শুকনো মাইক্রো ফাইবার ক্লথ ব্যবহার করে ভেজা ভেজা থাকলে তা শুকিয়ে ফেলুন।

 

৭। ডিসইনফেক্ট করতে চাইলে একটি মাইক্রো ফাইবার ক্লথ ভিজিয়ে নিয়ে কিবোর্ড আর মাউসটিকে মুছে ফেলুন। ভেজা ভেজা থাকলে শুকনো কাপড় ব্যবহার করে মুছে ফেলুন। একই ভাবে আপনার মাউসটিকে পরিষ্কার করুন।

এলসিডি বা এলইডি ডিসপ্লে:

১। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। যদি ল্যাপটপ হয় তাহলে প্লাগটিকে বিচ্ছিন্ন করুন এবং ব্যাটারিটি খুলে ফেলুন।

২। মাইক্রো ফাইবার ক্লথের সাহায্য নিয়ে খুবই হালকা ভাবে স্ক্রিনের উপর থেকে ধূলা মুছে ফেলুন।

৩। যদি কোন দাগ থেকে থাকে তাহলে কাপড়টিকে একটু পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে হালকা ভাবে মুছে ফেলুন। জোরে চাপ দিবেন না।  বাজারে এলসিডি পরিষ্কারের জন্য নানারকম স্প্রে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু সেগুলো স্ক্রিনের উপর স্প্রে না করে কাপড়ের উপর স্প্রে করে তারপর ব্যবহার করুন। সাবধান থাকবেন স্প্রে যেন মনিটরের ভেতরে না চলে যায়। যা ব্যবহার করবেন না:

  • অ্যামোনিয়া

  • ইথাইল অ্যালকোহল

  • অ্যাসিটোন

  • ইথাইল অ্যাসিড

  • মিথাইল ক্লোরাইড

  • এগুলো আপনার স্ক্রিনের ক্ষতি করবে।

স্ক্যানার:

স্ক্যানারের গ্লাসের উপর বেশীর ভাগ সময়ই হাতের ছাপ পড়ে যায়। স্ক্যানারের গ্লাসটিকে পরিষ্কার করবেন এভাবে:

১। স্ক্যানারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন

২। মাইক্রো ফাইবার ক্লথ ব্যবহার করে গ্লাসটিকে মুছে ফেলুন।

৩। গ্লাসটি যদি খুব বেশী ময়লা হয়ে থাকে তাহলে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে পারেন। তবে গ্লাস ক্লিনারটিতে যেন এই পদার্থগুলো না থাকে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন –

  1. অ্যাসিটোন

  2. অ্যামোনিয়া

  3. বেনজিন

  4. কার্বন টেরা ক্লোরাইড

এই কেমিক্যালগুলো স্ক্যানারের গ্লাসের ক্ষতি করতে পারে।

ডেস্কটপ কম্পিউটারের অভ্যন্তরীনভাগ:

ডেস্কটপ কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় শত্রু ধূলা। আর তাই প্রতি ৬-১২ মাস অন্তর অন্তর এর ভেতরের অংশটি পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।

১। কম্পিউটারটির বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করুন।

২। কেসটি খুলুন।

৩। কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে ধুলোগুলোকে সরিয়ে দিন। মাদারবোর্ড, মেমরি, প্রসেসর এবং ইক্সপ্যান্সন কার্ডগুলোর উপরে সরাসরি বাতাস দিবেন না।

৪। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয় তাহলে কেস ফ্যান এবং প্রসেসরের ফ্যানটি খুলে পরিষ্কার করুন।

৫। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের আশে পাশে ময়লা থাকলে তাও বাতাস দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

স্মার্টফোন অথবা ট্যাবলেট:

  •  ১। স্ক্রিনটিকে পরিষ্কার করবার জন্য ব্যবহার করুন লিন্ট ফ্রি ক্লথ বা মাইক্রো ফাইবার ক্লথ। হাতের ছাপ উঠবার জন্যেও এই কাপড় ব্যবহার করুন।
  • ২। কালি, খাবার অথবা মেকআপ দূর করতে হলে আগে মোবাইলটি ব্যাটারি খুলে ফেলুন। তারপর অল্প পানিতে ভেজানো মাইক্রো ফাইবার ক্লথ ব্যবহার করে হালকা ভাবে মুছে ফেলুন স্ক্রিনটিকে। এরপর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। সাবধান থাকবেন মাইক্রোফোন বা স্পিকারের ছিদ্রগুলোতে যেন পানি ঢুকে না যায়।
  • ৩। ময়লা যদি আরো কঠিন হয় তাহলে হালকা সাবান পানতে মাইক্রো ফাইবার কাপড়টিকে ভিজিয়ে নিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন। শুধুমাত্র আপনার মোবাইলটি যখন একদম শুকিয়ে যাবে তখনই শুধু ব্যাটারি লাগাবেন। পানির মধ্যে মোবাইল ডুবাবেন না, অথবা অধিক পানি দিয়ে মোবাইল পরিষ্কার করতে যাবেন না! ভুলেও কোন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না।

পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরা বা কম্প্যাক্ট ক্যামেরা:

সুন্দর ছবি তুলবার জন্য প্রয়োজন একটি পরিষ্কার ক্যামেরা।

১। ক্যামেরা পরিষ্কার করবার জন্য ছোট্ট ছোট্ট ব্লোয়ার ব্রাশ পাওয়া যায় (স্টেডিয়াম মার্কেটে খোজ নিয়ে দেখতে পারেন), সেগুলো ব্যবহার করে লেন্সটির ময়লা দূর করুন। কখনোই লেন্স ফু দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। এতে লেন্সের উপর অসাবধানতা বশত থুতুর ছিটা পরতে পারে। এছাড়া মানুষের ফু’তে একধরনের অ্যাসিড রয়েছে যা লেন্সের বিশেষ কোটিং এর ক্ষতি করতে পারে।

২। এক থেক দুই ড্রপ লেন্স ক্লিনিং সল্যুশন লেন্স টিস্যুতে (সাধারণ টিস্যু নয়!) নিয়ে লেন্সটি পরিষ্কার করবে গোলাকার ভাবে (circular motion)। শুরু করবেন লেন্সের মধ্যম ভাগ থেকে ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়িয়ে নিবেন। লেন্সে সরাসরি সল্যুশন ফেলবেন না। লেন্স টিস্যু না পাওয়া গেলে মাইক্রো ফাইবার ক্লথ ব্যবহার করবেন। ভুলেও সাধারণ টিস্যু পেপার ব্যবহার করবেন না! এছাড়া ব্যবহার করতে পারেন কার্বন বেজড লেন্স পেন। এগুলোর কিনবার জন্য যেতে পারেন ভালো কোন ক্যামেরার দোকানে।

একটি উত্তর ত্যাগ