অ্যান্ড্রয়েড VS অ্যাপল ফোন

0
627

হলি রিগল, যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োর ২৯ বছর বয়সী এক কর্মজীবী। নতুন আইফোন ৬ ক্রেতা হিসেবে অ্যাপল যাদের খুঁজছে, হলি রিগল তেমনই একজন ক্রেতা। কিন্তু অ্যাপলে আগ্রহ নেই রিগলের। তিনি তার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন নিয়েই সন্তুষ্ট। রিগল বলেন, ‘অ্যাপলের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের অধীনে অ্যাপল যেমন ছিল, এখন তার চেয়ে এর জৌলুস অনেক কমেছে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপলে অ্যান্ড্রয়েড VS অ্যাপল ফোন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে ১৬ শতাংশের রায় হলি রিগলের মতোই। তাদের মতে, গত দুই বছরে আগের তুলনায় অ্যাপল তার জৌলুস হারিয়েছে।

তুলনামূলকভাবে ১১ শতাংশ রায় দিয়েছেন, গত দুই বছরে অ্যান্ড্রয়েডও তার জৌলুস হারিয়েছে। ২০১৩ সালেও ১ হাজার ৩৭৯ জনকে নিয়ে একটি জরিপ করেছিল রয়টার্স।

এতে ১৪.৩ শতাংশের মন্তব্য ছিল, ২০১১ থেকে ২০১২ এ দুই বছরে অ্যাপল তাদের জৌলুস হারিয়েছে।

এদিকে বাজার বিশ্লেষকেরাও বলছেন, নতুন দুটি মডেলের আইফোন বিক্রি শুরুর প্রথম সপ্তাহে ৯০ লাখ ইউনিট বিক্রি হবে এমনটা আশা করা হলেও অ্যাপল যে আর আগের অ্যাপল নেই, তা জরিপ দেখেই ধারণা করা যায়।

এ বছরের ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে জরিপ করে রয়টার্স, যাতে দেখা গেছে অধিকাংশ মার্কিনি মনে করছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অ্যান্ড্রয়েডের চেয়ে অ্যাপলের জৌলুস কমে গেছে।

যখন জনপ্রিয় পাঁচটি প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের নাম বলতে বলা হয়, তখন অধিকাংশই অ্যাপল, অ্যান্ড্রয়েড, মাইক্রোসফট, ডেল ও এইচপি এই ক্রমে বলেন।

তবে এর মধ্যে সর্বোচ্চ ‘চমৎকার’ রেটিং পেয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ড। এর মধ্যে রয়েছে স্যামসাং ও গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সফটওয়্যারচালিত অন্যান্য পণ্য।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, খুব সীমিত নমুনা নিয়ে এই ভোট করা হয়েছে। এতে কম দামের অ্যান্ড্রয়েড পণ্য কীভাবে অ্যাপলের চাকচিক্য মলিন করছে, সে বিষয়টিই উঠে এসেছে।

জরিপে ৫০ শতাংশ বলেছেন, গত এক বা দুই বছরে অ্যান্ড্রয়েড ব্র্যান্ডের জৌলুস বেড়েছে আর অ্যাপলের পক্ষে গেছে ভোটের ৪৮ শতাংশ।

ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞ কেভিন লেন কেলার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যখন প্রতিদ্বন্দ্বী নতুন উদ্ভাবনী পণ্য তৈরি করবে এবং দারুণ বিজ্ঞাপন প্রচার করবে, সেই তুলনায় অ্যাপল কিছু না করলে অতীতের জৌলুসের তুলনায় পিছিয়ে পড়াটাই তো স্বাভাবিক।’

শিকাগোর ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞ রব জ্যানোফ বলেন, ‘মোবাইল ফোনের যুদ্ধ এখন অনেকটাই রাজনৈতিক ময়দানের যুদ্ধের মতো দাঁড়িয়ে গেছে। এর একদিকে ডেমোক্র্যাটরা আর অন্যদিকে রিপাবলিকানরা। আপনি চিরকাল একই জাদু দিয়ে মানুষের মন ভোলাতে পারবেন না।’

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রস রিসার্চের গবেষক শ্যানন ক্রস জানিয়েছেন, গত বছর যখন আইফোন ৫এস ও ৫সি বাজারে এল, প্রথম তিন দিনেই বিক্রি ৯০ লাখ ছাড়িয়েছিল।

এ বছর আইফোন বিক্রি হচ্ছে সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এছাড়াও অ্যাপল এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। নতুন আইফোন হাতে পেতে অনেক ক্রেতাকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।

অবশ্য, দুই বছর আগের আইফোন৫-এর তুলনায় এবার দ্বিগুণ পরিমাণ আইফোন ক্রেতা নতুন আইফোনের জন্য আগাম ফরমায়েশ দিয়েছেন। অ্যাপল জানিয়েছে, এবার ৪০ লাখ আইফোনের প্রি-অর্ডার পেয়েছে তারা।

এদিকে বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন আইফোন সবার আগে হাতে পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কমপক্ষে ৫০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ২৫ ডলার ঘণ্টাপ্রতি খরচ ধরে অ্যাপল স্টোরের সামনে দাঁড়ানোর জন্য লোক ঠিক করে রেখেছে। নতুন আইফোন হাতে পাওয়ার জন্য গত দুই বছর আগের তুলনায় এবার এই হার ৪৩ শতাংশ বেশি।

রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া জিম জ্যাকসন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আইফোনের সমস্যা হচ্ছে এটা সহজে ভেঙে যায় আর তা মেরামত করার খরচ বেশি। আর নকশার ক্ষেত্রে স্যামসাংকে অনুসরণ করছে অ্যাপল।’

অ্যাপলের ৪.৭ ইঞ্চি মাপের আইফোন ৬ ও ৫.৫ ইঞ্চি মাপের আইফোন ৬প্লাস শুক্রবার থেকে অ্যাপল স্টোরে বিক্রি শুরু প্রসঙ্গে জিম বলেন, ‘কয়েক বছর আগে স্যামসাং যখন বড় মাপের ফোন তৈরি করত, তখন অ্যাপল তাদের নিয়ে কৌতুক করত। এখন অ্যাপলও বড় মাপের ফোন তৈরি শুরু করেছে।’

আইফোনের ডিসপ্লের আকার বৃদ্ধির এই দিকটিকেই অ্যাপলের একমাত্র উদ্ভাবনী এলাকা বলে মনে করেন হলি রিগল। তিনি বলেন, ‘এবার একমাত্র যে নতুন ধারণা নিয়ে অ্যাপল নতুন ফোন এনেছে, তা সম্ভবত তাদের ফোনের আকার ঠিকঠাক করা ছাড়া আর কিছু নয়।’