ফ্রি ওয়াইফাই ব্যাবহার করা আগে অবশ্যই সচেতন থাকুন

0
1222

বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা  দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ।আর সেই সাথে বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও।বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার  করে না এমন লোকের  সংখ্যা খুবই কম।আর স্মার্টফোন  ছাড়া তো ইন্টারনেট ব্যবহারের কোন মজা নেই বললেই চলে। যদিও ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য বর্তমানে  গ্রাহকদের  অধিক মাত্রায়  খরচ করতে হয়। আর এজন্যই  যখনই গ্রাহকরা কোথাও ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান তখনই সেটি ব্যবহার করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

ওয়াইফাই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যাবহার করা আগে অবশ্যই সচেতন থাকুন

ইদানিংকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , কফি শপ, হোটেল, শপিং মলসহ বিভিন্ন  জায়গায় ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারের সুবিধা করা হয়েছে । আর এ ব্যবস্থাটি এখন হয়ে উঠেছে সকলের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ।এমন কি আপনি নিজের ঘরে বসেও এখন এই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আপনি যে ওয়াইফাই ডিভাইসটি কানেক্ট করছেন সেটা কি আপনার জন্য আদৌ   নিরাপদ ?

কানেক্ট হওয়া ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক পাচার করতে পারে আপনার গোপন তথ্য। এমনকি এটা হতে পারে আপনার বিরুদ্ধে হ্যাকারদের একটি গোপন চাল ।

বেশিরভাগ ওয়াইফাই ডিভাইসগুলো তথ্য এনক্রিপ্ট না করেই ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। ফলে এগুলো অনিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।তাই ফ্রি এবং ওপেন ওয়াইফাই ব্যবহারের সময় কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে নিজের ডিভাইস বা তথ্য অনেকাংশেই নিরাপদে রাখা সম্ভব। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়া উচিত ।

# ওয়াইফাই কানেক্ট হবার আগে ডিভাইসের সিকিউরিটি প্রিকশনগুলো পড়ে দেখা উচিত,খেয়াল রাখতে হবে নিজ ডিভাইসের এটি জন্য নিরাপদ কী না। অর্থাৎ ওপেন বা ফ্রি ওয়াইফাই দেখলেই কানেক্ট করবেন না।

#  ডিভাইসের সিকিউরিটি সফটওয়্যারগুলো সবসময় আপডেটেড রাখা উচিত। লেটেষ্ট  অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার এবং অ্যাপস ব্যবহার করলেই ডিভাইস নিরাপদ থাকবে।

# অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট, শপিং, সোসিয়াল নেটওয়ার্কিং কিংবা ই-কমার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলোতে ব্রাউজ করার সময় এনক্রিপ্টেড ওয়েব ইউআরএল ব্যবহার করা উচিত ।ওয়েব এড্রেস এর আগে ‘https://’ থাকলে বুঝতে পারবেন সেটা এনক্রিপ্টেড ওয়েব ইউআরএল।

# বেশিরভাগ ওয়াইফাই কানেকশনই আনপ্রোটেক্টেড, এগুলো  ইনফরমেশন এনক্রিপ্ট না করেই সেগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। ফলে খুব সহজেই ফেসবুক কিংবা অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক হয়ে যেতে পারে।

# যে হটস্পটগুলোর বানান ভুল কিংবা অবৈধ মনে হয় সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। অনেক সময় হ্যাকাররা ফ্রি ওয়াইফাই হটস্পট খুলে রাখে, ডিভাইসের সাথে কানেক্ট হওয়ার সাথে সাথে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীদের সকল তথ্য সহজেই পেয়ে যায়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।

# ওয়াইফাই কানেক্টেড হবার পর সফটওয়্যার আপডেট চাইলে সেটা আপডেট দিবেন না ।  অনেক সময় এ প্রক্রিয়ায় হ্যাকাররা সফটওয়্যারের সংক্রমণ ঘটায়।

# কম্পিউটার কিংবা অন্য যে কোনো ডিভাইসে অটোমেটিক্যালি গেট কানেক্টেড অপশনটি বন্ধ রাখুন।

# মনে রাখবেন, আনসিকিউরড ওয়াইফাই কানেকশনের চেয়ে 3G কিংবা 4G কানেকশন অনেক বেশি নিরাপদ।

#  অবশ্যই দরকার ছাড়া ব্লুটুথ অপশন অন রাখবেন না।

 

এ তথ্যগুলো মনে রাখলেই আপনার ডিভাইস থাকবে নিরাপদ এবং আপনি নিশ্চিন্তে ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন ।

একটি উত্তর ত্যাগ