হ্যাকিং জগতে দুনিয়া কাঁপানো ৫ জন হ্যাকার কে চিনে নিন

0
620

সাইবার আক্রমণ এখন নিত্যনৈমত্তিক বিষয়। সাইবার স্পেসে তথ্য বা প্রয়োজনীয় কোনো কিছু চুরিকে বলা হয় ‘হ্যাকিং’। যারা এ ধরনের আক্রমণের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে বলা হয় ‘হ্যাকার’।

‘হ্যাকার’ শব্দটি ‘ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার’ অর্থেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এরা মূলত ধ্বংসাত্মক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকেন। সে কর্ম যেনতেন নয়। ইন্টারনেটের বিভিন্ন পাসওয়ার্ড চুরি করে বিনা অনুমতিতে তাদের তথ্য বা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ডিলেট বা তথ্য চুরি করে। অনেকে ক্ষেত্রে হ্যাকার নিজে সেখানে কিছু যোগ করে দেয়।

আরেক ধরনের হ্যাকারকে বলা হয় ‘হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার’। এর সঙ্গে ‘নৈতিকতা’ শব্দটি প্রায়শ যোগ করা হয়। নৈতিকতার এই হ্যাকিংয়ের সম্পর্ক ধোয়াশাপূর্ণ। এরা সাধারণত একাডেমিক কারণে হ্যাকিং করে থাকে। সমস্যা সৃষ্টিকারী হ্যাকারের সঙ্গে পার্থক্য করার জন্য এদেরকে ক্র্যাকারও বলা

মজার বিষয় হচ্ছে- অধিকাংশ হ্যাকারই হ্যাকিং করে শখের বশে। কিন্তু এই কাজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে পড়ে। কখনো নষ্ট হয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম আবার কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে পড়তে হয় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিতেও। অন্যদিকে হ্যাকাররা আছে বলেই আমরা ওয়েব বা সফটওয়্যারকে আরও নিখুঁত, নিরাপদ ও শক্তিশালী করে তুলছি!

নিচে হ্যাকিং জগতে আলোচিত ৫ জন হ্যাকারের কৃতিত্ব তুলে ধরা হলো-

১. আদ্রিয়ান লামো: ব্যাংক অব আমেরিকা, মাইক্রোসফট, ইয়াহু, সিটিগ্রুপ, সিঙ্গুলার ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্রেকডাউনের রেকর্ড করেন বোস্টনে জন্ম নেওয়া হ্যাকার আদ্রিয়ান লামো। ‘হোমলেস হ্যাকার’ হিসেবে পরিচিত এই হ্যাকারকে ২০০৩ সালে আদালতের নির্দেশে ৬৫ হাজার ইউএস ডলার জরিমানা গুণতে হয়। ২০১০ সালে বাগদাদে বিমান আক্রমণের ভিডিও উইকিলিকসের মাধ্যমে তিনিই প্রকাশ করেন।

লামোকে নিয়ে ‘হ্যাকার ওয়ান্টেড’ নামের একটি ডকুমেন্টারিও নির্মিত হয়।

২. জর্জ হটজ: আমেরিকান এই হ্যাকার ২০১১ সালে সনি’র প্লেস্টেশনের জেলব্রেক করে পরিচিতি পান। এর আগে পরিচিত ছিলেন অ্যাপলের আইফোন আনলকিংয়ের (২০০৭) কারণে। পরে এই হ্যাকারের বিরুদ্ধে বিচার চলাকালে সহযোগীরা তার পদ্ধতি জনসমক্ষে প্রকাশ করে। ফলে এনিনমাস হ্যাকারগ্রুপ সনির সার্ভারে হামলা করে প্রায় ৭৭ মিলিয়ন গ্রাহকের তথ্য চুরি করে। তবে তিনি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন।

তিনি জানান, সার্ভারে আক্রমণ করে শুধু ইউজারের তথ্য চুরি করার মতো কাজ তিনি করতেন না। কারণ এটি তার সঙ্গে যায় না।

৩. কেভিন মিটনিক: মটোরোলার মতো বৃহৎ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করে এই জিনিয়াস আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। কেভিন আবার কয়েকটি বইয়ের লেখক। নব্বই দশকের আমেরিকান কম্পিউটার ক্রিমিনালদের মধ্যে তিনি ছিলেন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’।

১৯৯৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি গ্রেফতার হন। ৪৫ মাস তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, সেই সঙ্গে আরও ২২ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয় শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে। এই অসম্ভব মেধাবী হ্যাকার মাত্র ১২ বছর বয়সেই অব্যবহৃত ট্র্যান্সফার্ড কার্ড (পাঞ্চ কার্ড পদ্ধতি) ব্যবহার করে বাসে ভ্রমণ করতেন।

৪. গ্রে ম্যাককিন: তিনি সলো নামে পরিচিত। স্কটিশ কন্সপাইরেসির এই থিয়োরিস্ট মার্কিন এয়ারফোর্স, আর্মি, ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স, নাসা, নেভির মতো বড় বড় নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে প্রবেশ করে রেকর্ড করেন। এগুলো থেকে গ্লোবাল এনার্জি ক্রাইসিস সমাধানের জন্য তিনি এলিয়েন স্পেসক্র্যাফটের প্রমাণ চুরি ও নষ্ট করেন। যা ইউএস আদালতের ভাষ্যমতে প্রায় ৭০ লক্ষ ডলারের ক্ষতির সমতুল্য।

২০০২ সালে ইউ এস আর্মির সার্ভার স্ক্রিনে ‘Your security system is crap, it read. I am Solo. I will continue to distrpt at the highest levels’ এই মেসেজ দেখা যায়। ইউএস আর্মির সার্ভারে আক্রমণ করে তিনি ‘Large scale hackings’ এর সূচনা করেন। হামলার কারণ হিসেবে বলেন, আমার বিশ্বাস ছিল সেখানে এমন কিছু তথ্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে- যা সকলের জানা দরকার।

৫. জনাথন জেমস: জনাথন জেমসের কথা শুনলে অনেক কিশোর হয়ত হ্যাকার হতে চাইবে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি পরিপূর্ণ হ্যাকার হয়ে ওঠেন। ১৫ বারেরও বেশি জেলে যেতে হয়েছিল তাকে। তার কারণে ইউএস ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ইউএস ডিফেন্স সার্ভার থেকে জনাথন প্রায় ৩ হাজার গোপন বার্তা ও ব্যবহারকারীদের পার্সওয়ার্ড চুরি করেছিলেন।

১.৭ মিলিয়ন ডলারের নাসা সফটওয়্যার চুরি করে নাসার সার্ভার ও সিস্টেমকে শাটডাউন করতে বাধ্য করেন তিনি। সাইবারস্পেসের অস্বাভাবিক ব্যবহারের জন্য জেমসকে ১০ বছর কম্পিউটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে এক রকম বাধ্য করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ