নতুনদের জন্য কিছু অতি অবশক ইল্যান্স টিপস

0
393

আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং শব্দ দুটি আমরা একই জিনিস বুঝলেও, অর্থ এবং  কার্যগত পার্থক্য রয়েছে। আউটসোর্সিং (Outsourcing) মানে নিজের কাজ কোন একটা মাধ্যমে অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেয়া। আর ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) বলতে, মুক্ত বা স্বাধীনভাবে কাজ করা বোঝায়। অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি হচ্ছে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি অন্যের কাজ করে দিবেন এবং কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট অর্থ পাবেন। অনলাইনে কাজ করার জন্য অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে এবং ইল্যান্স ডটকম (www.Elance.com) এর মধ্যে অন্যতম। এরকমই একটি প্লাটফর্মে নতুনরা কিভাবে ভাল কাজ করতে পারে এবং নিজেকে আপডেটেড রাখতে পারে এবার সে সংক্রান্ত কিছু টিপস শেয়ার করবো।

ভাল কাজ করার মনস্থির করা
ধরুন, আপনি কয়েকদিন আগেই একজন নতুন বায়াদের সাথে কাজ শুরু করলেন। নতুন হিসেবে তিনি কেমন কাজের কোয়ালিটি আশা করেন আপনার থেকে টা আপনি বুঝতে পারবেন না। কিন্তু আপনার নিজের থেকেই বিবেচনা করতে হবে আসলেই আপনি ক্লায়েন্টের মন মত কাজ দিতে পারছেন কিনা। ব্যাপারটা নজরে নিয়ে আসতে চেষ্টা করুন। কাজের শুরুতে ক্লায়েন্টের সাথে যেভাবে শুরু করলেন সেই সময় থেকে ঠিক একমাস পরের কাজের সাথে ক্লায়েন্টের স্যাটিসফ্যাকশন কম্পেয়ার করুন। তাকে জিজ্ঞাসা করুন তার মন মত কাজ হচ্ছে কিনা। যদি পজিটিভ রেসপন্স পেয়ে যান তবে একই ধারা কাজে অব্যাহত রাখুন। আর যদি, নেগেটিভ কিছু পেয়েও যান তবে ধৈর্য হারা হয়ে পড়বেন না। কারণ, যারা ধৈর্য নিয়ে কাজ করে নিজের কোয়ালিটি বাড়াতে পেরেছেন,তারাই সফল।

ভুলগুলো চিহ্নিত করা
ধরুন আপনার কাজ দেখে ক্লায়েন্ট নেগেটিভ রেসপন্স করেছেন। তাহলে কি করবেন? ক্লায়েন্ট ছেড়ে দিবেন? কারণ তিনি আপনার কাজের খুঁত ধরছেন? কখনই না! আপনি তখনই সফল হবেন, যখন সবার চাহিদা অনুযায়ী কাজ সার্ভ করতে পারবেন। ক্লায়েন্ট আপনার কাজকে নেগেটিভলি ট্রিট করলে আপনি কখনই হতাশ হবেন না বরং ক্লায়েন্টকে হাসি মুখে জিজ্ঞাসা করুণ, আপনার কোথায় কোথায় ভুল হয়েছে, ঠিক কিভাবে কোন কাজটি হলে ভাল হয় ইত্যাদি। একটি বিষয় সবসময় খেয়াল রাখতে হবে, ক্লায়েন্ট থেকে কাজ সম্পর্কে যত বেশি ক্লিয়ার হবেন তত বেশি ইফিসিয়েন্টলি কাজ করতে পারবেন। আরও জানতে এই http://www.inc.com/articles/2000/04/18505.html আর্টিকেলটি পড়ুন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ
অনেক সময় দেখা যায় কোন বিষয়ে ভাল জানা না থাকার কারণে কাজে ভাল পারফর্ম করতে পারছেন না। এটা স্বাভাবিক ভাবেই হতে পারে যখন আপনি একটি বিষয় নিয়ে ভাল মত না যেনে শুনে কাজ নামবেন। তাই বলে কাজ ভাল মত করতে না পারার কারণে মাঝে পথে কাজ ছেড়ে দিবেন? কখনই না! কাজ ভাল মত সার্ভ করার জন্যই, আপনার কাজের কোয়ালিটিকে বাড়ানোর জন্য আপনাকে কাজ শিখতে হবে। এভাবে আপনাকে আপনার কাজের দক্ষতার পাশাপাশি

কোয়ালিটি বাড়ানোর ম্যাটেরিয়ালস সংগ্রহ করতে হবে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সব সময় কাজ শিখার বা আপনার জানা বিষয়টি নিয়ে নেটে রিসার্চ করার অভ্যাস থাকতে হবে। কারণ,  ফ্রিল্যান্সিং জগতের প্রতিটি সেক্টর প্রতিনিয়তই আপডেট হয়েই চলছে শুরুর থেকে। তাই নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

চোখ রাখুন ক্রিয়েটিভ এবং কোয়ালিটি কাজের ওপর
আপনার কাজের ক্রিয়েটিভিটি এবং কোয়ালিটি নেই তাই বলে বসে থাকলে চলবে না। অন্যদের কাজ দেখুন, তারা কিভাবে কাজ করে সেগুলোর রিসোর্স দেখুন। নেটে এমন অনেক কোয়ালিটি কাজের সাইট আছে যেখানে থেকে কাজের আইডিয়া পাবেন। একটি না হোক কয়েকটি কাজকে একত্রে করে কাজটি কোয়ালিটি সম্পন্ন করতে পারবেন। কিছু কোয়ালিটি কাজের সাইট,যেমন: গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য http://graphicriver.net ওয়েবসাইট টেম্পলেট ডিজাইনের জন্য: http://themeforest.net থ্রিডি ডিজাইনের জন্য: http://3docean.net দেখতে পারেন।

ক্রিয়েটিভ এবং ভাল কমিউনিটির সাথে যুক্ত হওয়া
ধরুন, আপনি যে টিম বা অফিসে জব করেন সেখানে বেশির ভাগই বা সবাই পুরাতন স্টাইলে কাজ করেন। কিন্তু আপনি যে ধরণের কাজ করেন বা করে যাচ্ছেন তার জন্য আপনাকে ভালো গাইডলাইন দিবার মত কেউ নাই। প্রবলেমটি যেহেতু আপনার তাই আপনাকেই এর সমাধান টানতে হবে। চলে আসুন ব্লগ, ফোরাম বা ফেসবুকের মত সোশ্যাল মিডিয়ায়। আপনার চাহিদা মত অনেক টিম বা অনেক ইন্ডিভিজুয়াল আছেন যাদের থেকে আপনি আপনার কাজের কোয়ালিটি ইম্প্রুভের কৌশল বের করে নিতে পারবেন।

নিজের অবস্থানকে শক্তভাবে প্রকাশ করুন
যেকোনো কাজেই নিজের অবস্থানকে শক্ত করতে না পারলে কখনই ভাল ফলাফল আশা করা যায় না। আর সেটি ফ্রিল্যান্সিং জগতের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বাস্তবিক। নিজের অবস্থানকে ক্লায়েন্টের নিকট মজবুত করে তোলা অনেক সময় সাপেক্ষ অনেকের কাছেই তবে কিছু কিছু ব্যাপার ফলো করলে আপনি খুব সহজেই আপনার অবস্থানকে ক্লায়েন্টের নিকট মজবুত করে ফেলতে পারবেন। যেমন:ক্লায়েন্টের কথায় প্রাধান্য দিন।

LEAVE A REPLY

six + 19 =